ফ্যাক্ট চেক: নিজের দলের কর্মীদের দ্বারাই আক্রান্ত বিজেপি প্রার্থী রূপা গাঙ্গুলি? না, দাবিটি সঠিক নয়

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে ভাইরাল ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়কার নয়, বরং প্রায় ১০ বছর আগেকার এবং আক্রমণের অভিযোগ তৃণমূলের দিকেই ছিল।

Advertisement
ফ্যাক্ট চেক: নিজের দলের কর্মীদের দ্বারাই আক্রান্ত বিজেপি প্রার্থী রূপা গাঙ্গুলি? না, দাবিটি সঠিক নয়

২৩ ও ২৯ এপ্রিল। এই দু’দিন দু’দফায় হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন। নির্বাচনের প্রাক্কালে ইতিমধ্যেই বিধানসভা কেন্দ্রগুলোতে প্রচার শুরু হয়েছে জোরকদমে। এই আবহে সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপি প্রার্থী রূপা গাঙ্গুলির একটি ভিডিও বেশ ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটি শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে যে সোনারপুর দক্ষিণের এই বিজেপি প্রার্থীকে তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্রেই হেনস্থা করেছে তাঁর দল বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা।

ভিডিওতে রূপা গাঙ্গুলিকে বলতে শোনা যাচ্ছে যে তাঁদের মারধর ও শ্লীলতাহানী করা হয়েছে। ভিডিওটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, “রিল লাইফের দ্রৌপদী থেকে রিয়েল লাইফের দ্রৌপদী। রূপা গাঙ্গুলী, বিজেপির সোনারপুর দক্ষিণের প্রার্থী অভিযোগ করেছেন যে, দলেরই ‘দুঃশাসন’ (বিজেপি কর্মীরা) তার শাড়ি টেনেছেন এবং তার শরীরের অনুপযুক্ত স্থানে স্পর্শ করেছেন। এই বিজেপি থেকে সাবধান।”

বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি ক্যাপশনেও একই ভিডিও নানা এক্স হ্যান্ডেলফেসবুক পেজে শেয়ার করা হয়েছে।

আজতক ফ্যাক্ট চেক অনুসন্ধান করে দেখেছে যে ভাইরাল ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়কার নয়, বরং প্রায় ১০ বছর আগেকার এবং আক্রমণের অভিযোগ তৃণমূলের দিকেই ছিল।

সত্য় উদঘাটন

ভাইরাল ভিডিওটি থেকে স্ক্রিনশট নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে খোঁজা হলে ওই একই পোশাকে একই জায়গায় রূপা গাঙ্গুলিকে বসে থাকতে দেখা যায় অপর একটি ভিডিওতে। কলকাতা টুডে নামের ইউটিউব চ্যানেলে এই ভিডিওটি ২০১৬ সালের ২৩ মে ভিডিওটি আপলোড করা হয়েছিল। ভিডিওটি আপলোড করে ক্যাপশনে লেখা হয়, রূপা গাঙ্গুলি কাকদ্বীপে আক্রান্ত হয়েছিলেন।

ভাইরাল ভিডিওতে রূপা গাঙ্গুলির ডান দিকে গোলাপী রঙের পোশাকে এক মহিলাকে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। কলকাতা টুডের ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড হওয়া ভিডিওতেও রূপা গাঙ্গুলির ডানদিকে পিছনের অংশে ওই একই পোশাকে থাকা মহিলাকে দেখতে পাওয়া যায়। যা থেকে মোটামুটি পরিষ্কার হয়ে যায় যে উভয় ভিডিও-ই একই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত।

Advertisement

অ্যাডভান্স সার্চের মাধ্যমে এই সম্পর্কে কিওয়ার্ড সার্চ করা হলে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির আধিকারিক ফেসবুক পেজে কয়েকটি ছবি-সহ একটি পোস্ট পাওয়া যায়। এই ছবিগুলিতে রূপা গাঙ্গুলিকে কোনও চিকিৎসা কেন্দ্রের বিছানায় বসে থাকতে দেখা যায় এবং ভিডিওতে থাকা মহিলাদের তাঁর পাশে বসে থাকতে দেখা যায়। ২০১৬ সালের ২২ মে-র এই পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়, “তৃণমূলের হাতে আক্রান্ত বিজেপি সমর্থক বাসনা মাঝিকে দেখতে গিয়ে  ডায়মন্ড হারবারে আক্রান্ত বিজেপি নেত্রী রূপা গাঙ্গুলি সহ ১৫ জন মহিলা কর্মী।”

এই বিষয়ে কিওয়ার্ড সার্চ করা হলে হিন্দুস্তান টাইমস, ইন্ডিয়া টুডের মতো একাধিক সংবাদ মাধ্যমের খবর মেলে যা ২০১৬ সালের মে মাসের। সেখানে লেখা হয়, বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী সময়ে কাকদ্বীপে এই মহিলা বিজেপি কর্মীকে বিবস্ত্র করে মারধর করার ঘটনা ঘটেছিল। ওই কর্মীর সঙ্গে বিজেপির মহিলা মোর্চার নেত্রীরা দেখা করতে গেলে তাদের উপর তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা চড়াও হয় বলে অভিযোগ।

অন্যদিকে, ২০২৬ সালে ভোটপ্রচার শুরু হওয়ার পর এখনও পর্যন্ত রূপা গাঙ্গুলির বিরুদ্ধে হামলার কোনও খবর পাওয়া যায়নি।

ফলে বুঝতে বাকি থাকছে না যে, ২০১৬ সালের একটি ঘটনাকে বর্তমান নির্বাচনের সঙ্গে জুড়ে বিভ্রান্তিকর এবং অসত্য প্রচার করা হচ্ছে।

ফ্যাক্ট চেক

Social Media Users

দাবি

সোনারপুর দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী রূপা গাঙ্গুলিকে তাঁর নিজের দলের কর্মী-সমর্থকেরাই হেনস্থা ও শ্লীলতাহানি করেছেন।

ফলাফল

ভাইরাল ভিডিওটি সাম্প্রতিক নয়, এটি ২০১৬ সালের কাকদ্বীপের ঘটনা। সে সময় রূপা গাঙ্গুলি তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে আক্রমণের অভিযোগ তুলেছিলেন, বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে নয়।

ঝুট বোলে কাউয়া কাটে

যত বেশি কাক তত বেশি মিথ্যে

  • কাক: অর্ধসত্য
  • একাধিক কাক: বেশির ভাগ মিথ্যে
  • অনেক কাক: সম্পূর্ণ মিথ্যে
Social Media Users
আপনার কী মনে হচ্ছে কোনও ম্যাসেজ ভুয়ো ?
সত্যিটা জানতে আমাদেরসংখ্যা73 7000 7000উপর পাঠান.
আপনি আমাদেরfactcheck@intoday.com এ ই-মেইল করুন
POST A COMMENT
Advertisement