

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এক চা বাগান শ্রমিকের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ ভাইরাল হয়েছে। আবেগঘন এই ভিডিওতে এক চা শ্রমিককে তাঁর আর্থিক দুরাবস্থার কথা বলতে শোনা যাচ্ছে। তিনি বলছেন যে তাঁর স্ত্রী ৮ ঘণ্টা চা পাতা সংগ্রহের কাজ করেন। এবং ২৩ কেজি চা পাতা তোলার পর ১৭৮ টাকা রোজগার করেন। যদি ২৩ কেজির কম পাতা তোলা হয় তবে কেজি প্রতি ৭ টাকা করে কেটে নেওয়া হয়। ভিডিও-র পরবর্তী অংশে তিনি বলছেন যে এত কম টাকায় জীবন অতিবাহিত করতে তাদের কষ্ট হয়।
এই ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় বর্তমানে বেশ ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি পোস্ট করে কেউ কেউ একে ভারতের তথা পশ্চিমবঙ্গের ঘটনা বলেও দাবি করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, পশ্চিমবঙ্গ মুসলিম সংগঠন নামের একটি পেজ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করে লেখা হয়েছে, “আমার স্ত্রী ৮ ঘণ্টা কাজ করে ২৩ কেজি পাতা তুললে ১৭৮ টাকা মজুরি পান। আর যদি ২৩ কেজির কম পাতা তোলা হয়, তাহলে প্রতি কেজি অনুযায়ী ৭ টাকা করে মজুরি কেটে নেওয়া হয়। এটা আমাদের রাজ্যের ঘটনা, শুনেও অবাক হচ্ছি।”

কোনও কোনও পেজ থেকে আবার এই ভিডিওটি পোস্ট করে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে।
আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে ভাইরাল ভিডিওটি ভারতের কোনও ঘটনার নয়। বরং বাংলাদেশের শ্রীমঙ্গল এলাকার।
সত্য উদঘাটন
ভাইরাল ভিডিওটি থেকে স্ক্রিনশট নিয়ে তার রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হলে ওই একই ভিডিও Short Stories নামের একটি বাংলাদেশি ফেসবুক পেজে পাওয়া যায়। সেখানে লেখা হয়, এই ভিডিওটি বাংলাদেশের শ্রীমঙ্গল এলাকার। ভিডিওটি পোস্ট করে এর কৃতিত্ব দেওয়া হয় Cyber Shield Bangladesh নামের একটি অন্য পেজকে।
Cyber Shield Bangladesh-এর পেজে গিয়ে সার্চ করা হলে এই একই ভিডিওটি খুঁজে পাওয়া যায় যা গত ৮ জানুয়ারি পোস্ট করা হয়। ভিডিওটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, “আট ঘন্টা কাজ করে ১৭৮ টাকা পায়, তা দিয়েই সংসার চালায়।” এই পোস্টের ক্যাপশনে অতিরিক্ত কোনও তথ্য না পাওয়া গেলেও প্রথম কমেন্টে লেখা ছিল যে, আসল ভিডিওটি Smile with Shehab নামের ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া।
Smile with Shehab ফেসবুক পেজে যাওয়া হলে আসল ভিডিওটি পাওয়া যায়। ভিডিওটি তিনি ৬ জানুয়ারি পোস্ট করেছিলেন। আসল ভিডিওটি ছিল ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ডের। এই ভিডিও-র ২৩ সেকেন্ডের মাথায় ক্যামেরার পিছনে থাকা ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায় যে ভিডিওটি তিনি শ্রীমঙ্গলে এসে রেকর্ড করছেন।
প্রসঙ্গত, শ্রীমঙ্গল হলো বাংলাদেশের সিলেটের মৌলভিবাজার জেলার একটি উপজেলা। এই এলাকাকে বাংলাদেশের চায়ের রাজধানীও বলা হয়ে থাকে কারণ এখানে বাংলাদেশের সবথেকে বেশি চা উৎপাদন হয়। Smile with Shehab নামের এই ফেসবুক পেজও চট্টগ্রামের কুমিল্লা থেকে পরিচালিত বলে বাও-তে লেখা হয়। সবমিলিয়ে বুঝতে বাকি থাকে না যে ভিডিওটি ভারতের নয় বরং বাংলাদেশের।
বাংলাদেশে চা শ্রমিকের মজুরির বিষয়ে কিওয়ার্ড সার্চ করা হলে বাংলাদেশি সংবাদ মাধ্যম ডিবিসি নিউজের একটি খবর পাওয়া যায় যা ২০২৫ সালের ৮ অগস্ট প্রকাশ পেয়েছিল। সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশের চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ১৭৮.৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮৭ টাকা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৪ সালে রাজ্যসভায় শ্রম মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের দৈনিক চা শ্রমিকদের বেতন ২৫০ টাকা।
ফলে সব মিলিয়ে বুঝতে বাকি থাকে না যে বাংলাদেশের চা শ্রমিকের একটি ভিডিওকে বর্তমানে ভারতের ঘটনা বলে শেয়ার করা হচ্ছে, যা বিভ্রান্তিকর।

ভিডিওতে ভারতের তথা পশ্চিমবঙ্গের চা শ্রমিকদের দুর্দশা দেখা যাচ্ছে যারা সারাদিন কাজ করে ১৭৮ টাকা রোজগার করছেন।
এই ভিডিওটি ভারতের নয়, বরং বাংলাদেশের সিলেটে শ্রীমঙ্গল উপজেলার।