Behala Sarsuna Crime: সরশুনায় মেয়ের বাবা-মামাকে কী শাস্তি পুলিশের? ৩ জনকে নগ্ন করে হাঁটিয়েছিল ওরা

সোমবার সরশুনা থানা এলাকার বসুন্ধরা পার্কের একটি ঘটনা চাঞ্চল্য ফেলে দিয়েছে শহরে। মধ্যযুগীয় বর্বরতা দেখেছিল শহর কলকাতা। প্রেমিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে প্রেমিক তরুণ, তাঁর বাবা এবং এক বন্ধুকে রবিবার আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে নগ্ন করে রাস্তায় হাঁটিয়েছিলেন ওই কিশোরীর পরিবারের সদস্যেরা। প্রকাশ্য রাস্তায় প্রায় ৫০ মিটার নগ্ন অবস্থায় ওই তিন জনকে হাঁটতে বাধ্য করা হয়েছিল। তোলা হয়েছিল সেই ঘটনার ভিডিয়ো!এই ঘটনায় এবার অভিযুক্তদের খালি গায়ে ঘোরাল পুলিশ। শুধু হাফপ্যান্ট পরিয়ে কোমরে দড়ি বেঁধে তরুণীর বাবা ও মামাকে খালি গায়ে ঘোরায় পুলিশ।

Advertisement
সরশুনায় মেয়ের বাবা-মামাকে কী শাস্তি পুলিশের? ৩ জনকে নগ্ন করে হাঁটিয়েছিল ওরাবেহালাকাণ্ডে এবার প্রেমিকার বাবা ও মামাকে খালি গায়ে হাঁটালো পুলিশ

সোমবার সরশুনা থানা এলাকার বসুন্ধরা পার্কের একটি ঘটনা চাঞ্চল্য ফেলে দিয়েছে শহরে। মধ্যযুগীয় বর্বরতা দেখেছিল শহর কলকাতা। প্রেমিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে প্রেমিক তরুণ, তাঁর বাবা এবং এক বন্ধুকে রবিবার আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে নগ্ন করে রাস্তায় হাঁটিয়েছিলেন ওই কিশোরীর পরিবারের সদস্যেরা। প্রকাশ্য রাস্তায় প্রায় ৫০ মিটার নগ্ন অবস্থায় ওই তিন জনকে হাঁটতে বাধ্য করা হয়েছিল। তোলা হয়েছিল সেই ঘটনার ভিডিয়ো!এই ঘটনায় এবার অভিযুক্তদের  খালি গায়ে ঘোরাল পুলিশ। শুধু হাফপ্যান্ট পরিয়ে কোমরে দড়ি বেঁধে তরুণীর বাবা ও মামাকে খালি গায়ে ঘোরায়  পুলিশ। 

মঙ্গলবার ধৃতদের কোমরে দড়ি বেঁধে, শুধু হাফপ্যান্ট পরিয়ে এলাকার রাস্তায় ঘোরানো হয়। কিশোরীর বাবা ও মামাকে খালি গায়ে ঘোরান হয়। প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে যুবক ও তাঁর পরিবারের উপর অত্যাচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে কিশোরীর পরিবারের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই কিশোরীর বাবা ও মামাকে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। 

গত পরশু অর্থাৎ রবিবার বেহালার সরশুনা এলাকায় তরুণীর পরিবার তাঁদের বাড়ির মেয়ের সম্পর্ককে না মানতে পেরে প্রেমিক ও তার পরিবারকে শারীরিক নির্যাতন করে বলে অভিযোগ। সেই ঘটনায় গ্রেফতার হন যুবতীর বাবা ও মামা। এবার তাঁদেরই খালি গায়ে ঘোরাল পুলিশ।

প্রসঙ্গত, বেহালা কাণ্ড নিয়ে তোলপাড় গোটা বাংলা। ঘটনার ভয়াবহতা হতবাক করেছে সকলকে। অত্যাচারিত যুবকের দাবি, নাবালিক সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল তাঁর। স্বাভাবিকভাবেই দেখা-সাক্ষাৎও করতেন। লক্ষ্মীপুজোর রাতে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে তার পাড়ায় যান যুবক। রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন তাঁরা। সেই সময় প্রেমিকার হাত ধরেন যুবক। তখনই হঠাৎ সেখানে হাজির হন নাবালিকার মামার বন্ধু। দু’জনকে এক সঙ্গে দেখামাত্র তিনি হুমকি দেন, ‘তোর খবর আছে।’ এরপরই নাবালিকার মামাকে ফোন করেন তিনি। সঙ্গে সঙ্গে লোকজন হাজির হয়। যুবককে সেখানেই হেনস্তা করা হয়। এরপর তাঁকে বাবাকে ফোন করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে বাবাকে ফোন করেন যুবক। এরপর তাঁদের টেনে নাবালিকার মামার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।  অভিযোগ, সেখানেই যুবকের বাবাকে তিনটি অপশন দেওয়া হয়। প্রথমটি নিজের হাতে ছেলেকে গুলি করে খুন করতে হবে। দ্বিতীয়টি, ধর্ষণের মামলার দায় নিজেদের কাঁধে নিয়ে জেলে যেতে হবে। তৃতীয় অপশনটি ছিল, নগ্ন হয়ে ঘোরা। ওই পরিস্থিতিতে নগ্ন হয়ে ঘোরা ছাড়া কিছু বেছে নেওয়ার কথা ভাবতেও পারেনি ওই যুবক ও তাঁর বাবা। 

Advertisement

এখনও পর্যন্ত মোট তিন জন অভিযুক্তকে (কিশোরীর বাবা, মা এবং মামা) গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, ওই কিশোরীর মামা রাহুল বর্মন এবং তাঁর জনাছয়েক স্যাঙাত ঘটনায় মূল অভিযুক্ত। ওই ছ’জনের খোঁজ চলছে। রাহুল একদা সক্রিয় ভাবে তৃণমূল করতেন এবং ১২৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলরের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।

রবিবার সন্ধ্যায় সরশুনার ক্ষুদিরামপল্লিতে ঠিক কী কী ঘটেছিল, জানতে এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করছে পুলিশ। দুই তরুণের মেডিক্যাল পরীক্ষা করানো হয়েছে। তাঁদের বয়ানও রেকর্ড করেছেন তদন্তকারীরা। দু’জনেই জানিয়েছেন, পোশাক খোলার জন্য তাঁদের মাথায় বন্দুক ঠেকানো হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থলে এখনও কোনও বন্দুক খুঁজে পায়নি। বিষয়টি জানতে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান সংগ্রহ করা হচ্ছে। বস্তুত, স্থানীয়দের একাংশের সক্রিয় ভূমিকাতেই রবিবার হামলাকারীদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন প্রেমিক তরুণ এবং তাঁর বাবা ও বন্ধু। স্থানীয় ওই ব্যক্তিরাই তাঁদের উদ্ধার করে একটি গ্যারাজে সাময়িক আশ্রয় দিয়েছিলেন। পোশাকগুলি আনিয়ে ফেরত দিয়েছিলেন। পরে উত্তেজিত স্থানীয়দের একাংশ ওই কিশোরীর পরিবারের বাড়িও ভাঙচুর করেন বলে সূত্রের খবর। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কিশোরীর পরিবার আগে তৃণমূল কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠ ছিল। সেই থেকেই তাদের ঔদ্ধত্য। স্থানীয়রা দাবি জানিয়েছেন, মেয়েটির বাবা এবং মামার যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়। ছেলেটির বাবা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এই ঘটনার পরে।

POST A COMMENT
Advertisement