শুভেন্দু অধিকারী অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে কেন ১১ পাতার ফর্ম ফিলআপ, তা নিয়ে বিতর্কের মাঝেই এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'অনেক বড় রহস্য ফাঁস হয়েছে।' সোমবার নবান্ন থেকে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের 'দুর্নীতি' নিয়ে SIT গঠনের নির্দেশ দিলেন তিনি।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'অনেক বড় রহস্য ফাঁস হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ২২ ভুয়ো অ্যাকাউন্ট পাওয়া গিয়েছে। যেখান থেকে পুরুষরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা নিচ্ছে। আরও অনেক সংখ্যক পাওয়া যাবে বলে অনুমান। ১৫টা অ্যাকাউন্ট রয়েছে মুস্তাফিজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী তুলিকার। ৬ অ্যাকাউন্ট পাওয়া গিয়েছে তারিকুল রহমানের। কেবলমাত্র জঙ্গিপুরেই ৩ হাজার ভুয়ো নাম বেরোবে। কী চিটিংবাজ! উচিত প্রাপকরা নিশ্চয়ই পাবেন।' তাঁর সংযোজন, 'বাজার থেকে একটি ঢ়্যাড়স কিনতে গেলেও টিপে দেখেন, তাহলে ফর্মে তথ্য যাচাই করা হবে না? ৩৬ হাজার টাকা দেবে সরকার, একটু সহযোগিতা করে দেখুন না। একটু ভরসা করে দেখুন না।'
শুভেন্দু আরও জানান, চন্দ্রকোণার TMC নেতা উত্তম সাউ এদিনই গ্রেফতার হয়েছেন ভুয়ো বার্ধক্য ভাতা এবং বিধবা ভাতা নেওয়ার জন্য।
এরপরই তিনি স্পষ্ট করে দেন কেন ১১ পাতার অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম ফিলআপ করতে হবে। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'জনগণের দ্বারা রিজেক্টেড নেতা ও তাঁর দলের লোকেদের বলব, অপপ্রচার না করে বুঝে নিন কেন ১১ পাতার ফর্ম ফিলআপ করতে হচ্ছে। অনুপ্রবেশকারীরা তো পাচ্ছেন, হাজার হাজার মহিলা নন এমন তৃণমূলের লোকেরাই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা লুট করছে। SIT গঠনের নির্দেশ দিয়েছি। SIR-এ নাম বাদ যাওয়া অন্তত ৩০ লক্ষ ভুয়ো লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে নাম তুলছেন। কত হাজার কোটি টাকা জনগণের কীভাবে লুট করেছে এই লুটেরাদের পার্টি, এটাই তার প্রমাণ। তৃণমূল স্তর থেকে নির্মূল করব।'
প্রসঙ্গত, ১১-১২ পাতার অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম ফিলআপ করতে গিয়ে নাকানি-চোবানি খাচ্ছেন অধিকাংশ মহিলা। ফর্ম দেখে কার্যত ভিড়মি খাচ্ছেন অনেকে। কেউ কেউ বলছেন, ৩ হাজার টাকার জন্য বাড়ির হাঁড়ির খবরও নিয়ে নিচ্ছে সরকার! তবে প্রশাসনের বক্তব্য, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বহু ভুয়ো নাম ঢুকেছিল। তাই প্রতিটি পরিবারের আর্থ-সামাজিক অবস্থান বিবেচনা করেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার দেওয়া হবে। এর আগে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের ঘোষণা করার সময়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং অগ্নিমিত্রা পল, দু'জনেই জানিয়েছিলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প যাঁরা পাচ্ছেন তাঁদের অটোমেটিক ট্রান্সফার হবে অন্নপূর্ণা যোজনায়। ফর্ম ফিলআপের প্রয়োজন পড়বে না। সেক্ষেত্রে কেন সকলকেই ফর্ম ফিলআপ করতে হচ্ছে? এই নিয়ে একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সে কারণেই সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে কারণ ব্যাখ্যা করলেন মুখ্যমন্ত্রী।