কলকাতাকে ঘাঁটি করেও বাংলায় জঙ্গিরা হামলা চালাতে পারে? প্রাক্তন IPS যা জানাচ্ছেন...

প্রশ্ন উঠছে তবে কি কলকাতাকে ঘাঁটি করে দেশজুড়ে হিংসাত্মক কাজ করার পরিকল্পনা করছে জঙ্গিরা? কলকাতা তথা এরাজ্য কি জঙ্গিদের জন্য সেফ প্লেস হয়ে উঠছে? এই উত্তর খুঁজতেই প্রাক্তন IPS আধিকারিক নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করে bangla.aajtak.in।

Advertisement
কলকাতাকে ঘাঁটি করেও বাংলায় জঙ্গিরা হামলা চালাতে পারে? প্রাক্তন IPS যা জানাচ্ছেন...কলকাতাকে ঘাঁটি করেও বাংলায় জঙ্গিরা হামলা চালাতে পারে?
হাইলাইটস
  • বাংলায় ফাঁস জঙ্গি মডিউল চক্র।
  • জঙ্গি সন্দেহে দিল্লি পুলিশের হাতে পাকড়াও হয়েছে মোট ৮ জন।
  • ধৃতদের মধ্যে মাত্র একজন ভারতীয় নাগরিক, বাকি ৭ জনই বাংলাদেশি বাসিন্দা।

বাংলায় ফাঁস জঙ্গি মডিউল চক্র। দিনকয়েক আগেই জঙ্গি সন্দেহে দিল্লি পুলিশের হাতে পাকড়াও হয়েছে মোট ৮ জন। এরমধ্য়ে এই রাজ্যের মালদহ থেকে পাকড়াও করা হয়েছে ২ জনকে, তামিলনাড়ু থেকে গ্রেফতার হয়েছে আরও ৬ জন। ধৃতদের মধ্যে মাত্র একজন ভারতীয় নাগরিক, বাকি ৭ জনই বাংলাদেশি বাসিন্দা। 

মালদহ থেকে গ্রেফতার হওয়া উমর ফারুক ও রবিল-উল ইসলামকে জেরা করেই চোখ কপালে ওঠে দিল্লি পুলিশের। জানা গিয়েছে, এই দু'জন বাড়ি ভাড়া নিয়ে কলকাতায় থাকত। ধৃতদের মোবাইল ঘেঁটে তামিলনাড়ু থেকে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যায়, শাব্বির আহমেদ লোন নামে এক লস্কর হ্য়ান্ডেলার বাংলাদেশ থেকে এই পুরো অপারেশন চালাত। তাঁর নির্দেশেই যাবতীয় জঙ্গিমূলক কাজকর্ম চালাত এই 'স্লিপার সেল' ভুক্ত লোকেরা। 

বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই রীতিমতো চাঞ্চল্য পড়ে গিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে তবে কি কলকাতাকে ঘাঁটি করে দেশজুড়ে হিংসাত্মক কাজ করার পরিকল্পনা করছে জঙ্গিরা? কলকাতা তথা এরাজ্য কি জঙ্গিদের জন্য সেফ প্লেস হয়ে উঠছে? এই উত্তর খুঁজতেই প্রাক্তন IPS আধিকারিক নজরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করে bangla.aajtak.in। 

নজরুল ইসলাম জানান, "বাংলাই যে জঙ্গিদের জন্য আশ্রয়স্থল হয়ে উঠছে, এমন কথা বলা যাবে না। কারণ জঙ্গিরা তো শুধুমাত্র কলকাতা থেকে বা এরাজ্য থেকে গ্রেফতার হচ্ছে তা তো নয়। তামিলনাড়ু থেকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। ফলে বাংলাই যে জঙ্গিদের জন্য 'সেফ' একথা বলা যায় না।"

জঙ্গিরা কী এই রাজ্যেও আক্রমণ শানাতে পারে?

অনেকে দাবি করে থাকেন, যেহেতু এই রাজ্যে জঙ্গিরা থাকছে তাই তারা চট করে এরাজ্যে বিস্ফোরণ বা কোনও জঙ্গিমূলক কাজকর্ম ঘটাবে না। তবে প্রাক্তন IPS আধিকারিক জানিয়েছেন, "বাংলায় থেকেও জঙ্গিরা যে এই রাজ্যতেও আক্রমণ শানাবে না একথাও নিশ্চিত ভাবে বলা যায় না। কারণ, এই জঙ্গিরা মূলত নিজেদের বস-এর নির্দেশে কাজ করে। সেক্ষেত্রে তাদের হ্যান্ডেলার যদি এরাজ্যে বিস্ফোরণ ঘটাতে বলে, তবে তারা তাই করবে।"

Advertisement

সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গি অনুপ্রবেশের দায় কার?

এপ্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম বলেন, "বর্ডারে যে সিকিউরিটি মোতায়েন রয়েছে, তাঁদের দায়িত্ব হল বর্ডার সুরক্ষিত করা। কোনও অনুপ্রবেশকারী যাতে ঢুকতে না পারে তা দেখা। কিন্তু যদি কোনও কারণে অনুপ্রবেশকারী ভিতরে ঢুকে যায়, সেক্ষেত্রে রাজ্য বা কলকাতার পুলিশেরও উচিত সেই খবর জোগাড় করে ধৃতকে পাকড়াও করা। কোনও সন্ত্রাসবাদী যদি বর্ডার পেরিয়ে রাজ্যে ঢোকে ও জঙ্গিমূলক কাজ শুরু করে তাহলে পুলিশ ও BSF উভয়ের উপরেই দায় বর্তায়।"

কীভাবে রাজ্যে অনুপ্রবেশ ও নাশকতা রোধ করা যাবে?

প্রাক্তন IPS  আধিকারিক নজরুল ইসলাম জানাচ্ছেন, "সবার আগে বর্ডার সুরক্ষিত করতে হবে। ফাঁকা জায়গায় যেখানে কোনও ফেন্সিং নেই। সেই জায়গাগুলিতে ফেন্সিং বসাতে হবে। তবে বেড়া দিলেই যে অনুপ্রবেশ ১০০ শতাংশ বন্ধ হয়ে যাবে, তা আমি বলছি না। শুধু ফেন্সিং দিলে হবে না। ফেন্সিং টপকে যাতে কেউ না আসে, তা দেখতে হবে। এছাড়াও, স্থানীয় থানার লোকেদেরও এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। বর্ডার টপকে কোনও ব্যক্তি ভিতরে ঢুকে পড়লে তা যেন পুলিশের নজরে থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে। নতুন লোককে আপত্তিকর বা সন্দেহভাজন মনে হলে তাকে আটক বা পরবর্তীতে গ্রেফতারও করা যেতে পারে।"


 

POST A COMMENT
Advertisement