Paschim Banga Awas: যতখুশি বাড়ি তৈরির টাকা দেবে কেন্দ্র, পশ্চিমবঙ্গ আবাস নিয়ে বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

বাংলায় সরকার গঠনের তিন মাসের মধ্যে ফের বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জমানার ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের নাম পাকাপাকিভাবে বদলে ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’ করা হল আজ থেকে। বৃহস্পতিবার নবান্ন সভাঘর থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই নতুন নামাঙ্কিত প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের ১০ লক্ষ পরিবারের অ্যাকাউন্টে সরাসরি দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পৌঁছে দিলেন।

Advertisement
 যতখুশি বাড়ি তৈরির টাকা দেবে কেন্দ্র, পশ্চিমবঙ্গ আবাস  নিয়ে বড় ঘোষণা শুভেন্দুরপশ্চিমবঙ্গ আবাস নিয়ে বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

বাংলায় সরকার গঠনের তিন মাসের মধ্যে ফের বড় ঘোষণা করলেন  মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জমানার ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের নাম পাকাপাকিভাবে বদলে ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’ করা হল আজ থেকে। বৃহস্পতিবার নবান্ন সভাঘর থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই নতুন নামাঙ্কিত প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের ১০ লক্ষ পরিবারের অ্যাকাউন্টে সরাসরি দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পৌঁছে দিলেন।

প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের নাম ছিল ‘প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা’। বাংলায় তৎকালীন  মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়  সেই নামে আপত্তি তুলে দরিদ্রদের মাথার উপর ছাদ গড়ে দেওয়ার প্রকল্পের নাম বদলে রাখেন ‘বাংলার বাড়ি’। এবার বদলের বাংলায় তা ফের নতুন নাম পেল।শুভেন্দু অধিকারীর সরকার ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের নাম বদলে রাখল ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’। সেইসঙ্গে দল, ধর্ম, সম্প্রদায় না দেখে আবাসের আর্থিক সুবিধা দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। 

বৃহস্পতিবার নবান্নের এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রায় ১০.২০ লক্ষ উপভোক্তাকে দ্বিতীয় কিস্তির (মাথাপিছু ৬০ হাজার করে টাকা) বরাদ্দ বাবদ ৬১২২.২৭ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আগে দিদি, পিসি, তৃণমূল দিয়েছে বলা হত। আমরা তা করব না। ধর্ম, দল, সম্প্রদায় না দেখে শুধুমাত্র যোগ‍্য উপভোক্তা কিনা যাচাই করে বরাদ্দ দেওয়া হবে।' মোট ৩০ লক্ষের মধ্যে ১২ লক্ষ উপভোক্তা দু’টি কিস্তির টাকাই পেয়ে গিয়েছেন। বাকি ১৮ লক্ষের মধ্যে এ দিন ১০.২০ লক্ষ উপভোক্তাকে টাকা দেওয়া হল। এখনও যাচাই চলছে। তার রিপোর্টের পরে বাকিদের দেওয়া হবে। 

সরকার জানিয়েছে, এই পুনর্যাচাইয়ে সাড়ে ১২ হাজার উপভোক্তা  আবাস যোজনায় অযোগ্য বলে চিহ্নিত হয়েছেন। এসআইআরের সময় নাম বাদ গিয়েছিল এবং অযোগ্য উপভোক্তা হিসেবে সেই ধরনের ৫৭ হাজার ব‍্যক্তি চিহ্নিত হয়েছে। পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, 'অযোগ্যদের থেকে টাকা ফেরানোর কাজ শুরু হয়েছে। এখনই এক হাজারের থেকে অর্থ ফিরিয়েছে রাজ্য।'

 নবান্ন সভাঘরে সাংবাদিক বৈঠক করে শুভেন্দু অধিকারী জানান, ‘এতদিন তৃণমূল সরকারের আপত্তি ছিল মোদীজির প্রকল্পের নাম নিয়ে। গোটা দেশে যে প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে থাকেন দরিদ্র মানুষজন, সেটা এখানে চলত না এতদিন। আমাদের স্পষ্ট কথা, এখন থেকে গোটা দেশের মতোই পশ্চিমবঙ্গেও কাজ হবে। ‘বাংলার বাড়ি’ নামটা আমরা বদলে ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’ রাখছি। আজ দ্বিতীয় কিস্তি বাবদ ৬০ হাজার টাকা উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে আমরা দিয়ে দিচ্ছি। তৃণমূলের জমানায় এই তালিকায় বহু ‘অযোগ্য’র নাম রয়েছে। সেসব চিহ্নিত করে বাদ দিয়ে আমরা দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দিচ্ছি।”  

Advertisement

উল্লেখ্য, কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা। কিন্তু তাতে তৃণমূল আমলে বঞ্চনার অভিযোগ উঠেছিল। তৎকালীন শাসক শিবিরের অভিযোগ ছিল, দরিদ্রদের পাকা বাড়ি তৈরির এই প্রকল্পে মোদী সরকার টাকা দিচ্ছে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ঘোষণা করেন, এই অর্থ রাজ্য সরকারই দেবে।  সেইমতো তালিকা তৈরি হয়। ঠিক হয়, প্রতিটি বাড়ির জন্য ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। তার প্রথম কিস্তির টাকা আগেই দেওয়া হয়েছিল। এরপর রাজ্যের ক্ষমতা থেকে সরে যায় তৃণমূল কংগ্রেস। তৈরি হয় বিজেপির সরকার। ডবল ইঞ্জিন সরকারের আমলে বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের গতি এসেছে। সেইমতো আবাস যোজনার অনুদান প্রদানেও এতটুকু দেরি করল না বর্তমান সরকার।  মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আবাস যোজনায় আবেদন করলে যোগ্য ব্যক্তিরা অবশ্যই সাহায্য পাবেন। সেইসঙ্গে আশ্বাস দেন, পুজো মিটলেই আরও কয়েক লক্ষ পরিবার পাবে প্রথম কিস্তির টাকা। কেন্দ্রীয় সরকারি এই যোজনায় রাজ্যকে যতখুশি বাড়ি তৈরির আশ্বাসও দিয়েছে বলেও জানান শুভেন্দু অধিকারী।  

POST A COMMENT
Advertisement