২০২৮-এর ডেডলাইন লক! নিউ গড়িয়া থেকে এয়ারপোর্ট মেট্রোয় গতি, ১৫ দিনেই নড়েচড়ে বসল ৫ প্রকল্প

রেল সূত্রে দাবি, বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর মেট্রো প্রকল্পগুলিতে নতুন গতি এসেছে। বিশেষ করে অরেঞ্জ লাইনের কাজ গত কয়েক সপ্তাহে উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে। ইঞ্জিনিয়াররা টানা দুই সপ্তাহান্তে ট্রাফিক ব্লকের সুযোগ কাজে লাগিয়ে চিংড়িঘাটার মতো জটিল অংশের সংযোগ সম্পূর্ণ করেছেন।

Advertisement
২০২৮-এর ডেডলাইন লক! নিউ গড়িয়া থেকে এয়ারপোর্ট মেট্রোয় গতি, ১৫ দিনেই নড়েচড়ে বসল ৫ প্রকল্প
হাইলাইটস
  • কলকাতার মেট্রো পরিষেবায় দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে।
  • নিউ গড়িয়া থেকে কলকাতা বিমানবন্দর পর্যন্ত বহু প্রতীক্ষিত ‘অরেঞ্জ লাইন’ মেট্রো প্রকল্পকে ঘিরে এবার বড় আপডেট দিল রেল কর্তৃপক্ষ।

কলকাতার মেট্রো পরিষেবায় দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। নিউ গড়িয়া থেকে কলকাতা বিমানবন্দর পর্যন্ত বহু প্রতীক্ষিত ‘অরেঞ্জ লাইন’ মেট্রো প্রকল্পকে ঘিরে এবার বড় আপডেট দিল রেল কর্তৃপক্ষ। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৮ সালের শুরু থেকেই নিউ গড়িয়া থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত মেট্রো পরিষেবা চালু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রায় ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই করিডোর সম্পূর্ণ হলে শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছতে সময় লাগবে মাত্র এক ঘণ্টার কিছু বেশি।

মেট্রো রেল এবং রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (RVNL) সূত্রে খবর, বর্তমানে নিউ গড়িয়া থেকে বেলেঘাটা পর্যন্ত পরিষেবা চালু থাকলেও বাকি অংশের কাজ দ্রুত শেষ করার লক্ষ্যেই জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে। সবচেয়ে বড় অগ্রগতি হয়েছে চিংড়িঘাটায়। ইএম বাইপাসের উপর ৩৬৬ মিটারের গুরুত্বপূর্ণ ফাঁকা অংশের কাজ প্রায় ১৫ মাস ধরে আটকে ছিল। অবশেষে সরকার পরিবর্তনের পর ফের সেই কাজ শুরু হয়েছে এবং সোমবার ভোররাতে ৬২ মিটারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

রেল আধিকারিকদের দাবি, চিংড়িঘাটার জট কাটায় অরেঞ্জ লাইনের অন্যতম বড় বাধা দূর হয়েছে। এখন বাকি থাকা অংশগুলোর কাজও দ্রুত এগোবে। সেক্টর ফাইভের নবদিগন্ত স্টেশনের আগে এবং নজরুল তীর্থের কাছে এখনও কয়েকটি ‘গ্যাপ’ রয়েছে। কোথাও ‘পিয়ার ক্যাপ’ বসানো বাকি, কোথাও আবার ট্রাফিক ব্লকের অনুমতির অপেক্ষা চলছে। তবে পুলিশের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচক বলেই জানানো হয়েছে।

ভিআইপি রোডের কইখালিতেও প্রায় ১২০ মিটার দীর্ঘ একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের কাজ বাকি রয়েছে। সেখানে ‘লঞ্চার’ বসিয়ে ছটি স্প্যান বসান হবে। এই কাজ শেষ হতে তিন থেকে চার মাস সময় লাগতে পারে। ইতিমধ্যেই বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট রাতের ট্রাফিক ব্লকের অনুমোদন দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

রেল সূত্রে দাবি, বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর মেট্রো প্রকল্পগুলিতে নতুন গতি এসেছে। বিশেষ করে অরেঞ্জ লাইনের কাজ গত কয়েক সপ্তাহে উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে। ইঞ্জিনিয়াররা টানা দুই সপ্তাহান্তে ট্রাফিক ব্লকের সুযোগ কাজে লাগিয়ে চিংড়িঘাটার মতো জটিল অংশের সংযোগ সম্পূর্ণ করেছেন।

Advertisement

মেট্রো কর্তৃপক্ষের আশা, ২০২৬ সালের শেষের দিকেই নিউ গড়িয়া থেকে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত পরিষেবা চালু করা সম্ভব হবে। এর ফলে ইএম বাইপাস লাগোয়া এলাকার যাত্রীরা সরাসরি মেট্রোয় হাওড়া ও শিয়ালদা পৌঁছতে পারবেন। কারণ, সেক্টর ফাইভে অরেঞ্জ লাইন এবং ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো বা ‘গ্রিন লাইন’-এর সংযোগ রয়েছে।

এদিকে, নিউ গড়িয়া বা কবি সুভাষ স্টেশনেও শুরু হচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত পুনর্নির্মাণের কাজ। গত বছর প্ল্যাটফর্মের স্তম্ভে ফাটল ধরা পড়ার পর থেকেই স্টেশনটি বন্ধ রয়েছে। এখন ক্ষতিগ্রস্ত অংশ ভেঙে নতুন করে তৈরি করা হবে। আপাতত শহিদ ক্ষুদিরাম স্টেশন থেকেই দক্ষিণ প্রান্তিক পরিষেবা চালানো হচ্ছে, ফলে যাত্রীদের ভোগান্তিও বাড়ছে।

আটকে থাকা আরও পাঁচটি মেট্রো প্রকল্প নিয়েও মুখ খুলেছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। কোথাও জমি জট, কোথাও ট্রাফিক ব্লকের অনুমতি না পাওয়া, আবার কোথাও রাজ্যের সহযোগিতার অভাব, এই কারণেই বহু প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে থমকে ছিল বলে অভিযোগ রেলের।

সল্টলেক সেক্টর ফাইভ থেকে তেঘরিয়া পর্যন্ত সম্প্রসারণ, নিউ গড়িয়া-দমদম করিডোর, জোকা-বিবাদীবাগ প্রকল্প, নোয়াপাড়া-বারাসত লাইন এবং বরানগর-বারাকপুর মেট্রো, সব ক্ষেত্রেই ধীরগতির জন্য রাজ্য সরকারের অসহযোগিতাকে দায়ী করেছিল মেট্রো কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে বরানগর-বারাকপুর প্রকল্পে কলকাতা পুরসভার জল পাইপলাইন সরানো না হওয়ায় কাজই শুরু করা যায়নি। তবে মনে করা হচ্ছে, সাম্প্রতিক প্রশাসনিক তৎপরতার পর একে একে গতি পাবে কলকাতার আটকে থাকা মেট্রো প্রকল্পগুলি।

 

POST A COMMENT
Advertisement