WBIDCL CAG Report: ফ্লিপকার্টের সঙ্গে জমি চুক্তিতে বিরাট লোকসান হয়েছে রাজ্যের, CAG রিপোর্টে ফাঁস

হরিণঘাটা শিল্পতালুকে অবস্থিত এই ক্যাম্পাসেই রয়েছে ফ্লিপকার্টের দেশের বৃহত্তম ফুলফিলমেন্ট সেন্টার, যা পশ্চিমবঙ্গে সংস্থাটির বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। ৫০ লক্ষ কিউবিক ফিট সংরক্ষণ ক্ষমতাসম্পন্ন এই অত্যাধুনিক কেন্দ্রটি ছয়টি মেজানাইন স্তরে বিস্তৃত। ২০২২ সালে এই ফুলফিলমেন্ট সেন্টারের উদ্বোধন করা হয়। CAG রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৭ সালের অগাস্টে রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ১,৩২৬.৯৩ একর জমি শিল্পের জন্য WBIDCL-কে দেওয়া হবে। WBIDCL-এর প্ল্যান ছিল তিনটি পর্যায়ে বিরাট শিল্প পার্ক গঠন করা হবে।

Advertisement
ফ্লিপকার্টের সঙ্গে জমি চুক্তিতে বিরাট লোকসান হয়েছে রাজ্যের, CAG রিপোর্টে ফাঁসCAG রিপোর্টে বিপুল লোকসান প্রকাশ্যে
হাইলাইটস
  • বিপুল পরিমাণ লোকসান গোপন করেছিল তৃণমূল সরকার
  • জমির মূল্য একর প্রতি ৬৩ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা ধার্য করা হয়েছিল
  • ৫৫.৮৯ একর জলাশয়, যা শিল্পায়নের কাজে ব্যবহারযোগ্য নয়

পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের পরে একের পর এক রিপোর্টে বোঝা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি কতটা ফাঁপা হয়ে আছে! এ বার ওয়েস্ট বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশ লিমিটেড (WBIDC)-এর বিপুল পরিমাণ লোকসান ধরা পড়ল CAG (কন্ট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল) রিপোর্টে। দেখা যাচ্ছে, লোকসানের পরিমাণ ১২.৩৬ কোটি টাকা। 

বিপুল পরিমাণ লোকসান গোপন করেছিল তৃণমূল সরকার
 
কেন এত টাকার ক্ষতি? CAG রিপোর্ট বলছে, নদিয়ার হরিণঘাটান শিল্পতালুকে ই-কমার্স সংস্থা ফ্লিপকার্টের লজিস্টিক্স শাখা ইনস্টাকার্ট সার্ভিসেসকে জমি বরাদ্দ করতে গিয়ে ১২ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছে WBIDC। পশ্চিমবঙ্গ শিল্পোন্নয়ন নিগম প্রকল্প এলাকার মধ্যে থাকা বৃহৎ জলাশয়গুলির বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়েই জমির বেস প্রাইস নির্ধারণ করেছিল। সংস্থার নিজস্ব মূল্য নির্ধারণ নীতির বাইরে গিয়ে এভাবে দাম গণনা করায় ১২ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। আরও গুরুতর বিষয় হল, এই ক্ষতির অঙ্ক সম্পূর্ণ চেপে গিয়েছিল বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকার। ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরের CAG রিপোর্ট প্রকাশ্যেই আনেনি মমতার সরকার। 

হরিণঘাটা শিল্পতালুকে অবস্থিত এই ক্যাম্পাসেই রয়েছে ফ্লিপকার্টের দেশের বৃহত্তম ফুলফিলমেন্ট সেন্টার, যা পশ্চিমবঙ্গে সংস্থাটির বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। ৫০ লক্ষ কিউবিক ফিট সংরক্ষণ ক্ষমতাসম্পন্ন এই অত্যাধুনিক কেন্দ্রটি ছয়টি মেজানাইন স্তরে বিস্তৃত। ২০২২ সালে এই ফুলফিলমেন্ট সেন্টারের উদ্বোধন করা হয়। CAG রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৭ সালের অগাস্টে রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ১,৩২৬.৯৩ একর জমি শিল্পের জন্য WBIDCL-কে দেওয়া হবে। WBIDCL-এর প্ল্যান ছিল তিনটি পর্যায়ে বিরাট শিল্প পার্ক গঠন করা হবে।

জমির মূল্য একর প্রতি ৬৩ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা ধার্য করা হয়েছিল

তত্‍কালীন সরকার WBIDCL-কে হরিণঘাটায় মোট ৩৫৮.১৯ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য ২০৬ কোটি ৭৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছিল। ২০১৮ সালের মার্চ মাসে এই অর্থ ভূমি ও ভূমি সংস্কার এবং উদ্বাস্তু ত্রাণ ও পুনর্বাসন দফতরকে প্রদান করা হয়। একই বছরের অক্টোবর মাসে ডব্লিউবিআইডিসি ওই জমি অধিগ্রহণ করে। ওই বছরেরই অগাস্টে হরিণঘাটা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গ শিল্পোন্নয়ন নিগম আগ্রহপত্র বা EoI জারি করে। সেখানে 'যেমন আছে, যেখানে আছে' ভিত্তিতে ৯৯ বছরের লিজের জন্য জমির মূল্য একর প্রতি ৬৩ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা ধার্য করা হয়।

Advertisement

এর পরের মাস অর্থাৎ ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরেই ফ্লিপকার্টের লজিস্টিক্স সংস্থা ইনস্টাকার্ট সার্ভিসেস হরিণঘাটায় একটি আঞ্চলিক বিতরণ কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য ১০৭.৩৫ একর জমির আবেদন করে। সংস্থাটি এই প্রকল্পে ৯৯১ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব দেয়। WBIDCL বোর্ড সেই প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়। এবং অক্টোবরে জমি বরাদ্দ করা হয় ফ্লিপকার্টকে। মন্ত্রিসভার স্ট্যান্ডিং কমিটি ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে প্রস্তাব পাস করে দেয়। এরপর ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে ইনস্টাকার্টকে ৬৮.১৬ কোটি টাকায় জমি দেয়। ২০১৯ সালের এপ্রিলে জমির পজেশন পায় ইনস্টাকার্ট।

 ৫৫.৮৯ একর জলাশয়, যা শিল্পায়নের কাজে ব্যবহারযোগ্য নয়

এরপর ২০২০ সালের মার্চ মাসে ইনস্টাকার্ট সার্ভিসেসকে অতিরিক্ত ১.৭৭ একর জমি ১ কোটি ৭ লক্ষ টাকায় বরাদ্দ করা হয়। ওই জমির দখল সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয় ২০২০ সালের জুন মাসে। পরবর্তীকালে ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মোট ১০৯.১২ একর জমির জন্য ইনস্টাকার্টের সঙ্গে ৯৯ বছরের লিজ চুক্তি সম্পাদিত হয়। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে এই জমি বরাদ্দ প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখে CAG জানায়, হরিণঘাটা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের লেআউট প্ল্যান অনুযায়ী প্রকল্প এলাকায় ৫৫.৮৯ একর জলাশয় রয়েছে, যা শিল্পোন্নয়নের কাজে ব্যবহারযোগ্য নয়।

ফলে শিল্পের জন্য প্রকৃতপক্ষে বরাদ্দযোগ্য জমির পরিমাণ ছিল ৩০২.২৯৯ একর। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ শিল্পোন্নয়ন নিগম জমির একর-পিছু মূল্য নির্ধারণের সময় মোট ৩৫৮.১৯ একর জমিকেই হিসাবের ভিত্তি হিসেবে ধরে, যার মধ্যে ওই জলাশয়ের অংশও অন্তর্ভুক্ত ছিল। CAG-র রিপোর্ট বলছে, শিল্পের জন্য ব্যবহারযোগ্য জমির পরিমাণ ধরে পুনরায় হিসেব করলে জমির বেস প্রাইস একর প্রতি ৭৫ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ শিল্পোন্নয়ন নিগম ইনস্টাকার্টের কাছ থেকে একর প্রতি ৬৩ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা হারে মূল্য আদায় করে।

এই হিসেবে, ১০৯.১২ একর জমির জন্য ইনস্টাকার্টের কাছ থেকে লিজ প্রিমিয়াম বাবদ ৮২ কোটি ৯ লক্ষ টাকা আদায় করা উচিত ছিল। কিন্তু WBIDCL আদায় করেছে মাত্র ৬৯ কোটি ২৩ লক্ষ টাকা। ফলে ১২ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকার ঘাটতি হয়েছে। তবে ২০২৩ সালের মে মাসে রাজ্য সরকার CAG-কে জানায়, ২০১৮ সালের জুলাই মাসে ডব্লিউবিআইডিসির পরিচালন পর্ষদ (বোর্ড) বিস্তারিত আলোচনার পর একর প্রতি ৬৩ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা বেসপ্রাইস অনুমোদন করেছিল। একই ভিত্তিতে জমি বরাদ্দের প্রস্তাব রাজ্য মন্ত্রিসভাও অনুমোদন করেছিল।

POST A COMMENT
Advertisement