দমদম পার্কে পদ্ম শিবিরের দুই বিধায়কের মধ্যে বাক-বিতণ্ডাসরকার ক্ষমতায় এসেছে মাত্র চার মাস। এরইমধ্যে বিজেপির দুই হেভিওয়েট বিধায়কের মধ্যেকার দূরত্ব দেখল রাজ্যবাসী। খাস কলকাতায় দমদম পার্কে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের একটি সভা চলাকালীন তাল কাটল রাজারহাট-নিউটাউনের বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়ার উপস্থিতি।
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার সন্ধের পর। এদিন একটি সভা করতে দমদম পার্কে এসেছিলেন বিধাননগর কেন্দ্রের বিধায়ক তথা রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। সেই সভায় রাজারহাট-নিউটাউনের বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া পৌঁছতেই তাল কাটে সভার। প্রথমে মঞ্চে উঠতেই রাজি হননি পীযূষ। শারদ্বত তাঁকে বারবার ডাকার পরেও তিনি মঞ্চে যেতে রাজি বননি, শেষে মঞ্চ থেকে নেমে রীতিমতো হাত ধরে তাঁকে নিয়ে মঞ্চে বসান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তবে তাতেও ঘটনা মেটেনি। বরং এরপরেই ক্ষোভ উগরে দেন পীযূষ কানোরিয়া।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সামনেই রাজারহাট-নিউটাউনের বিধায়ক প্রশ্ন করেন, "দমদম পার্কে অনেক ঘটনা আছে। এত বছর যাদের ঢুকতে দিইনি আমরা, তাদের আবার রাজনৈতিক ভাবে ঢোকানো হচ্ছে কেন?" তাঁর বক্তব্য, "দক্ষিণ দমদম পুরসভার লোক এখানে বসে আছে। আলোর কনট্র্যাক্ট, ১৮টি জায়গার কনট্র্যাক্ট একটা লোক পেয়েছে। কেন পেয়েছে? কার মদতে পেয়েছে? আপনি আমাকে উত্তর দিন।"
কোনওমতে তখনকার জন্য পরিস্থিতি সামলানো হলেও পরে বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন দুই বিধায়কই। শারদ্বত বলেন,"আমার পাশের বিধানসভার বিধায়ক এসেছিলেন...।" তার জবাবে আবার সাংবাদিকদের পীযূস বলেন, "দমদম পার্ক আমার আদি। আমি এখানকার বাসিন্দা। এলাকার মানুষ এখানে উপস্থিত হয়েছেন আমাকে দেখার জন্য। উনি বুঝতে পারেননি। বলতে হয়ত ভুল করেছেন। "
তোলাবাজি' কার্যত মানলেন শারদ্বত
অন্যদিকে, এদিন সাংবাদিকদের সামনে কার্যত তোলাবাজির অভিযোগ মেনে নেন শারদ্বত। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "কোথাও বলব না, আমার এখানে সব ভাল। কী খারাপ সেটা শুনতে এসেছি। ভালো করার জন্যই এসেছি।" একইসঙ্গে তিনি বলেন, "ভয় আউট, ভরসা ইন করতে পারিনি"। এপ্রসঙ্গে ব্যাখ্যা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, "যে অভিযোগের চিঠিগুলি এসেছে, "৯০ শতাংশ চিঠিতে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক। তার মানে আমরা কিন্তু ভয় আউট, ভরসা ইন করতে পারিনি। আমাদের কাজ বাকি। কাজ সম্পূর্ণ করব।" এর পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, তোলাবাজি, সিন্ডিকেট, প্রোমোটারদের কাছ থেকে পয়সা নেওয়ার ভূরি ভূরি অভিযোগ এসেছে।