বাংলায় প্রথমবারের জন্য 'অস্থায়ী' বিরোধী দলনেতা,তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর লড়াইয়ের ফলে প্রথমবারের জন্য বিরোধী দলনেতা নিয়ে দীর্ঘ টানাপোড়েন দেখছে রাজ্যবাসী। বিধানসভা থেকে দড়ি টানাটানি পৌঁছে গিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত। ৪ মে ভোটের ফলাফল, ৯ মে নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ নিলেও এখনও 'স্থায়ী' বিরোধী দলনেতা পায়নি বিধানসভা। কারণ মঙ্গলবার আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ যে শুনানি শোনাল, তাতে আপাতত ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা থাকলেও, ২ মাস যে তিনিই বিরোধী দলনেতা থাকবেন তার নিশ্চয়তা নেই।
আসলে কী ঘটনা ঘটেছে? ঘটনা পরপর বুঝে নিন
৪ মে ভোটে প্রাক্তন শাসক দল তৃণমূলের ভরাডুবি হতেই ভেঙে খান খান হয়ে যায় ঘাসফুল শিবির। একদিকে মমতাপন্থী তৃণমূল, অন্যদিকে সংখ্যাগুরু বিধায়ক নিয়ে নিজেদেরই আসল তৃণমূল দাবি করেন ঋতব্রত শিবিরের নেতারা। বিতর্ক দল পেরিয়ে পৌঁছায় বিধানসভাতেও।
বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে মমতাপন্থী তৃণমূলের একাংশ শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করেছিল। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থন করে ৫৮ জন বিধায়কের স্বাক্ষর-সহ চিঠি স্পিকারের কাছে জমা পড়ে। এরপরে স্পিকার ঋতব্রতকে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসাবে স্বীকৃতি দেন। কিন্তু সেখানে থামেনি বিতর্ক। বরং বিতর্কের সূত্রপাত সেটাই।
স্পিকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। জানতে চাওয়া হয়, একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট একজনের নাম প্রস্তাব করা সত্ত্বেও কীভাবে অন্য এক বিধায়ককে বিরোধী দলনেতা হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হল?
তবে আদালতের রায় শেষ পর্যন্ত যায় ঋতব্রতের দিকেই। স্পিকারের সিদ্ধান্তের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিতে রাজি হয়নি বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের সিঙ্গল বেঞ্চ।
সিঙ্গল বেঞ্চের রায় চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে
সিঙ্গল বেঞ্চের রায়েও থেমে না থেকে কলকাতা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে আর্জি জানায় মমতা পন্থী TMC টিম। বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি অজয় কুমার গুপ্তের বেঞ্চে স্পিকারের সিদ্ধান্তের উপর অন্তর্বর্তী হস্তক্ষেপের আর্জি জানানো হয়।
কিন্তু গতকাল এই ডিভিশন বেঞ্চেও ধাক্কা খায় মমতাপন্থী তৃণমূল। ডিভিশন বেঞ্চ মঙ্গলবারের নির্দেশে জানিয়েছেন, এই মামলায় হস্তক্ষেপ করছেন না তাঁরা। তবে মামলার বিষয়ে আগামী দু'মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে, সিঙ্গেল বেঞ্চকে জানিয়ে দেয় ডিভিশন বেঞ্চ।
আগামী ২ মাসের জন্য ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা
ডিভিশন বেঞ্চের এই সিদ্ধান্তের ফলে আপাতত আগামী ২ মাস ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্যায়ই বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে থাকছেন। স্পিকারের সিদ্ধান্ত মেনেই তিনি কাজ করবে এখন। এরপর সিঙ্গেল বেঞ্চ শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের মামলাটি আগামী ২ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করবে।
সুপ্রিম কোর্টের রাস্তা খোলা
এখন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্যায়ই। তবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় চাইলে এখনও দ্বারস্থ হতে পারেন সুপ্রিম কোর্টেও। যদিও শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় নিজে জানিয়েছেন, আপাতত সিঙ্গেল বেঞ্চ কী জানায়, তার জন্য তাঁরা অপেক্ষা করবেন।