নজরে চন্দ্রনাথ রথ খুনের মামলাশুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুন মামলায় তদন্ত ভার গেল সিবিআই-এর হাতে। রাজ্য সরকারের অনুরোধে এই মামলার তদন্ত ভার হাতে নিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সূত্রের দাবি, তদন্তের অগ্রগতির জন্য সিবিআই-এর একটি বিশেষ টিম আজই রাজ্য সফরে আসতে চলেছে। কলকাতা পুলিশের দায়ের করা FIR-টি রি-রেজিস্টার করেছে CBI।
উল্লেখ্য, চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বক্সারের বাসিন্দা বিক্কি মৌর্য ও ময়ঙ্ক মিশ্রকে গ্রেফতার করা হয় পাশাপাশি, তাদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে বিশাল শ্রীবাস্তব এখনও বিহার STF-এর হেফাজতে রয়েছে। এই গ্রেফতারির পরই তদন্তে উঠে এসেছে, বিহার এবং পূর্বাঞ্চল এলাকার পেশাদার শ্যুটারদের একটি দলের জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্রের খবর, এই বিশাল শ্রীবাস্তবের বিরুদ্ধে হত্যা, আর্মস অ্যাক্ট সহ একাধিক মামলা রয়েছে। তদন্ত যত এগোচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর আপ্তসহায়ক হত্যা মামলায় একের পর এক তথ্য উঠে আসছে তদন্তকারীদের হাতে। পুলিশ সূত্রে খবর, CCTV ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, অপারেশনের আগে একটি নিসান মাইক্রা গাড়ি বালি টোলপ্লাজা পার করেছিল। সেই টোলপ্লাজায় UPI মারফত পেমেন্ট করা হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে। সূত্রের দাবি, ওই UPI ট্রানজাকশনের সূত্র ধরেই এখন অভিযুক্তদের খোঁজে জোরদার তল্লাশি চালানো হচ্ছে। যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে পেমেন্ট করা হয়েছিল, সেই অ্যাকাউন্টের মালিক কি শুধুই চালক, নাকি গোটা অপারেশনের মূল চক্রী, তা-ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, চন্দ্রনাথ রথকে খুনের আগে তাঁদের গাড়ির পথ আটকায় ওই নিসান মাইক্রা গাড়ি। রাস্তা আটকে দেওয়া নিয়ে দুই গাড়ির চালক ও আরোহীদের মধ্যে প্রথমে বচসা শুরু হয়। এরপরই পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং হামলার ঘটনা ঘটে বলে অনুমান তদন্তকারীদের।
উল্লেখ্য, গত ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। রাত ১০ টা থেকে ১০টা ১৫ মিনিটের মধ্যে দোহরিয়া এলাকায় তাঁর গাড়ি থামিয়ে নির্বিচারে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। গুলিবিদ্ধ হন চন্দ্রনাথ এবং গাড়ির চালক বুদ্ধদেব বেরা। দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে মধ্যমগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চন্দ্রনাথকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। তাঁর বুকে ২টি গুলি লেগেছিল। সেগুলি হৃদপিণ্ড ফুটো করে দেয়। আর অপর গুলিটি তাঁর পেটের কাছে লাগে। মাল্টি অর্গান ফেলিওর হয়ে মৃত্যু হয় তাঁর।