
দুর্গাপুজোর আগেই কাজ শেষের টার্গেট নেওয়া হয়েছে।Kumartuli Ghat: কলকাতার ঐতিহ্যের অন্যতম অংশ কুমোরটুলি ঘাট। তার আমূল সংস্কারের পরিকল্পনা বিজেপি সরকারের। ঐতিহাসিক ঘাটকে একেবারে নয়া রূপ দেওয়া হবে। ইতিমধ্যেই হাত মিলিয়েছে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং আদানি পোর্টস অ্যান্ড স্পেশাল ইকনমিক জোন লিমিটেড। প্রায় ১০ কোটি টাকার প্রকল্প। দুর্গাপুজোর আগেই কাজ শেষের টার্গেট নেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর এটি কলকাতার অন্যতম উল্লেখযোগ্য প্রকল্প। উত্তর কলকাতার কুমোরটুলি ঘাট থেকে চম্পাতলা ঘাট পর্যন্ত প্রায় ৩০০ মিটার এলাকা বেছে নেওয়া হয়েছে। এই পুরো এলাকা নতুন করে সাজানো হবে। পুরনো স্ট্রাকচার মেনটেন করেই সংরক্ষণ ও স্থান বিশেষে আধুনিকিকরণ করা হবে।
কুমোরটুলি মানেই মৃৎশিল্পীদের পাড়া। এখানেই দুর্গা প্রতিমা তৈরি হয়। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, ভারত তথা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা এখানে আসেন।

দুর্গাপুজোকে ইউনেস্কো 'ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ' বা অবিচ্ছেদ্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দিয়েছে। সেই কারণেই কুমোরটুলি ঘাটকে এতটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কী কী কাজ হবে?
ঘাটের পুরনো স্থাপত্য সংরক্ষণে বিশেষ নজর দেওয়া হবে। মন্দির, ছোট-বড় উপাসনাস্থল এবং ঘাটের মূল কাঠামোকে সংস্কার করা হবে।
১. গঙ্গার পাড় নতুন করে বাঁধানো হবে। ঘাটে ওঠানামার ব্যবস্থা সুন্দর করা হবে।
২. পথচারীদের জন্য আরও নিরাপদে মনোরম চলাচলের পরিবেশ গড়ে তোলা হবে।
৩. বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্যও নদীর ঘাটে সহজ প্রবেশের ব্যবস্থা করা হবে।
৪. শিল্পীদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জায়গা, দর্শনার্থীদের বসার জায়গা করা হবে।
৫. নৌবিহারের ব্যবস্থা থাকবে।
৬. ভিউয়িং ডেক, খাবারের স্টল, মেমোরিবিলিয়ার দোকান হবে।
৭. আধুনিক শৌচাগার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে নদীতীরের সবুজায়ন করা হবে। বৃন্দাবনের আদলে 'সেক্রেড গ্রোভ' বা পবিত্র বৃক্ষাঞ্চল তৈরির ভাবনাও রয়েছে।
রাতেও নজরকাড়া
দিনের পাশাপাশি রাতেও যাতে কুমোরটুলি ঘাট আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে ওঠে, তার জন্য বিশেষ আলোকসজ্জার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঘাট এবং কুমোরটুলির পুরনো বাড়িঘর আলোকিত করা হবে। পাশাপাশি থাকবে সিসিটিভি নজরদারি, প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
দ্রুত কাজ শেষের টার্গেট বেঁধে দেওয়া হয়েছে, যাতে দুর্গাপুজোর সময়ে কোনও অসুবিধা না হয়। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রথেন্দ্র রমন জানিয়েছেন, 'কুমোরটুলি কলকাতার সাংস্কৃতিক আত্মা। এই প্রকল্প শুধু পরিকাঠামো উন্নয়ন নয়, পশ্চিমবঙ্গের পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি ঐতিহাসিক স্থানকে নতুন প্রাণ দেওয়ার উদ্যোগ বলা যেতে পারে।'