ধরনা মঞ্চে রাতে থাকবেন মমতা Mamata Banerjee Dharna Live Updates: আজ, বাংলার মানুষের ভোটাধিকার রক্ষায় ধর্না কর্মসূচি নিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ধর্মতলায় মেট্রো চ্যানেলের সামনে ধর্না-অবস্থান করছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। SIR প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকায় বাদ পড়া ভোটাররা এবং SIR প্রক্রিয়া চলাকালীন মৃত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরাও এদিন ধর্না মঞ্চে উপস্থিত থাকছেন।
রাতভর থাকবেন মমতা। আগামিকাল ফের সকাল ১০টা থেকে ধরনায় তৃণমূল নেতা-মন্ত্রীদের যোগ দেওয়ার আর্জি জানালেন TMC সুপ্রিমো।
বিজেপি নেতা সজল ঘোষের সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে নিয়ে মন্তব্য ঘিরে বিতর্কে মুখ খুললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কটাক্ষ, ‘সৌরভ যদি দালাল হন, ২০২১ সালে শুভেন্দু অধিকারী, দিলীগ ঘোষদের বগলদাবা করে বেহালায় তাঁর বাড়িতে গিয়ে লুচি-আলুর দম খেয়ে এসেছিলেন কেন অমিত শাহ? বাঙালি তো, তাই উনি মাথানত করেননি।’ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের অভিযোগ, ‘চুরি করে ভোটে জেতার জন্য লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির নামে ১ কোটি মানুষেরক নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছিল। ধরে ফেলেছেন বিএলএ-২-রা।’ এসআইআর নিয়ে যা হচ্ছে, তার জন্য ‘ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মানসিকতার মতো’ লড়তে হবে বলে মন্তব্য করেন অভিষেক।
'অমিত শাহ এলে তাঁর সভা শুরু শেষ হয় আমার নাম দিয়ে। বিজেপির সবার গায়ে জ্বালা আমায় নিয়ে। আমি ছোট একটা প্রস্তাব দিচ্ছি। পাশে অসম, একপাশে ত্রিপুরা, বিহার ওড়িশা, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাট। সব রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায়। কোনও শর্ত ছাড়া আড়াই কোটি মহিলাকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিয়েছে। মোদীর একটা সরকার দিয়ে দেখাক! যদি দিতে পারে আমি রাজনীতি থেকে অবসর নেব। যত মহিলা আছে সবাইকে দিয়ে দেখাক। বাইরের ভোটার নিয়ে এসে নাম লিস্টে তুলে ভেবেছিল ভোটে জিতবে।'
‘২০২১ সালে কিছু সামাজিক সংগঠন বলেছিল ‘নো ভোট টু বিজেপি।’ আমরা এই মঞ্চে ১০ কোটি বঙ্গবাসীকে সাক্ষী রেখে বলছি, এ বার বিজেপিকে বয়কট করতে হবে। বিজেপিকে সামাজিক ভাবে বয়কট করুন। যারা বিজেপির হয়ে গলা ফাটাত, তারা যুবশ্রীর ফর্ম পূরণ করছেন। দিলে মমতাদি-ই দেবে।’ বিজেপিকে নিশানা করে অভিষেক বলেন, ‘আমায় নিয়ে খুব জ্বালা। আজ অমিত শাহ এলে তাঁর ভাষণের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমি থাকি।’
অভিষেক আরও বলেন, 'অপরিকল্পিত এসআইআরের জন্য ১৭২ জন সহনাগরিককে হারিয়েছি। মাটির জন্য তাঁরা প্রাণ দিয়েছেন। তাঁদের বলিদান, প্রাণ আমরা বৃথা যেতে দেব না। এবার নো ভোট টু বিজেপি নয়, বয়কট বলতে হবে। সামাজিকভাবে বয়কট করুন। ভারতবাসীর পোড়া কপাল। দেশ কার থেকে পেট্রোল কিনবে সেটা ঠিক করে দিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প!'
‘বিবেচনাধীন নিয়ে আপত্তি নেই। ৬০ লক্ষ মানুষের নাম যদি বিবেচনাধীন হয়ে থাকে তা হলে দেশের প্রধানমন্ত্রীও বিবেচনাধীন। আমাদের মুখ্যমন্ত্রীই একমাত্র নেত্রী যিনি সাধারণ নাগরিক হিসাবে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে লড়তে গিয়েছেন। আর কোনও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে দেশের মানুষ সওয়াল করতে দেখেননি।’
‘ইতিমধ্যে বাংলা থেকে ৫৮ লক্ষ ভোটারের নাম কাটা হয়েছিল। খসড়া তালিকা সেটা। তার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি দেখা গেল সংখ্যাটা ৬৩-৫৪ লক্ষ। বিবেচনাধীন সংখ্যা ৬০ লক্ষের বেশি। সবমিলিয়ে ১ কোটি ২০ লক্ষ। বিজেপি নেতারা যে কথাটা আগে থেকে বলছিলেন। এটা তো কাকতালীয় হতে পারে না।’
বললেন, 'সকলকে প্রণাম জানাই। রোজা রেখেছেন, রোজাদারদের, সকল ধর্মের সকলকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। অপরিকল্পিত এসআইআর। বিচারব্যবস্থার একাংশ, ইডি সিবিআই, সংবাদ মাধ্যম। সবার উপরে চ্যালেঞ্জ থাকল। মানুষ ভোট দেবে, এই লড়াই সেই লড়াই। বিচারাধীন ৬০ লক্ষ। নাম কেটেছে ৫৮ লক্ষের। এক কোটির বেশি মানুষ! ১ কোটি ২৪ লক্ষ। এসআইআর ঘোষণা হওয়ার তিন মাস আগে থেকে বিজেপি নেতারা গলা ফাটিয়ে বলেছিল। এটা তো কাকতালীয় হতে পারে না।'
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে মানুষের অধিকার রক্ষার স্বার্থে পথে নেমেছি, বললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
ধর্মতলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্নামঞ্চে তাল কাটল প্যারাটিচারদের বিক্ষোভ। বেতন বৃদ্ধির দাবিতে হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ দেখান কয়েকজন প্যারাটিচার। তাঁদের দেখে মুখ্যমন্ত্রী মঞ্চ থেকেই বলেন, 'রাজনীতি করবেন না। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান। ভ্যানিশ কুমারকে দেখান।' পুলিশ এসে তাঁদের আটক করে নিয়ে গিয়ে তোলে গাড়িতে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবার শনিবার ধর্নামঞ্চ থেকে বলবেন। তিনি বলেন, 'এ বার শতাব্দী বলবে। তার পর অভিষেক। আজ আমি আর বলছি না। আমি আবার কাল বলব।''
মমতার ধরনা মঞ্চে বিক্ষোভ পার্শ্বশিক্ষকদের। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'এটা সময় নয়, মানুষ মরছে। বিজেপি মাইন্ডেড সব। এদের এখানে কারা পাঠিয়েছে জানি। বিজেপি এসবের পিছনে। মানুষ মারা গেছে, তাদের জন্য আমরা এখানে এসেছি। বাকিদের দাবিও আছে। তাদের জন্য অন্য জায়গা আছে। মোদি, অমিত শাহ, ভ্যানিশ কুমারের কাছে যান।'
আমরা দিদির নেতৃত্বে লড়াই চালিয়ে যাব। বললেন সায়নী ঘোষ। এটা উত্তরপ্রদেশ, বিহার নয়। মাঞ্জা রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে।
রিভিউতে থাকা মানুষদের বেশিরভাগই সংখ্যালঘু । ইচ্ছে করে কমিশন এটা করেছে। তাঁদের ভোটাধিকার দিতে চায় না কমিশন। বিজেপি ও হুমায়ুন কবীরকে আক্রমণ মহুয়া মৈত্রের। ‘ভোট নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার কেড়ে নিতে দেব না’ লেখা পোস্টার গলায় ঝুলিয়ে ধর্নামঞ্চে বলতে ওঠেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি বলেন, ‘এটা নীতি বা আদর্শের লড়াই নয়। এটা বেঁচে থাকার লড়াই। আজ কলকাতার কোনও মানুষ, যাঁরা বাসে-ট্রামে যাচ্ছেন, আর ভাবছেন, মমতা তো আবার বসেছেন (ধর্নায়), তাঁর মতো অপরাধী আর নেই। এসআইআর এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে সাধারণ শিক্ষিত মানুষও বুঝতে পারছেন না। বুদ্ধিজীবী সমাজ, শিক্ষিত ছেলেমেয়েরাও এসআইআরের পরিকল্পি গেম, চক্রান্তটা ধরতে পারছে না।’ তথ্যগত অসঙ্গতি থেকে ভোটার তালিকায় নাম বাদ নিয়ে কমিশন এবং বিজেপিকে তোপ কৃষ্ণনগরের সাংসদের। তাঁর অভিযোগ, বড় ষড়যন্ত্রের চেষ্টা হয়েছে।
পার্শ্ব শিক্ষক ঐক্য মঞ্চের প্রতিনিধিরা বিক্ষোভ দেখালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্নামঞ্চের সামনে। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের বলেন - এটা বিক্ষোভ দেখানোর জায়গা না, কিছু দেখানোর হলে মোদীকে গিয়ে দেখান! এখানে রাজনীতি করবেন না।
মমতাবালা ঠাকুর বললেন, 'মতুয়াদের নিয়ে যে আন্দোলন করে আসছি আমরা, নাগরিকত্ব ইস্যুতে লড়াই করে আসছি সেই ২০০৩ সাল থেকে। ভারতের তো এত নেতা রয়েছেন, কেউ তো সুপ্রিম কোর্টে যাননি। একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গিয়েছেন আমাদের জন্য সুপ্রিম কোর্টে। ছোট বাচ্চা কোলে নিয়ে মহিলারা লাইনে দাঁড়িয়ে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হচ্ছে। সিএএ করার নামে মতুয়াদের কিছু মানুষ ভোট দিয়েছিলেন ২০১৯ সালে বিজেপিকে। আজও তারা নাগরিকত্ব পায়নি। তারা যখন সিএএ আবেদন শুরু করল, তখন কেন্দ্র SIR-এর নামে নাগরিকত্ব কাড়ার ষড়যন্ত্র করল। মতুয়া সমাজ আজ দিদির পাশে আছে। তারা এখন বুঝছে, মতুয়াদের অধিকার কাড়ার যে ষড়যন্ত্র চলছে, তার বিরুদ্ধে লড়াই করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।'
ধর্নামঞ্চে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ কবি জয় গোস্বামী। তিনি বলেন, 'আমি আর যতদিন বেঁচে থাকব, মমতার সঙ্গেই থাকব। আমি এরকম মুখ্যমন্ত্রীর আর কখনও দেখিনি।'
১০ বছর ক্ষমতায় থাকা সত্বেও কেন্দ্র মতুয়াদের কোনও কাজ করে দেয়নি। সেই কাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করছেন। বললেন মমতাবালা ঠাকুর। সুপ্রিম কোর্টে আমাদের জন্য ছুটে গেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
জয় গোস্বামী বললেন,'অন্যায় হচ্ছে, মানুষের ভোট অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। এটা আমার ব্যক্তিগত কথা নয়। ৯০ বছর অতিক্রান্ত মানুষকে যেতে হচ্ছে প্রমাণ দিতে। কেউ আত্মহত্যা করছেন, মারা যাচ্ছেন।'
আমি প্রতিবার ২১ ফেব্রুয়ারির মঞ্চে যাই। অন্যায় হচ্ছে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার। আমাকে শীর্ষ আদালতে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সর্বোচ্চ লড়াই করতে পারেন। আত্ম সমালোচনাও করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রামপুরহাট ও হাঁসখালিতে নিজের আত্মসমালোচনা করেন মমতা। যতদিন বাঁচব মমতার পাশে থাকব।