কুণাল ঘোষএবার সিআইডির আতশকাচের নীচে বিধায়ক কুণাল ঘোষ। সই-জাল কাণ্ডে তাঁকে নোটিস দেওয়া হয়। আগামিকাল রবিবার ভবানী ভবনে হাজিরার নির্দেশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির হতে বলা হয়েছে বেলেঘাটার বিধায়ককে। অন্যদিকে, একই সময়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও তলব করেছে CID। দু'জনকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।
শুক্রবার নোটিস দেওয়া হয় কুণালকে। রবিবার বেলা ১২টায় অভিষেককে ডাকা হয়েছে। খবর অনুযায়ী, কুণালকে যেতে বলা হয়েছে রবিবার বেলা আড়াইটে নাগাদ।
এর আগে সই-জাল কাণ্ডে কুণালের বাড়ি গিয়ে বয়ান রেকর্ড করেছিল সিআইডি। দু'জনের বয়ান মিলিয়ে দেখা হবে।
বৃহস্পতিবার প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা জেরা করা হয় অভিষেককে। সন্ধে ছ'টার মধ্যে হাজিরার নির্দেশ ছিল। সেই মতো সময় শেষ হওয়ার মিনিট পনেরো আগে তিনি পৌঁছন। রাত সাড়ে এগারোটার সময় ভবানী ভবন ছেড়ে বেরোন অভিষেক।
সই জাল কাণ্ডে ২১ দিনের জন্য রক্ষাকবচ পেয়েছেন অভিষেক। তদন্তে সহযোগিতা করার শর্তে কলকাতা হাইকোর্ট তাঁকে রক্ষাকবচ দেয়। তার আগে, তিন বার নোটিস পাঠানো হয় তদন্তকারীদের সামনে হাজির হননি ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।
এর আগে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতে যায় রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ সিআইডি-র প্রতিনিধিদল।
কী এই সই-জাল কাণ্ড?
গত ৯ মে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বোসের কাছে একটি চিঠি পাঠান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করতে চেয়ে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের তরফে বিধানসভার স্পিকারকে এই চিঠিটি দেওয়া হয়েছিল। সেই চিঠিতেই কিছু ‘অসঙ্গতি’ পাওয়া যায় বলে অভিযোগ তোলে বর্তমান শাসক দল। এই সই-জাল কাণ্ডে সেই তদন্তভার রাজ্য সরকার তুলে সিআইডি-র হাতে তুলে দেয়। তৃণমূল বিধায়ক হিসাবে ওই চিঠিতে মেয়র ফিরহাদ হাকিমেরও সই ছিল। কখন, কীভাবে সই করা হয়েছে সে বিষয়ে ফিরহাদকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি। এছাড়া তৃণমূলের আরও কয়েকজন বিধায়কের বাড়িতে হানা দিয়েছে সিআইডি। এই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চৌরঙ্গীর বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের বাড়িতেও যায় সিআইডি। তাঁদের বক্তব্য শোনা হয়। তা ভিডিয়োগ্রাফিও করা হয়।