Calcutta HC slams West Bengal Govt: বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার মামলায় রাজ্যের উপর ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট, কেন?

এবারের বিধানসভা ভোটে সীমান্তে কাঁটাতারের বিষয়টিকে অন্যতম ইস্যু করেছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোট। আর তার আগেই সীমান্তে বেড়া দেওয়ার ইস্যুকে কেন্দ্র করে ফের কলকাতা হাইকোর্টের ক্ষোভের মুখে পড়ল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের অধিগৃহীত জমি প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের হাতে তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্যের মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কলকাতা হাইকোর্ট। শুধু তাই নয় ২৫ হাজার টাকার জরিমানাও ধার্য করা হয়েছে।

Advertisement
বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার মামলায় রাজ্যের উপর ক্ষুব্ধ হাইকোর্ট, কেন?পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে তিরস্কার কলকাতা হাইকোর্টের

এবারের বিধানসভা ভোটে সীমান্তে কাঁটাতারের বিষয়টিকে অন্যতম ইস্যু করেছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় দফার ভোট। আর তার আগেই  সীমান্তে বেড়া দেওয়ার ইস্যুকে কেন্দ্র করে ফের কলকাতা হাইকোর্টের  ক্ষোভের মুখে পড়ল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের অধিগৃহীত জমি প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের হাতে তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্যের  মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কলকাতা হাইকোর্ট। শুধু তাই নয় ২৫ হাজার টাকার জরিমানাও ধার্য করা হয়েছে।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বেড়া দেওয়ার জন্য সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে (BSF) জমি হস্তান্তরের আদালতের আদেশ পালনে ব্যর্থ হওয়ায় ৪ কলকাতা হাইকোর্ট পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে তিরস্কার করেছে। আদালত উল্লেখ করেছে, ১২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ কাঁটাতারের  মধ্যে সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে এ পর্যন্ত মাত্র আট কিলোমিটার হস্তান্তর করা হয়েছে। আগামী ১৩ মে হাইকোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।

প্রসঙ্গত, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের এ রাজ্যের ১২৭ কিলোমিটার জমিতে কাঁটাতারের বেড়া  দেওয়ার দাবিতে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় রাজ্যের রিপোর্টে চরম ক্ষুব্ধ ছিল কলকাতা হাইকোর্ট।, ২৭ জানুয়ারি প্রধান বিচারপতি সুজয় পলের নেতৃত্বাধীন একটি ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে, ইতিমধ্যে অধিগ্রহণ করা/কেনা ১২৭ বর্গ কিলোমিটার জমি, যার জন্য রাজ্য সরকার কেন্দ্র থেকে ক্ষতিপূরণ পেয়েছে, তা ৩১  মার্চের মধ্যে বিএসএফ-এর কাছে হস্তান্তর করতে হবে। 

হলফনামা দাখিলের নির্দেশ
মার্চ মাসের শেষ নাগাদ নয়টি জেলার সম্পূর্ণ ১২৭ কিলোমিটার জমি বিএসএফ-কে হস্তান্তর না করায় রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করে হাইকোর্ট ২২ এপ্রিল রাজ্য সরকারকে দুই সপ্তাহের মধ্যে একটি বিস্তারিত হলফনামা দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছিল। এই হলফনামায় জানুয়ারি মাসের আদেশ পালনে গৃহীত পদক্ষেপগুলো উল্লেখ করতে হবে। আদালতের নির্দেশিত ১২৭ কিলোমিটারের পরিবর্তে রাজ্য সরকার মাত্র আট কিলোমিটার জমি হস্তান্তর করায় আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করে।

আদালত কী বলেছে?
আদালত মন্তব্য করেছে, 'এটা আশ্চর্যজনক ও হতবাক করার মতো যে, জাতীয় গুরুত্বের একটি বিষয়ে প্রতিবাদী রাজ্য হলফনামার মাধ্যমে তার রিপোর্ট দাখিল করা সমীচিন মনে করেনি।' আদালত আরও বলেছে, 'একটি অস্পষ্ট ও এড়িয়ে যাওয়ার মতো রিপোর্ট দাখিল করা হয়েছে, যেখানে এই আদালতের ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখের আদেশের পর জমি হস্তান্তরের জন্য গৃহীত পদক্ষেপের তারিখ ও স্থান উল্লেখ করা হয়নি।'

Advertisement

জরিমানা দিতে বলল আদালত
রাজ্যের সীমান্তে বেড়া না দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আগেই বিজেপি অভিযোগ করেছিল, রাজ্য সরকার জমি দিচ্ছে না বলে বাংলার সঙ্গে বাংলাদেশ সীমান্তের অনেকাংশে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া যাচ্ছে না। আর সেই অংশ দিয়ে অনুপ্রবেশ হচ্ছে। এবার সেই নিয়ে মামলা ওঠায় প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকারের পূর্ণাঙ্গ তথ্য না দেওয়া অত্যন্ত গাফিলতির পরিচয় দিয়েছে। তাই আদালত সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে ২৫ হাজার টাকার ব্যক্তিগত জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এবং স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই জরিমানার টাকা ১৫ দিনের মধ্যে কলকাতা হাইকোর্টের আইন পরিষেবা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিতে হবে।

১৩ মে পরবর্তী শুনানি
হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি বেঞ্চ আরও নির্দেশ দিয়েছে, রাজ্যকে সবিস্তার হলফনামা আকারে রিপোর্ট দিয়ে জানাতে হবে ১২৭ কিলোমিটার অধিগৃহীত জমি সীমান্ত রক্ষাকারী BSF-এর হাতে তুলে দেওয়ার জন্য কী পদক্ষেপ করা হয়েছে। কেন এতদিন ধরে জমি হস্তান্তর হয়নি এবং কাজ কেন এগোয়নি, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে। জানা গিয়েছে, এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৩ মে। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনার জেরে সীমান্ত নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক উদাসীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। 

জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তর করার নির্দেশ চেয়ে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুব্রত সাহার দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানির সময় আদালত এই পর্যবেক্ষণটি করে।
 

POST A COMMENT
Advertisement