কলকাতায় বাল্যবিবাহ, প্রায় ৩০০ পকসো মামলা, নাবালিকা সুরক্ষায় কড়া নির্দেশ দিলেন নগরপাল 

কলকাতায় বাল্যবিবাহ ও পকসো মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে লালবাজারে কঠোর বার্তা দিলেন পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা। সম্প্রতি আলিপুর বডিগার্ড লাইনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি প্রত্যেক থানার ওসি এবং লালবাজারের শীর্ষ আধিকারিকদের স্পষ্ট নির্দেশ দেন, নাবালিকাদের নিরাপত্তা ও বাল্যবিবাহ রোধে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।

Advertisement
কলকাতায় বাল্যবিবাহ, প্রায় ৩০০ পকসো মামলা, নাবালিকা সুরক্ষায় কড়া নির্দেশ দিলেন নগরপাল ফাইল ছবি
হাইলাইটস
  • কলকাতায় বাল্যবিবাহ ও পকসো মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে লালবাজারে কঠোর বার্তা দিলেন পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা।
  • সম্প্রতি আলিপুর বডিগার্ড লাইনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি প্রত্যেক থানার ওসি এবং লালবাজারের শীর্ষ আধিকারিকদের স্পষ্ট নির্দেশ দেন, নাবালিকাদের নিরাপত্তা ও বাল্যবিবাহ রোধে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।

কলকাতায় বাল্যবিবাহ ও পকসো মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে লালবাজারে কঠোর বার্তা দিলেন পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা। সম্প্রতি আলিপুর বডিগার্ড লাইনে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি প্রত্যেক থানার ওসি এবং লালবাজারের শীর্ষ আধিকারিকদের স্পষ্ট নির্দেশ দেন, নাবালিকাদের নিরাপত্তা ও বাল্যবিবাহ রোধে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।

নগরপাল বলেন, 'কলকাতার মাটিতেই একসময় রাজা রামমোহন রায় বাল্যবিবাহ রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। অথচ আজ সেই শহরেই আবার বাল্যবিবাহের ঘটনা সামনে আসছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অনেক ক্ষেত্রেই পরিবার নাবালিকা মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে, আবার কিছু ক্ষেত্রে নাবালিকারা নিজেরাই পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করছে বলে অভিযোগ। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব ঘটনা পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় না। সন্তান প্রসবের সময় হাসপাতালে বিষয়টি ধরা পড়ছে বলে জানান তিনি।'

পুলিশ কমিশনার আরও নির্দেশ দেন, বাল্যবিবাহের খবর পাওয়া মাত্রই তা আটকাতে হবে। পাশাপাশি বিয়ের পরও যদি কোনো নাবালিকার ঘটনা সামনে আসে, তাহলে সংশ্লিষ্ট স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে পকসো ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইনে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে। তদন্তে কোনো গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না বলেও তিনি স্পষ্ট জানান।

লালবাজার সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে প্রায় ৩০০টি পকসো মামলার নিষ্পত্তি হয়নি, অনেক ক্ষেত্রে চার্জশিটও জমা পড়েনি। ফলে অভিযুক্তরা সহজেই জামিন পেয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তদন্ত ও চার্জশিট দাখিলের ক্ষেত্রে পুলিশকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, মহিলাদের বিরুদ্ধে যে কোনো অভিযোগে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার। সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত শুরু করে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি। একই সঙ্গে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, অপরাধীদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে কোনও রাজনৈতিক বিবেচনা করা যাবে না, অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

লালবাজার আরও জানিয়েছে, ফরেনসিক বিভাগের পরিকাঠামো উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাতে তদন্ত প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও কার্যকর হয়।

Advertisement

 

POST A COMMENT
Advertisement