
একাধিকবার তাঁকে নানা মামলায় সমন পাঠানো হচ্ছে। কখনও ED, কখনও CID হাজির হচ্ছে তাঁর দুয়ারে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভবানীভবনে তলব করে চলছে জেরা। তার মাঝেই এবার বিদেশ যেতে চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে, তিনি ৭ দিনের জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি চেয়েছেন এবং দ্রুত শুনানির আর্জিও জানিয়েছেন। তবে বুধবার হাইকোর্ট তৃণমূল সাংসদের সেই দ্রুত শুনানির আর্জি খারিজ করে দিয়েছে।
এদিন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, মামলাটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতেই শুনানির তালিকায় আসবে। এখনই এই মামলায় দ্রুত শুনানি সম্ভব নয়। সোমবার এই মামলার শুনানি হবে সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে।
প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, মমতাপন্থী তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে চান। ৭ দিনের জন্য বিদেশে যেতে চেয়ে তিনি অনুমতির জন্য কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
উল্লেখ্য, এই মুহূর্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেশের বাইরে যাওয়ার উপর কোনও স্থগিতাদেশ নেই। তবে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে তাঁর নামে। সেগুলিতে সহযোগিতা করার নির্দেশ তাঁকে দিয়েছে আদালত। এই অবস্থায় চোখের চিকিৎসার কারণে বিদেশ যেতে চেয়ে আদালতের অনুমতি চেয়েছেন তিনি।
২০১৬ সালে একটি পথ দুর্ঘটনায় তাঁর চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তারপর থেকেই বারবার চোখের চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে যেতে দেখা গিয়েছে।
এদিকে, বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর দলের অন্দরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও প্রকট হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দলের একাংশ আলাদা অবস্থান নিয়েছে। সম্প্রতি নিউ টাউনের একটি হোটেলে বিদ্রোহী শিবিরের ডাকা বিশেষ অধিবেশনে নতুন জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করা হয়েছে। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারিত করা হয়েছে। সাসপেন্ড করা হয়েছে অভিষেককে।