
মঙ্গলবার দুপুরে আচমকাই কালো মেঘে ঢেকে যায় কলকাতার আকাশ। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ প্রবল বর্ষণে শহরের একাধিক এলাকায় লন্ডভণ্ড পরিস্থিতি তৈরি হয়।

দুর্যোগের সবচেয়ে বড় প্রভাব দেখা যায় মেয়ো রোডে। প্রবল হাওয়া ও বৃষ্টির চাপে রাস্তার ধারে থাকা একাধিক বড় গাছ ভেঙে পড়ে।

গাছ ভেঙে পড়ার জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পার্কিংয়ে রাখা বেশ কয়েকটি গাড়ি। কোথাও গাড়ির ছাদ দুমড়ে-মুচড়ে যায়, কোথাও ভেঙে যায় কাচ।

বৃষ্টির দাপটে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় জল জমে যায়। ফলে বিকেলের ব্যস্ত সময়ে যান চলাচলে ব্যাপক সমস্যা তৈরি হয়।

বৃষ্টির সময় বহু মানুষ অফিস থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। জলজট ও যানজটের কারণে তাঁদের অনেককেই দীর্ঘ সময় রাস্তায় আটকে থাকতে হয়।

যোগ দিবস উপলক্ষে তৈরি করা স্বামী বিবেকানন্দের একটি অস্থায়ী মূর্তি প্রবল বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঝড়-বৃষ্টির ধাক্কা সামলাতে না পেরে সেটি ভেঙে পড়ে।

শুধু কলকাতা নয়, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনাতেও বৃষ্টির জোর ছিল চোখে পড়ার মতো। বহু এলাকায় গাছ পড়া ও জল জমার খবর পাওয়া যায়।

আবহাওয়াবিদদের মতে, বঙ্গোপসাগর থেকে বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প ঢোকার ফলে তৈরি হয় বজ্রগর্ভ মেঘ। সেই কারণেই বিকেলের পর দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় শুরু হয় দফায় দফায় বৃষ্টি।

আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে।

আগামী ২৪ ঘণ্টায় পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়া দফতর পরিস্থিতির উপর নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছে।