অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা হাইকোর্টে ভর্ৎসনার মুখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ডিজে বাজানো মন্তব্য নিয়ে হওয়া মামলায় কেন তিনি ভয়েস স্যাম্পেল দিচ্ছেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠল শুক্রবার আদালতে। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের প্রশ্ন, 'অভিষেক গলার স্বর দিতে যাচ্ছেন না কেন?' তিনি স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিলেন, তৃণমূলের সাংসদ তদন্তে সহযোগিতা না করলে তাঁকে দেওয়া রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হলেন তিনি।
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে একাধিকবার প্রচারে বেরিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে শোনা গিয়েছিল, '৪ তারিখ রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গেই ডিজে বাজবে। আর এমন জোরে বাজানো হবে, কান ঝালাপালা হয়ে যাবে।' এই মন্তব্য প্ররোচনামূলক বলে অভিযোগ তুলে রাজ্যে পালাবদলের পর তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলার তদন্তের মাঝেই বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে রিট পিটিশন দাখিল করেন। মামলার শুনানিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে রক্ষাকবচও দেওয়া হয়েছিল গত ২১ মে। আগামী ২৮ জুলাই পর্যন্ত বহাল রয়েছে সেই নির্দেশ। অর্থাৎ এর মাঝে তাঁকে গ্রেফতার করা বা কোনও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না।
এরই মাঝে তদন্তের অগ্রগতির সময়ে বিধাননগর আদালত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে গলার স্বর পরীক্ষা করার নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আবারও একটি মামলা দায়ের করেন অভিষেক, তা-ও অন্য এজলাসে।
শুক্রবার মামলার শুনানির সময়ে অভিষেকের আইনজীবীকে চূড়ান্ত ভর্ৎসনা করেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, 'সব কিছুর একটা সীমা থাকে।' তিনি আরও জানিয়েছেন, মূল মামলা যখন রিট পিটিশন দাখিল করায় তাঁকে রক্ষাকবচ দেওয়াই হয়েছে তখন গলার স্বর পরীক্ষার নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কেন অন্য এজলাসে মামলা করা হল? সুকৌশলে তদন্ত এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে কি? প্রশ্ন তুলে বিচারপতি সাফ জানিয়ে দেন, আদালত যখন গলার স্বর পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন তখন তা মানতে বাধ্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ডিজে বাজানো মন্তব্যের মূল মামলায় তাঁকে এই শর্তেই রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল, যাতে তিনি তদন্ত সহযোগিতা করেন। তিনি সহযোগিতা করছেন না বলেই মনে করছে হাইকোর্ট। ফলে গলার স্বর না দিলে তাঁর রক্ষাকবচ তুলে নেওয়া হবে বলেও সাফ জানিয়ে দেন বিচারপতি। হাইকোর্টে ভর্ৎসিত হয়ে শেষ পর্যন্ত অভিষেকের আইজীবী অয়ন ভট্টাচার্য এদিন দ্বিতীয় মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন।
অভিষেককে আগামী ১৫ জুলাই, বুধবার বেলা ১২টায় নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে গলার স্বরের নমুনা দিতেই হবে। তাঁর আইনজীবীর অবশ্য বক্তব্য ছিল, ওই ভাইরাল বক্তব্যে অভিষেকই ডিজে বাজানো মন্তব্য করেছেন, ওই স্বর তাঁরই ফলে নতুন করে কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষার প্রয়োজন নেই বলে মনে করছেন অভিষেক। কিন্তু হাইকোর্ট তাঁকে সাফ জানিয়ে দেয়, গলার স্বর তাঁকে দিতে যেতেই হবে।
এরপরই অভিষেকের আইনজীবী জানান, যাতে আদালতে যাওয়ার সময়ে কেউ অভিষেকের গায়ে ডিম না ছোড়ে বা কোনও হেনস্থা না করে, তা যেন দেখে হাইকোর্ট। সেই আবেদনে অবশ্য সাড়া দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। ডিম যাতে না ছওড়া হয় তার জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে তবে হাজিরা আর এড়াতে পারবেন না অভিষেক।