ইন্ডিয়া জোটের পাল্টা মিছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি ও অন্যান্য বিরোধীদের ধারাবাহিক বিক্ষোভের পালটা হিসেবে পথে নামল বিজেপিও। বিরোধীদের ‘মিথ্যাচার ও অরাজকতা’র বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে গেরুয়া শিবির। সেই কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে সোমবার কলকাতার রাজপথে মহামিছিল করল বিজেপি। কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত আয়োজিত এই মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন।
রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী জোটের সমাবেশের পরের দিন রাস্তায় নামে বিজেপি। তারই অংশ হিসেবে এদিন কলকাতায় মিছিল হল। কলেজ স্ট্রিট থেকে শুরু হওয়া এই মিছিল শেষ হয় ধর্মতলায়। মিছিলের নেতৃত্বে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনের সঙ্গে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। জাতীয় পতাকা হাতে এই মিছিলে জনসমাগম হয়েছে চোখে পড়ার মতো।
কী বললেন শুভেন্দু?
কলেজ স্ট্রিট থেকে ধর্মতলা ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হঠাও’ মিছিল শেষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিরোধীদের নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, 'দুর্নীতি থেকে বাঁচার জন্য। জেলে যাওয়া থেকে বাঁচার জন্য। পরিবারকে টিকিয়ে রাখার জন্য। আর তোষণের রাজনীতিকে ফিরিয়ে আনার জন্য যারা এক হয়েছে, তাদের বলে রাখি, ভারতীয় জনতা পার্টি ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে ২ কোটি ৯২ লক্ষ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছে। আর SIR মানে, অনুপ্রবেশকারী হঠাও, ভারত বাঁচাও। তাই আজকে এরা অরাজকতা তৈরি করতে চাইছে।' সেইসঙ্গে শুভেন্দু যোগ করেন, 'দিমাগি নকশাল, জেহাদি, জঙ্গি, মাওবাদী, পরিবারবাদী, ভ্রষ্টাচারী, এইসবকে উপড়ে ফেলার কাজ আমাদের করতে হবে।' জনতাকে মুখ্যমন্ত্রীর সাবধানবাণী, 'আরশোলা, ছারপোকা, টুকরে টুকরে গ্যাং থেকে সাবধান থাকবেন।' সেইসঙ্গে হুঙ্কার দেন, 'আগামিদিনে কলকাতা ও হাওড়া পৌরনিগম নির্বাচনে ওদের সাফ করে জবাব দিয়ে দেব।'
নিতিন নবীনের বক্তব্য
পদযাত্রা শেষে সমাবেশ থেকে নিতিন নবীন দাবি করেন, ৪ মে পশ্চিমবঙ্গে অরাজকতার দিন শেষ হয়ে গিয়েছে। তিনি বলেন, 'দিদি ক্ষমতা থেকে গিয়েছেন, আর পশ্চিমবঙ্গ থেকে অরাজকতার নাম-নিশানও মুছে গিয়েছে। এখনও কিছু লোক রয়ে গিয়েছেন। যারা রামলীলা ময়দানে গিয়ে হারের হতাশা, নিরাশার জন্য চোখের জল ফেলেছেন। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ যেমন জবাব দিয়েছে, এ বার দেশের মানুষও জবাব দেবে।'