
ফের খবরের শিরোনামে সেই আরজি কর। লিফটে মৃত্যুর পর, ২ দিনের মাথায় ফের রাজ্যের এই প্রথমসারির সরকারি হাসপাতালে প্রাণ গেল আরও একজনের। জানা গিয়েছে, রবিবার শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসা করাতে এসেছিলেন বিশ্বজিৎ সামন্ত নামে এক প্রৌঢ়। সোমবার শৌচালয়ে যাওয়ার জন্য স্ট্রেচার মেলেনি বলে অভিযোগ পরিবারের। গুরুতর অসুস্থ হয়ে শৌচালয়ে যাওয়ার সময়েই মৃত্যু হয় তাঁর।
পরিবারের তরফে জানানো হয়, শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগছিলেন বিশ্বনাথ সামন্ত। রবিবার থেকে তাঁর নাক দিয়ে রক্ত পড়ছিল। রাতেই নিয়ে আসা হয় আরজি কর হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার বিভাগে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর রক্ত বন্ধ হয়েছিল। কিছুটা সুস্থ বোধও করছিলেন তিনি। তবে শ্বাসকষ্টের সমস্যা রয়েই গিয়েছিল। এদিন শৌচালয়ে যাওয়ার প্রয়োজন বোধ করেন তিনি। পরিবারের অভিযোগ, একটি স্ট্রেচারও পাওয়া যাচ্ছিল না। প্রৌঢ় হেঁটে শৌচালয়ে যেতে গিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
জানা গিয়েছে, হাসপাতালের যেখানে প্রৌঢ়ের চিকিৎসা চলছিল, সেখানে কাছাকাছি কোনও শৌচালয় ছিল না। পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালের কর্মীদের জিজ্ঞাসা করা হলে জানানো হয়, বাইরে বা দোতলায় যেতে হবে। দোতলার ওঠার জন্য কোনও স্ট্রেচার মেলেনি। অসুস্থ অবস্থায় হেঁটে শৌচালয়ে যেতে গিয়েই প্রৌঢ়ের মৃত্যু হয়েছে, দাবি রোগী পরিবারের। অবব্যবস্থার অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তাঁরা। তবে এখনও পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই নিয়ে মুখ খোলেনি।
তবে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, লিফট খারাপ এবং নীচের তলা অর্থাৎ ট্রমা বিভাগের নিকটবর্তী শৌচালয় অপরিষ্কার থাকার কারণে ওই রোগীকে দূরের শৌচালয়ে যেতে বলা হয়। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই মৃত্যু হয়েছে বিশ্বজিৎ সামন্তের।
মৃত বিশ্বজিতের স্ত্রী ইলা সামন্ত এবং ছেলে বিশাল জানান, রাতে চিকিৎসার পর একটু সুস্থ হয়েছিলেন। ভোরের দিকে শৌচালয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু স্ট্রেচার দেয়নি কেউ। অসুস্থ মানুষ হেঁটে হেঁটে শৌচালয়ে যেতে গিয়ে এই পরিণতি হল। ছেলে সংবাদমাধ্যমে বলেন, 'কষ্ট করে হেঁটে যেতে গিয়ে হঠাৎ পড়ে গেলেন। ডাক্তার দেখে বললেন, উনি আর নেই! অনেক আশা নিয়ে আমরা হাসপাতালে আসি। আরজি করে আসি। কিন্তু এখানে তো সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে মারা যাচ্ছেন!’ মৃতের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আপাতত এই ঘটনায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে টালা থানার পুলিশ।
এদিকে, ২ দিন আগেই এই ট্রমা কেয়ার ভবনের লিফটে আটকে মৃত্যু হয় দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেখানেও সেই শৌচালয়ে যেতে গিয়েই হয় মর্মান্তিক পরিণতি। ৩ বছরের ছেলের চিকিৎসা করানোর জন্য আরজি করে গিয়েছিলেন অরূপ। হাতের কাছে শৌচালয় না থাকায় লিফটে উঠতে হয় বাবা-ছেলেকে। অভিযোগ, লিফটের দরজায় আটকে সিমেন্টের দেওয়ালের সঙ্গে ঘষটে মৃত্যু হয় অরূপের। হাসপাতালের অব্যবস্থা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নজরদারির অভাবকেই এই মৃত্যুর জন্য় দায়ী করেছে পরিবার।