CM Suvendu Adhikari Janatar Darbar Salt Lake: মুখ্যমন্ত্রী বদলাতেই ‘জনতার দরবারে’ ডাক পেলেন বঞ্চিত ও চাকরিহারা ঐক্য মঞ্চের প্রতিনিধিরাCM Suvendu Adhikari Janatar Darbar Salt Lake: নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা চোখের জল, লাঠিচার্জের ক্ষত আর রাজপথের লড়াই এবার কি তবে শেষ হতে চলেছে? রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পরেই চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার জট কাটাতে এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিলেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী মাননীয় শুভেন্দু অধিকারী। অবশেষে রাজপথের লড়াকু সৈনিকদের কথা শুনতে নিজের ‘জনতার দরবারে’ বঞ্চিতদের ডেকে পাঠালেন তিনি। ‘পশ্চিমবঙ্গ বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থী, চাকরিজীবী ও চাকরিহারা ঐক্য মঞ্চ’-এর প্রতিনিধিদের আগামী সোমবার সকালে সল্টলেকে আয়োজিত জনতার দরবারে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের জন্য নবান্নের তরফ থেকে ফোন করা হয়েছে। গত ২০ মে, বুধবারই ঐক্য মঞ্চের প্রতিনিধিরা নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের দাবিতে একটি ডেপুটেশন জমা দিয়েছিলেন। তার ঠিক তিনদিনের মাথায় এই ডাক আসায় খুশির হাওয়া আন্দোলনকারীদের শিবিরে।
ঐক্য মঞ্চের তরফে জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর এই আমন্ত্রণের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে হাজার হাজার বঞ্চিত মানুষের দীর্ঘদিনের কান্না, অপমান, রাজপথের রক্তক্ষয়ী আন্দোলন ও ন্যায়ের দাবিতে লড়াইয়ের এক দীর্ঘ ইতিহাস। এই মঞ্চের বহু সদস্য গত ৮ বছর, আবার কেউ কেউ টানা ১২-১৩ বছর ধরে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একবার দেখা করার জন্য চাতক পাখির মতো আবেদন জানিয়ে এসেছেন। কিন্তু বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে সেই আকুল আবেদন বিন্দুমাত্র গুরুত্ব পায়নি। উল্টে নিজেদের ন্যায্য পাওনা চাইতে শান্তিপূর্ণভাবে "নবান্ন চলো" কর্মসূচিতে সামিল হলে চাকরিপ্রার্থীদের কপালে জুটেছে পুলিশের ব্যারিকেড, বেধড়ক লাঠিচার্জ, জলকামান, ধরপাকড়, জেলবন্দি জীবন আর গুচ্ছ গুচ্ছ মিথ্যা মামলা ও সামাজিক অপমান।
বিগত এক দশকে যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা রাজপথে দিনের পর দিন মিছিল করেছেন, ধর্মতলায় রোদে পুড়ে-বৃষ্টিতে ভিজে ধর্ণা দিয়েছেন, দিনের পর দিন আমরণ অনশন চালিয়েছেন। কখনও লং মার্চ, কখনও বিধানসভা অভিযান তো কখনও আবার কালীঘাট অভিযানে ফেটে পড়েছে বঞ্চিতদের ক্ষোভ। কিন্তু তৎকালীন শাসকের কান পর্যন্ত পৌঁছায়নি সেই আর্তনাদ। আজ সেই দীর্ঘ লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর দরবারের দরজা খুলে গেল আন্দোলনের প্রতিনিধিদের জন্য। বর্তমানে ধর্মতলার মাতঙ্গিনী হাজরার মূর্তির পাদদেশে রাজ্য গ্রুপ ডি ওয়েটিং মঞ্চ এক টানা ১৩৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে ধর্ণা অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছে, যা বাংলার তথা দেশের চাকরি আন্দোলনের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও বিরল অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
জানা গিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ঐক্য মঞ্চের অন্তর্ভুক্ত ৫টি বড় সংগঠনকে এই সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে রাজ্য গ্রুপ ডি ওয়েটিং প্রার্থী মঞ্চ, ২০০৯ বঞ্চিত দক্ষিণ ২৪ পরগনা প্রাথমিক শিক্ষক পদপ্রার্থী মঞ্চ, NSQF শিক্ষক পরিবার, ২০১৪ নট ইনক্লুডেড প্রাথমিক টেট উত্তীর্ণ মঞ্চ এবং মাদ্রাসা সার্ভিস পাশ কমিশন মঞ্চ। যদিও প্রাথমিকভাবে এই নির্দিষ্ট মঞ্চগুলি সুযোগ পেয়েছে, তবুও ঐক্য মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত বঞ্চিত সংগঠনের পুঞ্জীভূত সমস্যাই সোমবার নতুন মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তুলে ধরা হবে। একইসঙ্গে নবান্নে সকল বঞ্চিত প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বৃহত্তর এবং উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকার আবেদনও জানানো হবে। আন্দোলনকারীদের এখন একটাই মূল স্লোগান ও দাবি, “নবান্নে বঞ্চিত মঞ্চগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি বৈঠক চাই।”