বিধান মার্কেটের ৫২৮ জন দোকানদার তো উঠতেই নারাজ, জোকা-এসপ্ল্যানেড মেট্রো কীভাবে?

ময়দানের ড. বিধানচন্দ্র রায় মার্কেট ঘিরে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা এবার কলকাতা মেট্রোর ‘পার্পল লাইন’ প্রকল্পের অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারে থাকা ৫২৮টি দোকান সরানো না গেলে এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশনের নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব নয়। তবে বৈধ স্বীকৃতির নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত স্থানান্তরে রাজি নন ব্যবসায়ীরা।

Advertisement
বিধান মার্কেটের ৫২৮ জন দোকানদার তো উঠতেই নারাজ, জোকা-এসপ্ল্যানেড মেট্রো কীভাবে?ময়দানের বিধান চন্দ্র রায় মার্কেট।-ফাইল ছবি
হাইলাইটস
  • ময়দানের ড. বিধানচন্দ্র রায় মার্কেট ঘিরে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা এবার কলকাতা মেট্রোর ‘পার্পল লাইন’ প্রকল্পের অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
  • বাজারে থাকা ৫২৮টি দোকান সরানো না গেলে এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশনের নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব নয়।

ময়দানের ড. বিধানচন্দ্র রায় মার্কেট ঘিরে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা এবার কলকাতা মেট্রোর ‘পার্পল লাইন’ প্রকল্পের অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাজারে থাকা ৫২৮টি দোকান সরানো না গেলে এসপ্ল্যানেড মেট্রো স্টেশনের নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব নয়। তবে বৈধ স্বীকৃতির নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত স্থানান্তরে রাজি নন ব্যবসায়ীরা।

জোকা-এসপ্ল্যানেড মেট্রো করিডোরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ এসপ্ল্যানেড স্টেশন। এই স্টেশন চালু হলে জোকার সঙ্গে শহরের প্রাণকেন্দ্রের সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি ব্লু লাইন (নর্থ-সাউথ) এবং গ্রিন লাইন (ইস্ট-ওয়েস্ট)-এর সঙ্গে ইন্টারচেঞ্জের সুবিধাও মিলবে। কিন্তু জমি ও বাজার-সংক্রান্ত জটিলতায় প্রকল্পটি বছরের পর বছর পিছিয়ে যাচ্ছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (RVNL)-এর এক আধিকারিক জানান, এসপ্ল্যানেড স্টেশনের নির্মাণকাজ ২০২৩ সালেই শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখনও একটি ইটও গাঁথা হয়নি। কাজ শুরু করতে পারলেই স্টেশন নির্মাণ শেষ হতে প্রায় চার বছর সময় লাগবে।

প্রস্তাবিত স্টেশনটি হবে ময়দানের ড. বিধানচন্দ্র রায় মার্কেটের জায়গায়। সেখানে বর্তমানে ৫২৮টি দোকান রয়েছে। ব্যবসায়ীদের অস্থায়ীভাবে অন্যত্র সরানো না গেলে নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব নয়। যদিও ব্যবসায়ীদের জন্য মনোহর দাস তড়াগের উত্তরে একটি অস্থায়ী বাজার তৈরি করা হয়েছে, এখনও সেখানে কেউ যাননি।

রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, মেট্রো স্টেশন তৈরি হয়ে গেলে ব্যবসায়ীদের আবার নতুন বাজারে ফিরিয়ে আনা হবে। এমনকি নতুন স্টেশন চত্বরে বাজারের জন্যও জায়গা রাখা হবে। তবুও ব্যবসায়ীরা লিখিত আইনি নিশ্চয়তা না পেয়ে স্থানান্তরে রাজি নন।

এই বাজারটি ভারতীয় সেনাবাহিনীর মালিকানাধীন জমিতে অবস্থিত এবং এর তত্ত্বাবধান করে পূর্ত দফতর (PWD)। ১৯৫০-এর দশকে বাজারটি গড়ে ওঠে। পরে বহু দোকানের মালিকানা হাতবদল হলেও সরকারি নথিতে সেই পরিবর্তনের প্রতিফলন ঘটেনি। ফলে বর্তমান দখলদারদের আইনি অবস্থান নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। সেনাবাহিনী বাজারটিকে ‘অবৈধ’ বলেই মনে করে।

গত দু'বছরে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, পূর্ত দফতর, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এবং রেলের মধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও কোনও সমাধান হয়নি। পরে ২০২৬ সালের মার্চে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানায়, ব্যবসায়ীদের অস্থায়ীভাবে স্থানান্তর এবং পরে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আপত্তি নেই, তবে বর্তমান দখলদারিত্বকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হবে না।

Advertisement

রাজ্য সরকারের এক আধিকারিক জানান, ব্যবসায়ীরা ‘টেন্যান্সি রাইটস’ বা ভাড়াটিয়ার আইনি স্বীকৃতি চাইছেন। কিন্তু পূর্ত দফতরের সেই অধিকার নেই, কারণ জমির মালিক সেনাবাহিনী। ব্যবসায়ীদের বর্তমান অবস্থান বজায় রেখেই দোকানগুলিকে নম্বর দেওয়া হয়েছে। অস্থায়ী বাজারেও একই নম্বর অনুযায়ী দোকান বরাদ্দ হবে। মেট্রোর কাজ শেষ হলে স্থায়ী বাজারে একই নম্বর অনুযায়ী তাঁদের ফিরিয়ে আনা হবে।

অন্যদিকে, ড. বিসি রায় মার্কেট স্টল হোল্ডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কিশোর মঙ্গলানি জানান, তিনি ৪৫৮ জন ব্যবসায়ীর প্রতিনিধিত্ব করছেন। তাঁর দাবি, বর্তমানে যারা দোকান চালাচ্ছেন, তাঁদের নামেই মালিকানার সরকারি নথি তৈরি করতে হবে। লিখিত নিশ্চয়তা ছাড়া ব্যবসায়ীরা কোনওভাবেই বাজার ছাড়বেন না।

তাঁর আরও অভিযোগ, অস্থায়ী বাজারের পরিকাঠামোও সন্তোষজনক নয়। বর্তমান বাজারে যেখানে নয়টি প্রবেশপথ রয়েছে, সেখানে অস্থায়ী বাজারে গেটের সংখ্যা অনেক কম। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং যাতায়াত নিয়েও ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা রয়েছে।
রেলের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এসপ্ল্যানেড স্টেশনের নির্মাণকাজ কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে নতুন করে কিছু জানানোর নেই।

অন্যদিকে, সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। ইস্টার্ন কমান্ডের একটি সূত্র জানিয়েছে, ময়দান এলাকা ‘ব্লু জোন’-এর অন্তর্ভুক্ত। ফলে সেখানে কোনও স্থায়ী নির্মাণকে বৈধতা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে মেট্রো প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র আগেই প্রতিরক্ষা মন্ত্রক থেকে দেওয়া হয়েছে।

বাংলায় সরকার পরিবর্তনের পর মেট্রো প্রকল্পগুলির দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটবে বলে আশাবাদী রেল কর্তৃপক্ষ। ১৮ মাস বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি চিংড়িঘাটায় আবার নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। রেলওয়ের আশা, কেন্দ্র ও রাজ্যে একই রাজনৈতিক জোটের সরকার থাকায় এসপ্ল্যানেডের জটিলতারও দ্রুত সমাধান হবে।

বর্তমানে পার্পল লাইনে জোকা থেকে মাঝেরহাট পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার উড়ালপথে মেট্রো চলাচল করছে। মাঝেরহাটের পর মমিনপুর হবে শেষ উড়াল স্টেশন। এরপর কিডারপুর, ভিক্টোরিয়া, পার্ক স্ট্রিট এবং এসপ্ল্যানেড, এই চারটি স্টেশন হবে ভূগর্ভস্থ।

এদিকে, রেলওয়ে বোর্ড জোকা থেকে আইআইএম কলকাতা পর্যন্ত আরও ১.৫ কিলোমিটার সম্প্রসারণের অনুমোদন দিয়েছে। এখন শুধু কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রকের এনওসি-র অপেক্ষা।

 

POST A COMMENT
Advertisement