রোজভ্যালি কেলেঙ্কারিতে গ্রেফতার
রোজভ্যালি কেলেঙ্কারিতে (Rose Valley Scam) অভিযুক্ত এক সুবিধাভোগীকে গ্রেফতার করল বিধাননগর পুলিশ (Bidhannagar Police)। ধৃত ব্যক্তির নাম সুদীপ্ত রায়চৌধুরী। গত ৯ সেপ্টেম্বর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) দায়ের করা অভিযোগে প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। যদিও তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি অভিযুক্তের।
এফআইআরে ইডি উল্লেখ করেছে, যে তারা লক্ষ্য করেছে প্রতারণার অভিপ্রায় নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে একটি অসাধু প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছিল। ইডি জানাচ্ছে, বিভিন্ন তথ্য জাল ও সুপার ইমপোজ করা হয়েছে। আর যে বা যারা এই নেপথ্যে আছে তারা এই ধরনের জাল নথি দিয়ে ভবিষ্যতে তোলাবাজিও চালাতে পারে বলে মনে করছে ইডি। এফআইআরে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এর আগেও ভুয়ো পরিচয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এমনকি দিল্লিতে ইডির প্রধান দফতরেও পাঠানো হয় সেই চিঠি। এক্ষেত্রে ইডির সন্দেহ, রোজভ্য়ালি কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত কেউই এর নেপথ্যে রয়েছে। আর এই তোলাবাজি, জালিয়াতি ও প্রতারণার চক্র চালাতে ধৃত ব্যক্তির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলেই মনে করছেন ইডির কর্তারা।
২০১৩ সালে প্রথম প্রকাশ্যে আসে রোডভ্যালি কেলেঙ্কারি। ২০১৫ সালে গ্রেফতার হন সংস্থার কর্ণধার গৌতম কুণ্ডু। আর শুধু সংস্থার কর্তাব্যক্তিরাই নয়, কেলেঙ্কারিতে নাম জড়ায় একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বেরও। গ্রেফতার হন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, তাপস পালের মত নেতারা। ইডির তথ্য অনুযায়ী বাজার থেকে প্রায় ১৭ হাজার ৫২০ কোটি টাকা তুলেছিল রোজভ্যালি। তবে অল ইন্ডিয়া স্মল ডিপোজিটার্স অ্যাসোসিয়েশানের তথ্য অনুযায়ী সেই অর্থের পরিমানটা প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। শুধু মাত্র পশ্চিমবঙ্গই নয়, অসম ও বিহার থেকেও টাকা তোলে এই সংস্থা। বর্তমানে ঘটনায় তদন্ত চালাচ্ছে সিবিআই ও ইডি। এবার সেই তদন্তেই গ্রেফতার সুদীপ্ত রায়চৌধুরী। এখন দেখার ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আর কী কী তথ্য পান তদন্তকারীরা।