কলকাতায় মৌলালিতে প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে ভাঙচুর। বিজেপি নেতা রাকেশ সিংয়ের নেতৃত্বে এই হামলা হয় বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, বিহারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও তাঁর মাকে নিয়ে অশালীন মন্তব্যের প্রতিবাদেই ভাঙচুর করা হয়েছে বিধান ভবনে। অভিযোগ, প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে ঢুকে সনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী-সহ অনেক নেতার ছবিতে কালি লেপে দেওয়া হয়েছে। ছিঁড়ে দেওয়া হয়েছে পোস্টার ও ব্যানার। পাল্টা কংগ্রেস জানিয়েছে, এটাই বিজেপির সংস্কৃতি।
অভিযোগ, রাকেশ সিংয়ের নেতৃত্বে একদল বিজেপি সমর্থক বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ মৌলালিতে প্রদেশ কংগ্রেসের সদর দফতরে গিয়ে তাণ্ডব চালান। লোকসভার বিরোধী দলনেতা শ্রী রাহুল গান্ধীর ছবি-সহ একাধিক ব্যানার ও পোস্টার ছিঁড়ে দেন। রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ কংগ্রেসের। প্রদেশ কংগ্রেসের এই হামলার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। থানায় অভিযোগ জানানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার।
বিহারের দারভাঙায় রাহুল গান্ধীর 'ভোটার অধিকার যাত্রা'-র সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রয়াত মায়ের বিরুদ্ধে অশালীন ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বুধবারের ঘটনার পর বিজেপি বেশ কয়েকটি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। বুধবার দারভাঙায় কংগ্রেস ও আরজেডি নেতাদের নেতৃত্বে যাত্রা চলাকালীন একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। এতে মঞ্চ থেকে একজন ব্যক্তিকে অশালীন ভাষা ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছে। ভিডিওটির সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে বিজেপি বলেছে যে এটি আরজেডি ও কংগ্রেসের নির্বাচনী রাজনীতির একটি অংশ। যা নিয়ে কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রাহুল গান্ধীকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, 'বিহারের দারভাঙায় কংগ্রেস ও আরজেডি-র মঞ্চ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদী এবং তাঁর প্রয়াত মায়ের বিরুদ্ধে যেভাবে অশালীন ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে, তা কেবল নিন্দনীয়ই নয়, আমাদের গণতন্ত্রের উপর কলঙ্কও বটে। রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে কংগ্রেসের রাজনীতি সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে। একজন দরিদ্র মায়ের ছেলে গত ১১ বছর ধরে প্রধানমন্ত্রীর পদে বসে আছেন এবং তাঁর নেতৃত্বে দেশকে ক্রমাগত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, তা তারা সহ্য করতে পারছে না। এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে কংগ্রেস দল তার আচরণ এবং চরিত্রে ফিরে এসেছে, যার মাধ্যমে তারা সর্বদা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে বিষাক্ত করার কাজ করেছে। গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রীর সময় থেকে আজ পর্যন্ত, গান্ধী পরিবার মোদীজির বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর কোনও কসরত বাকি রাখেনি। কিন্তু এখন তারা শালীনতার সমস্ত সীমা অতিক্রম করেছে। এটি প্রতিটি মা, প্রতিটি পুত্রের প্রতি অপমান, যার জন্য ১৪০ কোটি দেশবাসী তাদের কখনও ক্ষমা করবে না।'