Durga Puja Immersion: বিসর্জনে বিপর্যয় এড়াতে বাড়তি তত্‍পরতা, শুধু কলকাতাতেই ১২ IPS, ৩০০ মোটবাহক

শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভ বিজয়া দশমী মানেই চোখ ভরা জল আর বিষাদের করুণ সুর। ঢাকের কাঠিতে 'ঠাকুর থাকবে কতক্ষণ, ঠাকুর যাবে বিসর্জন' সুর বাজার সঙ্গে সঙ্গেই বাঙালি হৃদয়ে নেমে আসে এক শূন্যতার অনুভূতি। দুর্গাপুজোর ভিড় সামলানোর পর এবার বিসর্জন পর্ব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করাই রাজ্য প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

Advertisement
বিসর্জনে বিপর্যয় এড়াতে বাড়তি তত্‍পরতা, শুধু কলকাতাতেই ১২  IPS, ৩০০ মোটবাহক শনিবার পর্যন্ত কলকাতার ঘাটগুলিতে বাড়তি নজরদারি

শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভ বিজয়া দশমী মানেই চোখ ভরা জল আর বিষাদের করুণ সুর। ঢাকের কাঠিতে 'ঠাকুর থাকবে কতক্ষণ, ঠাকুর যাবে বিসর্জন' সুর বাজার সঙ্গে সঙ্গেই বাঙালি হৃদয়ে নেমে আসে এক শূন্যতার অনুভূতি। দুর্গাপুজোর ভিড় সামলানোর পর এবার বিসর্জন পর্ব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করাই রাজ্য প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। সেই লক্ষ্যেই কলকাতা-সহ চারটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে নজরদারি আরও জোরদার করা হচ্ছে। আজ ২১ অক্টোবর, দশমী থেকে ২৪ অক্টোবর, শনিবার পর্যন্ত বিসর্জন চলবে।  বিসর্জন প্রক্রিয়া তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ১৮ জন আইপিএস অফিসারকে। তার মধ্যে শুধু কলকাতাতেই দায়িত্বে থাকবেন ১২ জন। 

কলকাতাতেই মোতায়েন ১২ জন আইপিএস
দশমীর নিয়ে বাড়তি সতর্ক প্রশাসন। কলকাতা সহ রাজ্যের চারটি বড় শহরে প্রতিমা নিরঞ্জনের নজরদারির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ১৮ আইপিএস অফিসারকে। তার মধ্যে শুধু কলকাতাতেই মোতায়েন থাকছে ন ১২ জন। মঙ্গলবার রাজ্য পুলিশের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়েছে, ২১ অক্টোবর অর্থাৎ দশমী থেকে শনিবার অর্থাৎ ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন প্রান্তে যে বিসর্জন চলবে, তার তদারকি করবেন আইপিএস আধিকারিকরা। প্রত্যেকের নাম ধরে ধরে ডিউটি শিডিউল ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। কলকাতা পুলিশ এলাকায় ২১ এবং ২৩ অক্টোবর বিসর্জন তদারকি করবেন আইপিএস গৌরব শর্মা, সোমা দাস মিত্র, রশিদ মুনির খান, আকাশ মাঘারিয়া, সুরেশকুমার চাডিভে এবং ধৃতিমান সরকার। ২২ এবং ২৪ অক্টোবর কলকাতা পুলিশ এলাকায় তদারকির দায়িত্বে থাকবেন আইপিএস প্রবীণকুমার ত্রিপাঠী, ইমরান ওয়াহাব, শীষ রাম ঝাঝরিয়া, সৌম্য রায়, পারিজাত বিশ্বাস এবং সিদ্ধার্থ ধাপোলা। 

এই ৩ শহরেও নজরদারি
কলকাতা ছাড়াও হাওড়া, বারাকপুর, চন্দননগরে বিসর্জনের ক্ষেত্রে বাড়তি নজর রয়েছে প্রশাসনের। এই তিন শহরে দু'জন করে মোট ছ'জন আইপিএস-কে পাঠানো হচ্ছে। ২১ ও ২৩ তারিখ হাওড়া পুলিশ জেলায় বিসর্জনে নজরদারি চালাবেন আইপিএস ইন্দ্র চক্রবর্তী। ২২ ও ২৪ তারিখ দায়িত্বে থাকবেন আভারু রবীন্দ্রনাথ। বারাকপুর পুলিশ জেলায় পলাশচন্দ্র ঢালি এবং দ্যুতিমান ভট্টাচার্যকে ডিউটি দেওয়া হয়েছে। চন্দননগরে দায়িত্ব পেয়েছেন আইপিএস অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আইপিএস সন্দীপ মণ্ডল।

Advertisement

ঘাটে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে ৩০০ জন মোটবাহককেও
পুলিশ জানিয়েছে, অতীতে ক্রেনে করে প্রতিমা ট্রলার বা ট্রাক থেকে নামিয়ে জলে বিসর্জন দেওয়া হত। কিন্তু রাজ্য সরকার এ বার সেই প্রথা বাতিল করে দিয়েছে। তার বদলে এ বার ঠিক হয়েছে, বাজেকদমতলা ঘাট এবং নিমতলা ঘাটে প্রতিমা ট্রেলার থেকে নামিয়ে ট্রলিতে করে নিয়ে গিয়ে বিসর্জন দেওয়া হবে। কলকাতা পুরসভার উদ্যোগে দুর্গাপুজোর প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে বিসর্জনের বিভিন্ন ঘাটে ৩০০ জনেরও বেশি পেশাদার মোটবাহক (পোর্টার) মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমা বিসর্জনের সময় ব্যবহার করা যাবে না ক্রেন
এই বার প্রতিমা বিসর্জনের সময় ব্যবহার করা যাবে না ক্রেন। এই নির্দেশ দিয়েছেন পুর কর্তৃপক্ষ। প্রসঙ্গত, দশমী থেকে লক্ষ্মীপুজোর আগের দিন পর্যন্ত কলকাতায় হুগলি নদীর ১৮টি ঘাটে বিসর্জন হয়। নিমতলা, বাজে কদমতলা, প্রিন্সেপ এবং বাবুঘাট তাদের মধ্যে সবচেয়ে ব্যস্ত ঘাট। এই চারটি ঘাটেই কলকাতার অধিকাংশ বারোয়ারি পুজোর বড় প্রতিমার বিসর্জন হয়। পুরসভা সূ্ত্রে খবর, এ বার ট্রলিতে প্রতিমা সাত পাক ঘুরিয়ে বিসর্জন দিতে হবে। তবে বিসর্জনের পরে কাঠামো তুলতে ক্রেন ব্যবহার করা যাবে।  পুরসভ সূত্রে খবর, এক একটি ঘাটে গড়ে ২০০টি করে প্রতিমা বিসর্জন হয়। বিসর্জন প্রক্রিয়া মিটলে লক্ষ্মীপুজোর পরে ঘাট থেকে কাঠামো তোলার কাজ শুরু হয়। 

POST A COMMENT
Advertisement