

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট বেশ ভাইরাল হয়েছে। এই পোস্টে দাবি করা হচ্ছে যে তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছে ইফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট বা ইডি। এই পোস্টে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি রয়েছে। সঙ্গে লেখা হয়েছে, “প্রতারণার অভিযোগে কল্যানকে গ্রেফতার করেছে ইডি।”
এই পোস্ট শেয়ার করে অনেকেই ক্যাপশনে লিখেছেন, “তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়-কে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। অভিযোগ উঠেছে, আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত একাধিক অনিয়মের বিষয়ে তিনি তদন্তের আওতায় রয়েছেন।ইডি সূত্রে জানা গেছে, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন (PMLA) অনুযায়ী নথি যাচাই ও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তবে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট মহল বা তাঁর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনও বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।”

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে, এই দাবিটি বিভ্রান্তিকর। সোমবার ইডি একটি আর্থিক দুর্নীতি মামলায় কল্যাণ ব্যানার্জি নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে ঠিকই। কিন্তু তিনি তৃণমূলের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নয়।
সত্য উদঘাটন
যদি বাস্তবেই তৃণমূলের সাংসদকে ইডি গ্রেফতার করে থাকতো, তবে এই বিষয়ে নানা সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশ পেত। কিন্তু কিওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে এমন কোনও খবর পাওয়া যায়নি যেখানে শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতারের খবর প্রকাশিত হয়।
তবে এই বিষয়ে কিওয়ার্ড সার্চ করা হলে দ্য হিন্দুতে প্রকাশিত একটি নিউজ রিপোর্ট পাওয়া যায় যা ১২ জানুয়ারি প্রকাশ পেয়েছিল। এই নিউজ রিপোর্ট অনুযায়ী, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) হায়দরাবাদ জোনাল অফিস কল্যাণ ব্যানার্জি নামে এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি আর্থিক তছরুপের একটি মামলায় হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করেছিলেন এবং হাই-প্রোফাইল একটি চিটফান্ড মামলার সম্পত্তির নিলাম আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন। বলাই বাহুল্য, এই কল্যাণ ব্যানার্জি যদি তৃণমূল সাংসদ হতেন, তবে এই বিষয়ে কিছু না কিছু সেই প্রতিবেদনে উল্লেখ পেত। কিন্তু সেখানে এমন কোনও উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
হায়দরাবাদের এই ঘটনার বিষয়ে সবিস্তারে সার্চ করা হলে এবিপি তেলেগু, এবং তেলেগু নিউজ বাইটের কিছু নিউজ রিপোর্ট পাওয়া যায় যা ১২ জানুয়ারি পোস্ট করা হয়েছিল। এই রিপোর্ট অনুযায়ী, হায়দরাবাদের কল্যাণ ব্যানার্জি হীরা গোল্ড কেলেঙ্কারি মামলায় অভিযুক্ত নওহেরা শেখের পক্ষ থেকে ইডি কর্তাদের হুমকি দিয়েছিলেন। এই ঘটনায় গত ১০ জানুয়ারি ইডি তাকে হেফাজতে নিয়ে পিএমএলএ আদালতে তাকে হাজির করে। তদন্ত শেষে আদালত অভিযুক্তকে ২৩ জানুয়ারী পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
খবর অনুযায়ী, তদন্ত চলাকালীন কল্যাণ ব্যানার্জি স্বীকার করেছেন যে তিনি কেবল নওহেরা শেখের নির্দেশে এই হুমকি দিয়েছিলেন এবং কর্মকর্তাদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিলেন। এই বিষয়ে ইডি নিজেদের সরকারি এক্স হ্যান্ডেলে একটি বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করে, যা নিচে দেখা যাবে।
ED, Hyderabad Zonal Office, has arrested Kalyan Banerjee, an imposter who was trying to interfere in the working of the ED, on 10.01.2026 in connection with an ongoing investigation under the PMLA, 2002 in a case against Mrs. Nowhera Shaik & others in a matter related to… pic.twitter.com/NNQZHy0jyR
— ED (@dir_ed) January 12, 2026
প্রসঙ্গত, নওহেরা শেখ হীরা গোল্ড এক্সিম প্রাইভেট লিমিটেড নামক একটি প্রতিষ্ঠান চালু করেন। হায়দারাবাদের এই সংস্থাটি “হালাল ইনভেস্টমেন্ট”-এর নামে বহু মানুষের কাছ থেকে উচ্চ মুনাফার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা তোলে। অভিযোগ, এই টাকা স্বর্ণ বা ব্যবসায় বিনিয়োগ না করে বেআইনিভাবে ব্যবহার করা হয়। পরে এটি একটি চিটফান্ড হিসেবে উঠে আসে। পরবর্তী সময়ে ইডি ও পুলিশের তদন্তে বহু কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগে নওহেরা শেখ গ্রেফতার হন।

আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে তৃণমূলের শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছে ইডি।
তৃণমূল সাংসদ কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করা হয়নি। হীরা গোল্ড চিটফান্ড মামলায় হায়দেরাবাদের এক পৃথক কল্যাণ ব্যানার্জি নামক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।