আনন্দপুর ফায়ারআনন্দপুর নজিরাবাদের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আরও দুইজনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতরা দুইজনই ওয়াও মোমোর কর্মী।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের মধ্যে একজনের নাম রাজা চক্রবর্তী। তিনি ডেপুটি ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেন ওয়াও মোমোত। এছাড়া গ্রেফতার করা হয়েছে মনোরঞ্জন শটকে। তিনি ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর ফলে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মোট গ্রেফতারির সংখ্যা দাঁড়াল ৩। এর আগে গোডাউনের মালিক গঙ্গাধর দাসকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারপর আরও দুইজনকে অ্যারেস্ট করা হল। এখন চলছে জিজ্ঞাসাবাদ।
যতদূর খবর, এই দুই ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে চাইতে পারে পুলিশ। তাঁদের কাছে জানতে চাওয়া হতে পারে যে অগ্নিকাণ্ডের দিন তাঁরা কোথায় ছিলেন এবং এর পিছনে তাঁদের কোনও ভূমিকা ছিল কি না ইত্যাদি।
চলছে ডিএনএ ম্যাপিং
সম্প্রতি আনন্দপুর নজিরাবাদের ভয়াবহ আগুন লাগে। অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। তবে ইতিমধ্যেই উদ্ধার হয়েছে ২১টি দেহাংশ। সেগুলি শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তাই সেই সব দেহাংশ শনাক্ত করতে ডিএনএ ম্যাপিং শুরু করা হয়েছে। তারপরই জানা যাবে কত জন মৃতের সংখ্যা এবং পরিচয়।
কীভাবে লাগল আগুন?
সেই সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে এখনও কিছু জানায়নি পুলিশ বা দমকল। তবে মনে করা হচ্ছে পরপর দু'টি গুদাম ছিল ওখানে। প্রথমে একটি গুদামে লাগে আগুন। তারপর সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে ওয়াও মোমোর গুদামে। এই ভয়াবহ আগুনে প্রাণ হারান কর্মীরা।
যদিও মাথায় রাখতে হবে যে, ২১টি দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে গুদামগুলি থেকে। তবে ২৮ জনের নামে রয়েছে নিখোঁজ ডায়েরি। আর নিখোঁজের সংখ্যার সঙ্গে দেহাংশের অঙ্ক না মেলাতেই সমস্যা বেড়েছে পুলিশ ও দমকলের। তাঁদের পক্ষ থেকে তদন্ত চালানো হচ্ছে।
ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে ওয়াও মোমো
এই অগ্নিকাণ্ডের পরই কর্মীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেবে বলে ঘোষণা করেছে ওয়াও মোমো। তাদের পক্ষ থেকে সংস্থার দুই কর্মী এবং একজন চুক্তিবদ্ধ নিরাপত্তা কর্মীর পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ এবং সারাজীবন মাসিক বেতন দেওয়া হবে বলে জানান হয়েছে।
নিন্দায় সরব বিরোধীরা
আনন্দপুরের ঘটনার জন্য তৃণমূল কংগ্রেস এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে দায়ী করছে বিরোধীরা। বিশেষত, তৃণমূলের দিকে আক্রমণ শানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি শুক্রবার ঢালাই ব্রিজে জমায়েতের ডাক দিয়েছেন। ১২টা নাগাদই সেখানে পৌঁছে যেতে পারেন শুভেন্দু। তারপর নির্দিষ্ট সময় সেখানে জমায়েত শুরুর কথা।