হাইকোর্টে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় ভোট পরবর্তী হিংসা মামলার শুনানিতে হাইকোর্টে সওয়াল করতে গিয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। শুনানি শেষে তাঁকে লক্ষ্য করে কোর্ট চত্বরে চোর চোর স্লোগান দেওয়া হয়। যা নিয়ে চরম উত্তেজনা ছড়ায়। কোনওরকমে মমতাকে সেখান থেকে বের করে গাড়িতে তুলে দেন পুলিশকর্মীরা।
এদিন সকালেই প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের এজলাসে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে আচমকা আইনজীবীর পোশাকে দেখে নানা প্রশ্ন উঠতে থাকে। পরে জানা যায়, ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় সওয়াল করতে তিনি এসেছেন।
হাইকোর্টে সওয়াল করতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'আইনজীবী হিসেবে আমি এই মামলা লড়ছি। বিচারব্যবস্থাকে আমার বিনীত শ্রদ্ধা। হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে এটাই আমার প্রথম মামলা।'
তিনি আদালতে দাবি করেন, ভোটের পর রাজ্যে ভাঙচুর, হামলা ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। শিশু, মহিলা, সংখ্যালঘু, কাউকেই রেহাই দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। আদালতে ১০ জন আক্রান্তের নামের তালিকাও জমা দেওয়া হয়।
মমতা আরও অভিযোগ করেন, তফসিলি জাতিভুক্ত একটি পরিবারও আক্রান্ত হয়েছে। জাতি বা ধর্ম না দেখে বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর চলছে বলে দাবি তাঁর। পুলিশকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করার নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানান তিনি।
তাঁর অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা বাড়ি ও বাজারে আগুন লাগাচ্ছে, অথচ পুলিশ যথাযথ পদক্ষেপ করছে না। এমনকি তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে আদালতে দাবি করেন মমতা। অনেক মানুষ বাজারে বা বাড়ির বাইরে বেরোতে পারছেন না বলেও জানান তিনি।
আদালতের কাছে অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারির আবেদন জানিয়ে মমতা বলেন, 'মানুষকে রক্ষা করতে হবে।'
অন্যদিকে, কলকাতা পুলিশের আইনজীবী আদালতে জানান, নিউ মার্কেট এলাকায় একটি ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। তবে মামলায় উল্লিখিত অভিযোগগুলি অত্যন্ত বিস্তৃত এবং সব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। অনলাইনেও অভিযোগ দায়ের করার ব্যবস্থা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
পুলিশের তরফে আরও দাবি করা হয়, এত বড় আকারের হিংসা হলে তা সংবাদমাধ্যমে প্রতিফলিত হত। আদালতে পেশ করা অভিযোগগুলি অনেকটাই সাধারণ প্রকৃতির বলেও মন্তব্য করেন পুলিশপক্ষের আইনজীবী।
ছবি ও ভিডিয়োগুলির সত্যতা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয়, ঘটনাস্থল ও ঘটনার সময় যাচাই করা প্রয়োজন বলে আদালতে জানানো হয়।
নিউ মার্কেটের ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। তবে সেটিকে ভোট-পরবর্তী হিংসা বলা যাবে কি না, তা এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও আদালতে জানানো হয়।
সওয়াল-জবাব শেষে প্রধান বিচারপতি জানান, সব পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়েছে। সিদ্ধান্ত পরে জানানো হবে। সব খতিয়ে দেখে। এদিকে শুনানি শেষ হওয়ার পর মমতা বেরিয়ে আসেন এজলাস থেকে। তখনই তাঁকে দেখে চোর চোর স্লোগান দেওয়া শুরু হয়ে যায়। সেখানে জমায়েত শুরু করেন বহু সাধারণ মানুষ ও আইনজীবী।
তখনই প্রধান বিচারপতির কাছে যান মমতা ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্য়ায়। তাঁরা জানান, নিরাপত্তার কথা। সেখানে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা মমতাকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন। এদিকে মমতাকে গাড়ির দিকে নিয়ে যেতেই ভিড় আরও বাড়তে থাকে। এলাকায় উত্তেজনা ছড়াতে থাকে। কোনওরকমে নিজের গাড়ির দিকে এগোতে থাকেন মমতা। তখন তাঁকে লক্ষ্য করে চোর চোর স্লোগান দেওয়া হয়। কোনওরকমে গাড়িতে উঠে সেই এলাকা ছাড়েন তিনি।
এদিকে ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'আমার অনেক কাজ আছে। এসব উত্তর দেওয়ার মতো সময় নেই। এসব নিয়ে ভাবার মতো সময় নেই।'