
সম্প্রতি নেট দুনিয়ায় আরও একবার ভাইরাল হয়েছিলেন শোভন-বৈশাখী জুটি। কাশ্মীরে শোভনের সঙ্গে ঘুরতে গিয়েছিলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিল মেয়ে মহুল। শোভন-বৈশাখীর ভ্রমণের সেই ছবি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় ওঠে। সেই রেশ মিটতে না মিটতে এবার আদালতে হাজির হলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে অবশ্যই ছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়। বুধবার আলিপুর আদালত বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের মিউচুয়াল ডিভোর্সের আবেদনে সিলমোহর দিয়েছে। ফলে স্বামী মনোজিত মণ্ডলের সঙ্গে পাকাপাকি ভাবে বিবাহ বিচ্ছেদ হল বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
আদালত থেকে বেরিয়ে বৈশাখীর বক্তব্য
বুধবার আদালতের রায় জানার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেন, মিউচুয়াল ডিভোর্সের জন্য আবেদন করেছিলেন। আজ চূড়ান্ত শুনানি ছিল। সেই আবেদনে সম্মতি দিয়েছে আদালত। তিনি এও জানান, প্রাক্তন স্বামী মনোজিতের থেকে মেয়ের খরচের জন্য কোনও খোরপোশ দাবি করেননি। বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, 'সন্তানের ভরণপোষণের জন্য মনোজিৎকে টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। তবে আমি জানিয়েছি, সন্তানের খরচ চালানোর মতো যথেষ্ট ক্ষমতা আমার আছে।’
বৈশাখীর ডিভোর্সে খুশি শোভনও
বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই আদালতে হাজির হয়েছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায়ও। বর্তমানে তিনি রাজনীতি থেকে দূরে রয়েছেন। দুজনেই পরেছিলেন কচি কলাপাতা রঙের পোশাক। বন্ধবীর বিবাহের গাঁটছড়া ছেঁড়ায় খুশি তিনিও। শোভন চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘বৈশাখীর সঙ্গে আমার পরিচয়ে অনেকদিনের। এতদিনের পরিচয়ে ওকে এই প্রথম মুক্তির স্বাদ পেতে দেখলাম। আমিও এই মুক্তির স্বাদের অপেক্ষায় আছি। আজ থেকে চার বছর আগেও বলেছিলাম, আবারও বলছি, যেখানে বুক দেখাই, সেখানে পিঠ দেখাই না।’

মা দুর্গার সামনে বৈশাখীর সিঁথিতে সিঁদুর পরান শোভন
এর আগে গত বিজয়া দশমীতে মা দুর্গার সামনেই একটি নিউজ চ্যানেলের অনুষ্ঠানে দেবীবরণ করার পর শোভন চট্টোপাধ্যায় সিঁদুর পরিয়ে দিয়েছিলেন দীর্ঘদিনের বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সেই সিঁদুরদানের পর বৈশাখী বলেছিলেন, “আমাদের মধ্যে কোনওদিনই স্বীকৃতির অভাব ছিল না। স্বীকৃতির অভাব ছিল সমাজের। সমাজ এটাও দেখছে আমাদের মধ্যে কোথাও সততার অভাব নেই। আমরা দুটো সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসে এবং দুটো প্রাণহীন সম্পর্ককে শেষ করে আমাদের যেখানে আনন্দ, আমাদের যেখানে শান্তি সেই আশ্রয়টা খুঁজে নিয়েছি। দর্শকদের কাছে হয়তো এটা নতুন অনুভূতি। কিন্তু আমি এই অনুভূতি না পেলে পরে শোভন জানে আমি সেইরকম মেয়ে নই যে এমন একটা সম্পর্ক গড়ে তুলব।”