
বাংলায় ফিরছে ফের সৌজন্য-শিষ্টাচারের রাজনীতি?বর্তমান সময়ে ভোট আসলে যেভাবে বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা অশালীন ও বিদ্বেষমূলক ভাষায় বিরোধী পক্ষকে আক্রমণ করেন তাতে রুচি, শালীনতা বা সৌজন্যে ভূলুন্ঠিত হয়। একুশের ভোটে বঙ্গ রাজনীতিতে বারবার সেউ উদাহরণ দেখা গেছে। আর বিতর্কিত মন্তব্য করার ক্ষেত্রে বাংলায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের (Dilip Ghosh) বেশ সুনাম রয়েছে। বারবার তাঁর মন্তব্য বিতর্কের ঝড় তুলেছে রাজনৈতিক মহলে। আর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দীলিপবাবুর নিশানায় থেকেছেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এমনকি ভোটের ময়দানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পায়ে আঘাত লাগার কারণে তাঁর শাড়িটি সামান্য উপরে তুলে রাখতে হয়েছিল। তা নিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতির পরামর্শ ছিল ‘শাড়ি ছেড়ে বারমুডা পরুন দিদি!’’ দিলীপের ওই বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে সেই সময় কম জলঘোলা হয়নি। কারণে অকারণে বারবার তৃণমূলনেত্রী তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে বারবার নিশানা করে থাকেন দিলীপবাবু। এবার সেই দিলীপ ঘোষেরই প্রশংসা শোনা গিয়েছে খোদ বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর গলায়। সৌজন্য-শিষ্টাচারের রাজনীতির ঝলক ফের একবার বাংলার রাজনীতিতে দেখা যাওয়ায় স্বভাবতই উল্লসিত ওয়াকিবহাল মহল।

দিলীববাবুকে কী বললেন মমতা?
১৫ অগাস্টের বিকেলে রাজভবনে চা চক্রের আয়োজন করেছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। গতবার এই চা চক্রে হাজির ছিলেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেবার চা-চক্রে মুখ্যমন্ত্রীর জন্য যে আসন নির্দিষ্ট করে রাখা হয়েছিল, সেই শূন্য আসনের ছবি ট্যুইট করে মুখ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন রাজ্যপাল। এবার অবশ্য সেই অবকাশ দেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃতীয়বার মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসে হাজির হয়েছিলেন রাজ্যপালের দেওয়া চা চক্রে। সেখানে আবার আমন্ত্রিত ছিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এবং বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। সেখানে কুশল বিনিময়ের পরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে নবান্নে চা খেতে আমন্ত্রণ জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি কালীঘাটের বাড়িতে কালীপুজোতেও দিলীপবাবুকে আমন্ত্রণ জানান মুখ্যমন্ত্রী। সূত্রের খবর, বিজেপির রাজ্য সভাপতির প্রাতর্ভ্রমণ এবং শরীর চর্চার অভ্যাসেরও নাকি প্রশংসা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
দিলীপ ঘোষের প্রতিক্রিয়া
চা খেতে খেতে মমতার সঙ্গে যে তাঁর কথা হয়েছে তা সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেছেন বিজেপি রাজ্য সভাপতিও। পুরোটাই সৌজন্য সাক্ষাত দাবি করছেন দিলীপ ঘোষ। প্রসঙ্গত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও অত্যন্ত স্বাস্থ্য সচেতন। বাড়িতে ট্রেডিমেল হাঁটা থেকে নবান্নের ছাদ, হাঁটার সুযোগ ছাড়েন না মুখ্যমন্ত্রী। দিলীপবাবু স্বীকার করেছেন স্বাধীনতা দিবসের বিকেলে রাজনৈতিক সৌজন্য দেখিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃতীয় বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী পদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানান হয়েছিল বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে। যদিও সেই অনুষ্ঠান বয়কট করেন দীলিপবাবু। এদিকে দিলীপকে মমতা নবান্নে আমন্ত্রণ জানাতেই নতুন এক জল্পনা উকি দিতে শুরু করেছে। এমনিতেই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের সম্পর্ক খুব একটা মসৃণ নয় বলেই ওয়াকিবহাল মহলের দাবি। সৌমিত্র খানের সঙ্গেও দিলীপ ঘোষের দ্বন্দ্ব রয়েছে। এই অবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৌজন্য বিনিময় বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে। কারণ রাজ্যপালের চা চক্রে মমতা নাকি দিলীপ ঘোষ ও তথাগত রায়ের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করলেও শুভেন্দুর সঙ্গে এসবের ধার ধারেননি। তাই প্রশ্ন উঠছে এই ঘটনায় একদিকে কি শুভেন্দু অধিকারীকে কৌশলী বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তেমনি অন্যদিকে রাজনৈতিক সৌজন্যের নজির রাখলেন?
অতীতেও মমতার রাজনৈতিক সৌজন্য
তবে অতীতেও বারবার রাজনৈতিক সৌজন্যের নজির গড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিমান বসু-সহ বামফ্রন্টের কয়েকজন নেতা কয়েক বছর আগে নবান্নে মমতার সঙ্গে বৈঠকে গিয়ে চা, ফিশ ফ্রাই খেয়ে এসেছিলেন। তা নিয়ে রাজনীতিতে কম জলঘোলা হয়নি। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য অসুস্থতার খবর পেয়ে বারবার ছুটে গিয়েছেন মমতা। অতীতে চিকিৎসাধীন অসুস্থ দিলীপ ঘোষকে নিজে ফোন করে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজও নাকি নিয়েছিলেন মমতা। দিল্লিতে এইমসে গিয়ে চিকিৎসার পরামর্শও দিয়েছিলেন।