রান্নার গ্যাসের e-KYC নিয়ে সব প্রশ্নের উত্তর জানুনআর ৪৮ ঘণ্টাও সময় বাকি নেই হাতে। ১৬ অগাস্টের মধ্যে e-KYC প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। তেমনটা না করলে কি বাড়িতে রান্নার গ্যাসের কানেকশন কেটে দেওয়া হবে? মাত্রাতিরিক্ত টাকায় LPG সিলিন্ডার বুকিং করতে হবে? এই নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ গ্রাহকদের মনে। যাবতীয় প্রশ্নের জবাব দিলেন অল ইন্ডিয়া LPG ডিস্ট্রিবিউটর ফেডারেশন এবং ইন্ডিয়ান LPG ডিস্ট্রিবিউটরস অ্যাসোসিয়েশন মুখপাত্র বিজন বিশ্বাস।
১৬ তারিখের মধ্যে e-KYC না করালে কী হবে?
বিজন বিশ্বাসের কথায়, 'সত্যি বলতে, আমাদের কাছেও বিষয়টা স্পষ্ট নয়। কারণ এখনও কেন্দ্রের তরফে এই মর্মে নির্দিষ্ট করে কোনও নির্দেশিকা আসেনি। ১৬ অগাস্টের মধ্যে সকলের পক্ষে গ্যাসের সঙ্গে এই আধার সংযুক্তিকরণ সম্ভব নয়। প্রায় ২০ লক্ষ নাম বাদ থেকে যাবে। ফলে ডেডলাইন বাড়ানো উচিত সরকারের।'
সেক্ষেত্রে কি মাত্রাতিরিক্ত দাম দিয়ে গ্যাস বুক করতে হবে?
বিজন বিশ্বাস জানিয়েছেন, তেল সংস্থা বা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এখনও জানানো হয়নি, e-KYC না করলে ১৬ অগাস্টের পর থেকে কত টাকায় সিলিন্ডার কিনতে হবে। তিনি বলেন, 'অনুমান করা হচ্ছে, কোনও গ্রাহকের e-KYC সম্পন্ন না হলে তাঁকে বাণিজ্যিক গ্যাসের দরে ঘরোয়া সিলিন্ডার কিনতে হবে। বর্তামনে রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম ৯৬৮ টাকা। সম্প্রতি যে ১০ কেজি এক্সট্রালাইট ফাইবার গ্লাসের সিলিন্ডার বের করা হয়েছে, তার ফুয়েলিং কস্ট ১৬১৮ টাকা। ফলে যতক্ষণ না কোনও গ্রাহকের e-KYC সম্পন্ন হচ্ছে সরকার বলতে পারে এই দাম অনুযায়ীই ১০ কেজি বা ১৪ কেজি সিলিন্ডারে দাম দিতে হতে পারে।' ১৪ কেজি সিলিন্ডারের দাম হতে পারে ১৮০০ থেকে ২ হাজার টাকার আশপাশে।
নাম ট্রান্সফার করার ক্ষেত্রে কী করতে হবে?
অনেকেরই নিজেদের নামে বাড়ির গ্যাসের কানেকশন নেই। বিজন বিশ্বাস বলেন, 'অনেকেরই মৃত বাবা-মা কিংবা কোনও আত্মীয়ের নামে গ্যাস কানেকশন থাকে। সেটাই বছরের পর বছর চলে আসছে। সেক্ষেত্রে ট্রান্সফার করতে হবে। এই বিষয়গুলি বন্ধ করার জন্যই e-KYC চালু করা হয়েছে। আইনগত বংশধর হলে অর্থাৎ বাবা-মায়ের বদলে ছেলে-মেয়ে কিংবা স্বামীর বদলে স্ত্রীর নামে গ্যাসের কানেকশন ট্রান্সফার করতে খরচ কম, ঝঞ্ঝাটও কম। সেক্ষেত্রে সিকিউরিটি ডিপোজিট আলাদা করে লাগবে না। যতদিন ধরে সাবসিডি জমা পড়েছে, সেইটা হিসেব করে গ্রাহককে নাম ট্রান্সফার করতে হবে। কিন্তু অন্য আত্মীয়ের থেকে নাম বদল করতে হলে সিকিউরিটি ডিপোজিটের অঙ্ক বদলে যেতে পারে।
নাম ট্রান্সফার ১৬ অগাস্টের মধ্যে না হলে কানেকশন কেটে দেবে?
বিজন বিশ্বাস জানাচ্ছেন, না। তেমনটা হবে না। কারণ নাম ট্রান্সফারের প্রক্রিয়া যদি ১৬ অগাস্টের আগে শুরু হয়ে যায় তবে সেটি এন্ট্রি হিসেবেই দেখানো হবে এবং প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কোনওমতেই গ্যাসের দাম বাড়তি টাকা দিয়ে কিনতে হবে না।
অনলাইন e-KYC করতে গেলে কি টাকা লাগবে?
Online-এ আধার সংযুক্তিকরণের জন্য কোনও টাকা লাগছে না। প্রাইভেটে কেউ টাকা নিয়ে সাহায্য করতে চাইলে, সেটা অন্য বিষয়। তবে সরকারি এই প্রক্রিয়া বিনামূল্যেই হচ্ছে।
Indane Gas-এর e-KYC কীভাবে করবেন?
Indane গ্যাসের গ্রাহকরা IndianOil ONE App ও Aadhaar FaceRD app-এর মাধ্যমে ঘরে বসেই e-KYC ভেরিফিকেশন করে নিতে পারবেন। IndianOil ONE app-এ প্রথমে আপনার মোবাইল নম্বর ও ইমেল লিঙ্কডকরে রেজিস্টার করতে হবে। তারপর ১৬ ডিজিটের LPG ID অ্যাড করতে হবে। এই আইডি আপনি গ্যাসের ক্যাশমেমো অথবা সাবস্ক্রিপশন ভাউচারে পেয়ে যাবেন। গ্রাহকের ডিটেলস চলে এলেই, My Profile-এ গিয়ে re-KYC অপশন সিলেক্ট করতে হবে। তারপর নির্দেশগুলি পড়ে সম্মতি দেওয়ার পর ‘Face Authentication’ অপশনটি বেছে নিতে হবে। এরপর FaceRD অ্যাপের মাধ্যমে আধার বায়োমেট্রিক যাচাই সম্পূর্ণ করতে হবে। এছাড়াও, গ্রাহক চাইলে নিজের Indane গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে গিয়ে অথবা সিলিন্ডার ডেলিভারির সময় ডেলিভারি কর্মীর সাহায্য নিয়েও e-KYC সম্পূর্ণ করতে পারবেন।
Bharat Gas-এর গ্রাহকরা কীভাবে e-KYC ভেরিফিকেশন করবেন?
Bharat গ্যাসের গ্রাহকরা ঘরে বসেই Hello BPCL app-এ ভেরিফিকেশন করে নিতে পারবেন। হোমস্ক্রিনে e-KYC অপশন সিলেক্ট করে। রেজিস্ট্রার্ড মোবাইল নম্বর দিলে একটি OTP আসবে, এরপর প্রযোজ্য নিয়ম ও শর্তাবলি মেনে নিয়ে সম্মতি জানাতে হবে। তারপর গ্রাহক e-KYC বা আধার যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে পারবেন।
HP Gas-এর গ্রাহকরা কীভাবে e-KYC ভেরিফিকেশন করবেন?
HP গ্যাসের গ্রাহকরা HP Pay app অথবা Aadhaar FaceRD app-এ ভেরিফিকেশন সম্পূর্ণ করতে পারবেন। HP Pay অ্যাপে LPG অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এরপর OTP-এর মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট যাচাই করে একটি MPIN তৈরি করতে হবে। তারপর ‘My HP’ বিভাগে গিয়ে LPG অপশন বেছে নিয়ে e-KYC-তে ক্লিক করতে হবে। এরপর সম্মতি জানিয়ে ‘Capture Face’ অপশনটি নির্বাচন করতে হবে। তখন Aadhaar FaceRD অ্যাপ খুলে যাবে এবং সেখানে ধাপে ধাপে মুখের ছবি দিয়ে আধার যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে।