পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়াআজ ২১ জুলাই, মঙ্গলবার। বাংলার রাজনৈতিক ক্যালেন্ডারে এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিন শহিদ দিবসের কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকবে একাধিক দল। আর এহেন 'গুরুত্বপূর্ণ মঙ্গলবারের' আবহাওয়া নিয়ে বিরাট আপডেট দিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর।
হাওয়া অফিস স্পষ্ট জানিয়েছে, ২১ জুলাই কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির দাপট বাড়তে পারে। তবে দক্ষিণববঙ্গে তুলনায় বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে উত্তরবঙ্গে। সেখানে বেশ কয়েকটি জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। যার জন্য জারি করা হয়েছে কমলা সতর্কতা। তাই ঝটপট আজকের আবহাওয়ার আপডেট জেনে নিন।
ঠিক কেন বাড়বে বৃষ্টি?
আসলে একটি মৌসুমি অক্ষরেখা রয়েছে বাংলার উপর। এই অক্ষরেখাটি রাঁচি থেকে দিঘার উপর দিয়ে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে গিয়েছে। ওদিকে আবার কিছুদিন আগে সক্রিয় হওয়া নিম্নচাপটি দুর্বল হয়ে ঘূর্ণাবর্তে পরিণত হয়েছে। এটি ঝাড়খণ্ড ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণাংশে অবস্থান করছে। আর এহেন ওয়েদার সিস্টেমের কারণেই মঙ্গলবার থেকে দক্ষিণবঙ্গ এবং উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি বাড়তে পারে বলে জানিয়ে দিয়েছে হাওয়া অফিস।
কলকাতায় কি বৃষ্টি হবে?
সোমবার অল্প বৃষ্টি দেখেছে কলকাতা। তবে মঙ্গলবার থেকে বদলে যেতে পারে পরিস্থিতি। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, একুশে জুলাই কলকাতায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইবার সম্ভাবনাও প্রবল।
দক্ষিণবঙ্গে কী হবে?
সকাল থেকেই দক্ষিণবঙ্গের আকাশের মুখ ভার। তাই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে আজ বৃষ্টি হবে একাধিক জেলায়। এক্ষেত্রে উত্তর ২৪ পরগনা থেকে শুরু করে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, নদিয়া, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম এবং ঝাড়গ্রামে বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। তবে দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
উত্তরবঙ্গে অ্যালার্ট
চলতি বছরে বারবার ভারী বৃষ্টির সম্মুখীন হয়েছে উত্তরবঙ্গ। আর সেই ট্রেন্ড এখনই কাটছে না বলে জানি দিয়েছে হাওয়া অফিস। তারা জানিয়েছে, একুশে জুলাই জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এই দুই জেলার কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এছাড়া দার্জিলিং, কালিম্পং এবং কোচবিহারেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদাতেও বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
মাথায় রাখতে হবে, দীর্ঘদিনের বৃষ্টিতে এমনিতে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ের একাধিক রাস্তায় ধস নেমেছে। বেড়েছে নদীর জলস্তর। আর বৃষ্টিপাত এভাবেই চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।