চোরবাগানকাণ্ডে মৃত দিলীপ ও দীপালি ঘোষের বাড়িতে শুভেন্দু অধিকারী - নিজস্ব চিত্রচোরবাগান পদপিষ্টে মৃত ১৯ জনের বাড়িতেই গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারের তরফে ২৫ লক্ষ আর্থিক সাহায্য তুলে দিলেন সকলের হাতে। আজ অর্থাত্ বুধবার সকাল থেকে চোরবাগানে মৃতদের বাড়িতে পর পর যান শুভেন্দু অধিকারী। মৃতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। বরানগরের বাসিন্দা দিলীপ ঘোষ ও দীপালি ঘোষের বাড়িতে গিয়ে তাঁদের ছেলের দায়িত্বও নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন শুভেন্দু।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'এটা আমার কর্তব্য। ছেলেটার বাবা-মা চলে গিয়েছে। আমি বাড়ির লোককে বলেছি, আমার কাছে থাকতে চাইলে ও থাকতে পারে। আমি অভিভাবক হতে পারি। প্রতিভাবান ছেলে।'
চোরবাগানের দুর্ঘটনায় মৃত্যু দম্পতির
সপ্তমীর রাতে চোরবাগানের দুর্গাপুজো দেখতে গিয়েছিলেন বরানগরের বাসিন্দা দীপালি ও দিলীপ ঘোষ। তাঁদের একমাত্র ছেলে পৃথ্বিশ সেদিন তাঁদের সঙ্গে যাননি। মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড়ের মধ্যে হুড়োহুড়ির জেরে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। ভিড়ের মধ্যে পড়ে যান ঘোষ দম্পতি। তাঁদের উদ্ধার করে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। মৃত্যু হয় দু’জনেরই। বাবা-মাকে একসঙ্গে হারিয়ে দিশাহারা পৃথ্বিশ। সম্প্রতি বি.টেক পাস করেছেন। এই পরিস্থিতিতে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে। আজ তাঁদের পাশে থাকার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
ক্ষতিপূরণ ও চাকরির আশ্বাস
চোরবাগানের ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস আগেই দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পৃথ্বিশের বাবা-মা দু’জনেই মারা যাওয়ায় তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন তিনি।
চোরবাগানকাণ্ডে তদন্তের আশ্বাস
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েও চোরবাগানের দুর্ঘটনা নিয়ে মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। ঘটনার জন্য কারা দায়ী, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে বলে জানান তিনি। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'মানুষের ভুল তো ছিলই। তদন্তকারী দেখবে কারা দোষী। কমিটি গোটাটাই খতিয়ে দেখবে। সকলেই তো মানুষ।'
চোরবাগানের এই দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। কীভাবে মণ্ডপে এমন পরিস্থিতি তৈরি হল, ভিড় নিয়ন্ত্রণে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং কোথায় গাফিলতি ছিল, তদন্তে সেই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হবে।