
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে। ৯ মে অর্থাত্ রবীন্দ্রনাথের জন্মজয়ন্তী ২৫শে বৈশাখে নতুন সরকার শপথ নেবে বাংলায়। বাংলায় পরিবর্তন শুধু ক্ষমতায় হল না, পরিবর্তন ঘটছে কালীঘাটেও। হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে যে নিশ্ছিদ্র পুলিশি দুর্গ ছিল, তা হঠে গেল।

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘শান্তিনিকেতন’ বাসভবন থেকে নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। বাড়ির বাইরে থেকে সেই সংক্রান্ত দৃশ্যও সামনে এসেছে।

এতদিন হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির চত্বরে ব্যাপক পুলিশি নিরাপত্তা থাকত। ওই রাস্তাটি কার্যত বন্ধই রাখা হত। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পথ চওড়া হতেই মমতার বাড়ির সামনে নিরাপত্তা কমানো হল। সাধারণের জন্য অবাধ করা হল হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট।

মমতার বাড়ির সামনের নিরাপত্তা কমানো হলেও নবান্নে নিরাপত্তা আরও শক্তি করা হয়েছে। সিজার ব্যারিকেড আগেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

গেটের সামনে যেসব পুলিশকর্মী রাস্তায় গলির মুখে ছিলেন, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার সময় সেই সব পুলিশকর্মীও এখান থেকে চলে গিয়েছেন। পুলিশের বুথ সম্পূর্ণ খালি হয়ে গিয়েছে।

মঙ্গলবারই লালবাজার থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, বুধবার সকাল সাড়ে ৬টা থেকে আর অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন থাকবে না। সেই নির্দেশ বুধবার সকাল থেকেই কার্যকর হয়েছে।

এই তিন জায়গায় নিরাপত্তায় ছিলেন যে সব পুলিশকর্মী, বুধবার সকালে তাঁরা ওই জায়গা ছেড়ে চলে যান। ওই তিন ঠিকানায় নিরাপত্তায় থাকা পুলিশদের জন্য যে কিয়স্ক ছিল, বুধবার সকালে তা ফাঁকা হয়ে গিয়েছে।

শেক্সপিয়র থানার অন্তর্গত ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলীয় কার্যালয়। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের দফতর এখানে তৈরি হওয়ার পর থেকে নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছিল। সেখান থেকেও সরিয়ে নেওয়া হল নিরাপত্তা।

একজন সাংসদ যতটা নিরাপত্তা পান, ততটাই নিরাপত্তা দেওয়া হবে অভিষেককে। অভিযোগ, প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিরাপত্তা অভিষেকের জন্য দিয়েছিল রাজ্য সরকার। কার্যত একজন মুখ্যমন্ত্রী যেরকম নিরাপত্তা পান, তেমনই নিরাপত্তা ছিল অভিষেকের। সেই সব বাড়াবাড়ি এবার শেষ। অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও দাবি করে যাচ্ছেন, তৃণমূল কংগ্রেস হারেনি। তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদে ইস্তফা দেবেন না। যদিও মমতার এই সব দাবিতে সংযত মন্তব্যই করলেন শুভেন্দু অধিকারী।