রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।-ফাইল ছবিকলকাতায় মেট্রো সম্প্রসারণে রাজ্য সরকারের অসহযোগিতাই সবচেয়ে বড় বাধা, এমনই অভিযোগ করলেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। সোমবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, 'অর্থের কোনও অভাব নেই, কিন্তু কাজ এগোনোর জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি রাজ্য সরকারের কাছ থেকে মিলছে না।'
২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে রেল প্রকল্পে বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে বৈষ্ণব জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কলকাতার মেট্রো প্রকল্পগুলিতে কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। তবে রাজ্য সরকারের সহযোগিতা পেলে সেই গতি আরও অনেক বেশি হতো। তিনি অভিযোগ করেন, হাইকোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও চিংড়িঘাটায় ট্র্যাফিক ব্লকের অনুমতি দিচ্ছে না রাজ্য সরকার, যার ফলে গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো প্রকল্প আটকে রয়েছে।
চিংড়িঘাটায় মেট্রো উড়ালসেতুর ৩৬৬ মিটার অংশই নিউ গড়িয়া-বিমানবন্দর মেট্রো করিডোর বা অরেঞ্জ লাইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ। এই অংশে কংক্রিট স্ল্যাব বসাতে হলে সাময়িক ট্র্যাফিক ব্লকের অনুমতি প্রয়োজন। বাস্তবায়নকারী সংস্থা রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (আরভিএনএল) জানিয়েছে, পুলিশের অনুমতি না মেলায় কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।
কলকাতা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন অফিসার জানান, শহরের অন্যতম ব্যস্ত এই মোড়ে ট্র্যাফিক ব্লকের প্রভাব বোঝার জন্য ইতিমধ্যেই ট্র্যাফিক ট্রায়াল চলছে। বিকল্প হিসেবে প্রায় ৫০০ মিটার দীর্ঘ দু’লেনের একটি বাইপাস রাস্তা খুলে দেওয়া হয়েছে। এদিকে, কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করার নির্দেশ দিলেও বাস্তবে তা সম্ভব হয়নি।
মেট্রো রেলের জেনারেল ম্যানেজার শুভ্রাংশু শেখর মিশ্র জানিয়েছেন, চিংড়িঘাটার অচলাবস্থার কারণে অরেঞ্জ লাইন প্রকল্প অন্তত এক বছর পিছিয়ে গিয়েছে। আগে যেখানে ২০২৭ সালের শেষে বিমানবন্দর পর্যন্ত মেট্রো পৌঁছনোর লক্ষ্য ছিল, এখন অনুমতি পেলে কাজ শেষ হতে পারে ২০২৮ সালের শেষ দিকে।
পার্পল লাইনের ক্ষেত্রেও সমস্যা রয়েছে। বি সি রায় মার্কেটের ব্যবসায়ীরা বিকল্প স্থানে যেতে রাজি না হওয়ায় এসপ্ল্যানেড স্টেশনের নির্মাণকাজ থমকে আছে। এই বাজারের দায়িত্বে রয়েছে রাজ্যের পূর্ত দফতর।
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে অরেঞ্জ লাইনের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ৭০৫.৫০ কোটি টাকা এবং পার্পল লাইনের জন্য ৯০৬.৬০ কোটি টাকা। গ্রিন লাইন বা ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর জন্য বরাদ্দ ৫২৯ কোটি টাকা, যার একটি অংশ বৌবাজারে ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর পুনর্নির্মাণে ব্যয় হবে।
ইয়েলো লাইন নিয়ে এখনও নির্দিষ্ট বরাদ্দ ঘোষণা হয়নি। নোয়াপাড়া থেকে বারাসাত পর্যন্ত এই লাইনের সম্প্রসারণের প্রস্তাব রেলওয়ে বোর্ডে পাঠানো হয়েছে, অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
অন্যদিকে, ব্লু লাইনের ক্ষেত্রেও বড়সড় সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। দক্ষিণেশ্বর থেকে কবি সুভাষ পর্যন্ত চলা এই লাইনের পুরনো পরিকাঠামো আধুনিকীকরণের জন্য কমিউনিকেশন-বেসড ট্রেন কন্ট্রোল ব্যবস্থা বসানোর অনুমোদন মিলেছে।
সব মিলিয়ে, কেন্দ্রের দাবি, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রস্তুত থাকলেও রাজ্য সরকারের অনুমতি ও সহযোগিতা না পাওয়ায় কলকাতার মেট্রো সম্প্রসারণ বারবার ধাক্কা খাচ্ছে।