কেন স্বাস্থ্যভবন অভিযানে আশাকর্মীরা?আশাকর্মীদের বিক্ষোভ ঘিরে সরগরম হয়ে উঠল কলকাতা। একাধিক দাবিতে স্বাস্থ্য ভবন অভিযানের ডাক দিয়ে এদিন রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে শহরে এসে হাজির হয়েছিলেন আশাকর্মীরা। যদিও শিয়ালদা স্টেশন ও তারপর রাস্তাতেই তাঁদের আটকে দেয় পুলিশ। কিন্তু কেন এদিন রাস্তায় নামল আশাকর্মীরা? তাঁদের কি কি দাবি রয়েছে? জেনে নেওয়া যাক।
নূন্যতম ১৫ হাজার টাকা মাসিক বেতনের দাবি তুলেছেন আশাকর্মীরা। এর পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিমা, মাতৃত্বকালীন ছুটি, মৃত্যুকালীন ক্ষতিপূরণ-সহ মোট আট দফা দাবিও করছেন আশাকর্মীরা। উল্লেখ্য বর্তমানে এই আশাকর্মীরা মাসে ৫ হাজার ২৫০ টাকা ভাতা পান। তবে এবার তাঁরা ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা ভাতার দাবি করেছেন। শুধু তাই নয়, সরকারি কর্মীদের মতো সব ধরনের ছুটির অধিকার, কর্মরত অবস্থায় মারা গেলে পরিবারকে এককালীন ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ, ইন্সেটিভ-এর টাকা ভাগ না করে একই দিনে এক সঙ্গে দিতে হবে বলে দাবি জানাচ্ছেন তাঁরা।
প্রসঙ্গত, আশাকর্মীরা কিন্তু একদিনে হঠাৎ করে এই আন্দোলনে শামিল হননি। নিজেদের দাবি আদায়ে গত প্রায় ২৯ দিন ধরে রাজ্য জুড়ে কর্মবিরতি পালন করছেন তাঁরা। আজ আশাকর্মীরা দাবি করেন, তাঁদের স্বাস্থ্যসচিবই কথা বলার জন্য ডেকে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু স্টেশনেই পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়।
আন্দোলনে কলকাতায় বড় যানজট
কলকাতাগামী আশাকর্মীদের আটকাতে এদিন ভোর থেকেই স্টেশনে স্টেশনে মোতায়েন ছিল বিপুল সংখ্যক মহিলা পুলিশ। আশাকর্মীরা শিয়ালদা স্টেশনে পৌঁছতেই মহিলা পুলিশ আশা কর্মীদের ঘিরে ধরে। ফলে সেখানেই অবস্থানে বসেন আশাকর্মীরা। পরে রাস্তাতেও পুলিশের সঙ্গে ধ্বস্তাধ্বস্তি হয় তাঁদের।
রাজ্য সরকারের তরফে কী বলা হল?
শিয়ালদা স্টেশনে ধরপাকড়, আশাকর্মীদের আটক অভিযান ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আটক করে নিয়ে যাওয়া হলেও স্লোগান থামেনি তাঁদের। এই অবস্থায় তাঁদের কাছে আর্জি রেখেছেন রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, 'রাজনৈতিক ভাবে আপনাদের ব্যবহার করা হচ্ছে। ফাঁদে পা দেবেন না। আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। কিন্তু রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য আপনারা হয়তো এই সমস্ত লোকেদের কিছু চাঁদাও দিয়েছেন বলে শুনেছি। সঠিক জানি না।' তিনি এদিন জানান, বাম জমানায় আশাকর্মীদের ৮০০ টাকা স্থায়ী সাম্মানিক দেওয়া হতো। ২০১৩ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে তা ছ’বার বাড়িয়ে বর্তমানে ৫ হাজার ২৫০ টাকা করা হয়েছে।
আশাকর্মীরা কী কাজ করেন?
সরকারের নানা ধরনের স্বাস্থ্য প্রকল্পের তথ্য সাধারণের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আশা-কর্মীদের কাজ। এই কাজের জন্য তাঁদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। স্বাস্থ্যকেন্দ্র, উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র, জেলা হাসপাতাল এবং নানা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সুবিধাগুলি যাতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীগুলি পায় তা দেখা এদের দায়িত্ব। আশা কর্মী হিসেবে বিবাহিত, বিবাহবিচ্ছিন্ন এবং স্বামীহারা মহিলাদের প্রধানত নেওয়া হয়। বয়সসীমা ২৫ থেকে ৪৫ বছর। কোনও একটি অঞ্চলে কাজ করার জন্য সেইখানকার মহিলাদেরই নেওয়া হয় মূলত। গর্ভবতী মহিলা, সদ্যজাত শিশুদের স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার জন্য কাজ করে চলেছেন এ রাজ্যের প্রায় ৭০ হাজার মহিলা আশাকর্মী।