অনীক দত্তের প্রয়াণে শোকাহত শুভেন্দু অধিকারীপরিচালক অনীক দত্তের আকস্মিক প্রয়াণে শোকজ্ঞাপন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি লেখেন, 'জনপ্রিয় বাংলা চলচ্চিত্র পরিচালক শ্রী অনীক দত্তের অকাল প্রয়াণে আমি শোকাহত। বাংলার চলচ্চিত্র জগতে তাঁরে অবদান অমূল্য। তাঁর পরিবার এবং পরিজনদের প্রতি আমার সমবেদনা রইল।' একইসঙ্গে শুভেন্দু জানান তিনি কলকাতা পুলিশের উপর সম্পূর্ণ ভরসা রাখছেন। লালবাজারকে তিনি এই রহস্যজনক মৃত্যুর প্রকৃত কারণ খুঁজে বরে করার জন্য যথাযথ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এই অকাল প্রয়াণ ঘিরে থাকা রহস্যময় পরিস্থিতির উন্মোচন করবে, কলকাতা পুলিশ, এমনটাই মনে করছেন মুখ্যমন্ত্রী।
ইতিমধ্যেই পরিচালকের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে SSKM হাসপাতালে। বুধবার বিকেলে ঢাকুরিয়ার বেসরকারি হাসপাতাল থেকে দেহ সম্পূর্ণ বাক্সবন্দি অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয় পিজিতে। সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন শিবপুরের বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ। তিনি শোকপ্রকাশ করে বলেন, 'অনীকদা অনীকদাই। তাঁর আপোসহীন ব্যক্তিত্বের জন্যই সকলে তাঁকে মনে রাখবে। অনীকদার শেষকৃত্য হবে আগামিকাল। তাঁর মেয়ে ঐশী বিদেশ থেকে কাল দুপুরে ফিরবেন। তিনি প্রাপ্তবয়স্কা। তাই আগে তাঁর বাবার যাবতীয় নথিপত্র তিনি দেখবেন। তার পর দুপুর ৪টে নাগাদ নন্দনে নিয়ে যাওয়া হবে পরিচালকের মরদেহ। সেখানে কিছুক্ষণ রাখা হবে। সেখানে তাঁকে শ্রদ্ধা জানানো হবে। তারপর সোজা কেওড়াতলা শ্মশান।' শোনা যাচ্ছে, অনীক দত্তের শেষকৃত্যে আসার সম্ভাবনা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।
প্রসঙ্গত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বরাবরই সমালোচনা শোনা যেত অনীক দত্তের গলায়। কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব চত্বর জুড়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবির পোস্টার নিয়ে সমালোচনা করেছিন অনীক দত্ত। তাঁর সেই সাহসকে সাধুবাদ জানান রুদ্রনীল। তিনি বলেন, 'অনীকদা নির্মাতা হিসাবে চলচ্চিত্র উৎসবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ছবি নিয়ে যে কথা বলেছেন, তাতে মিথ্যাচার ছিল না। যে কথা বলতে অনেকেরই সাহস হচ্ছিল না, অনীকদা তার ধার ধারেননি। এই মেজাজের একটা মানুষ চলে যাওয়া আসলে একটা বড় ক্ষতি।'
প্রসঙ্গত, এদিন দুপুরে আচমকাই হিন্দুস্তান পার্কের বহুতল আবাসনের ছাদ থেকে পড়ে যান অনীক দত্ত। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকুরিয়ার বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। একটি সুইসাইড নোট পাওয়া গিয়েছে ওই আবাসনের ছাদ থেকে। সেখানে উল্লেখ রয়েছে, 'এই মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নন।' তবে সেটি আদৌ অনীক দত্তেরই লেখা কি না, তা এখনও প্রমাণিত নয়। তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকস্তব্ধ টলিউড। কাঁদতে কাঁদতে হাসপাতালে ঢোকেন শ্রীলেখা মিত্র, ছিলেন জিতু কমলও। দুঃসংবাদ পেয়েই হাসপাতালে পৌঁছন CPIM নেতারা। ছিলেন দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, দীপ্সিতা ধর, সৃজন ভট্টাচার্য, শতরূপ ঘোষ।