Dengue: 'ডেঙ্গিকে ডেঙ্গিই লিখবেন, অজানা জ্বর নয়,' ডাক্তারদের স্পষ্ট বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যের ডেঙ্গির পরিসংখ্যান ঊর্ধ্বমুখী। প্রায় ৩ হাজার জনের শরীরে এই রোগ থাবা বসিয়েছে। কিন্তু পূর্বের সরকারের আমলে তথ্য গোপন করার অভিযোগ ছিল। সেই নিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর সাফ বক্তব্য, ডেঙ্গি হলে ডেঙ্গিই লেখা হবে, অজানা জ্বর লেখা হবে না।

Advertisement
'ডেঙ্গিকে ডেঙ্গিই লিখবেন, অজানা জ্বর নয়,' ডাক্তারদের স্পষ্ট বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর ডেঙ্গি নিয়ে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
হাইলাইটস
  • ডেঙ্গিকে অজানা জ্বর লেখার প্রয়োজন নেই
  • ডাক্তারদের সাফ জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী
  • রাজ্যের ডেঙ্গির পরিসংখ্যান কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছে

তপসিয়ার বাসিন্দা দিপালী দাসের শরীরে একসঙ্গে থাবা বসিয়েছে ডেঙ্গি এবং ম্যালেরিয়া। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি রয়েছেন তিনি। এর আগে দমদমেও ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়ে এক নাবালকের মৃত্যু হয়েছে বর্ষায় বাড়ছে ডেঙ্গির ভয়। কিছুদিন আগেই দমদমের এক নাবালকের প্রাণ কেড়েছে মশাবাহিত এই রোগ। স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১ মাসে রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্ত ৩ হাজারেরও বেশি। কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় এখন ঘরে ঘরে জ্বর। টেস্টে কারও ধরা পড়ছে ডেঙ্গি, তো কারও ম্যালেরিয়া। কিন্তু পরিসংখ্যানে কোনও গড়মিল হবে না কিংবা ডেঙ্গিকে ডেঙ্গির বদলে 'অজানা জ্বর' বলা হবে না। এমনটাই জানাচ্ছে বর্তমান সরকার। 

চিকিৎসক অজয় সরকার বলছেন, 'ডেঙ্গি একটা রোগ যেটা সম্পূর্ণ রোখা যায়। আমরা যদি আমাদের পারিপার্শ্বিক এলাকাকে ঠিকঠাক রাখি যাতে মশা থাকতে না পারে। সেটা করলেই এই রোগটাকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।' ডেঙ্গি ভ্যাকসিনও খুব শীঘ্রই বাজারে আসবে বলে আশাবাদী তিনি।। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হবে ভ্যাকসিনেশনের মাধ্যমেই। তবে ডেঙ্গির সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান রাজ্যবাসীর মধ্যে ভয় ধরিয়েছে। এ প্রসঙ্গে BJP সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার অবশ্য বলছেন, 'আমরা ডেঙ্গিকে ডেঙ্গিই বলব, অজানা জ্বর বলব না।'। 

আসলে তৃণমূল আমলে একাধিকবার অভিযোগ উঠেছে ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়া আক্রান্ত প্রকৃত পরিসংখ্যান গোপন করার। BJP আমলে বদলেছে সেই ছবি, এমনটাই দাবি করেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রীও। শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, 'আমাদের পরিষ্কার নির্দেশ আছে, যা রোগ হবে সেটাই লিখতে হবে। আগের সরকার সংখ্যা কমাতো, রোগ লুকতো। লুকনোর কী আছে? যদি ডেঙ্গি থাকে, নিশ্চয়ই তার ব্যবস্থা হবে। চিকিৎসকদের ডেঙ্গি লিখতে গেলে ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। ডেঙ্গি হলে ডেঙ্গিই লিখবেন। না হলে না-ই লিখবেন।'

জেলাগুলোর মধ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি মুর্শিদাবাদে। দ্বিতীয় স্থানে একসঙ্গে রয়েছে কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনা। তৃতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও হাওড়া। স্বাস্থ্য অধিকর্তা স্বপন সোরেন বলছেন, 'ডেঙ্গি প্রতিরোধের জন্য সমস্ত রকম বন্দোবস্ত করা আছে। প্রত্যেকটা গ্রাম স্তরেও সচেতনতা বার্তা দেওয়া হচ্ছে। একটা নির্দিষ্ট সময় অন্তর ইনভেস্টিগেশন হচ্ছে কিনা তার পুঙ্খানুপুঙ্খ দেখে সমস্ত রিপোর্ট কেন্দ্রকে পাঠানো হয়। এই যে মশা জন্মায় এটা হচ্ছে আমাদের প্রাকৃতিক এবং আমাদের ব্যবহারগত পরিবর্তনের জন্য।'

Advertisement

ডেঙ্গি হোক বা ম্যালেরিয়া, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মশার বংশবিস্তার রুখতে নিয়মিত নজরদারি জরুরি। জ্বর হলেই দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

 

POST A COMMENT
Advertisement