
চৈত্রে কালবৈশাখী নেই। বৈশাখের মাঝামাঝিতে দেখা মেলেনি ঝড়বৃষ্টির। আগেভাগে গরমের ছুটি ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। কিন্তু আবহাওয়া দফতরের রিপোর্ট বলছে, যতটা হা-হুতাশ করা হচ্ছিল ততটাও গরম পড়েনি।

কলকাতার তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল ক'দিন আগেই। রসিকতা করে কলকাতার রাস্তাঘাটে উট নামিয়েছিলেন নেটিজেনরা। বোঝাতে চেয়েছিলেন, সাহারার মরুভূমির মতো গরম পড়েছে বাংলায়।

আলিপুরের হাওয়া অফিস বলছে, এপ্রিলে আলিপুরের গড় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকে ৩৫.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এবার ৩৫.২৫ ডিগ্রি ছিল গড় তাপমাত্রা। ফলে ফেসবুকে এত হইচই হলেও আদতে গড় ছুঁতে পারেনি এপ্রিল মাসের গরম।

পয়লা বৈশাখ থেকে মূলত বেড়েছে তাপমাত্রা। গরম নিয়ে হাহুতাশ হলেও তা ৪০ ডিগ্রি ছাড়ায়নি। ২৪ ও ২৫ এপ্রিল খালি ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে উঠেছিল তাপমাত্রা।

এপ্রিল মাসে ৩০ দিন। এর মধ্যে ১৭ দিন স্বাভাবিকের চেয়ে কম ছিল তাপমাত্রা। আর ১০ দিন স্বাভাবিকের উপরে। ফলে মাসের বেশিরভাগ দিনই তাপমাত্রা ছিল স্বাভাবিকের নিচে।

২০০৯ এবং ২০১৬ সালে এর চেয়েও বেশি তাপমাত্রা ছিল। দু'বারই ৮ দিন করে ৪০ ডিগ্রি পেরিয়েছিল এপ্রিলের দৈনিক তাপমাত্রা। এছাড়া ২০১০, ২০১৪ সালেও ৪০ ডিগ্রির বেশি গরম দেখেছে কলকাতা।

সেখানে কলকাতায় ৪০ ডিগ্রিও পেরায়নি গরম। সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯.৬ ডিগ্রি।

আসলে তাপপ্রবাহের সঙ্গে বাতাসের প্রচুর জলীয়বাষ্প ছিল। আর তাতেই হাঁসফাঁস দশা হয়েছে মানুষেরহ।

মে মাসে আপাতত গরম বাড়ার কোনও সঙ্কেতই নেই। ৬ তারিখ পর্যন্ত ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস।

গোটা দেশের নিরিখে দেখলে এটাই ছিল ১২২ বছরে উষ্ণতম এপ্রিল। এপ্রিল মাসে দৈনিক গড় তাপমাত্রা পৌঁছয় ৩৫.৯ থেকে ৩৭.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা ১২২ বছরের মধ্যে চতুর্থ বার।