ফিরহাদ হাকিম, শুভেন্দু অধিকারী 'এটা আপনাদের পাপের ফল'। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তারাতলার ঘটনা নিয়ে ফুঁসে ওঠেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বেআইনি নির্মাণ নিয়ে পূর্বের সরকারের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।
এদিন শুভেন্দু জানান, বুধবার দুপুরে ঘটনা ঘটার ৩০ মিনিটের মধ্যেই উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছিল। কলকাতা পুলিশ, দমকল ও স্থানীয় জনগণ প্রথমে হাত লাগান। তার সঙ্গে সিভিল ডিফেন্স, NDRF, সেনা সকলে মিলে উদ্ধারকাজ শুরু করে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'সরকারের পক্ষ থেকে মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হচ্ছে। আহতদের সকলকেই ১ লক্ষ করে দেওয়া হবে।'
বিধানসভায় এদিন মুখ্যমন্ত্রীর উল্টোদিকেই বিরোধী শিবিরে বসেছিলেন কলকাতা বন্দরের তৃণমূল (ঋতব্রতপন্থী) বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম। ঘটনাচক্রে তিনি ছিলেন প্রাক্তন মেয়রও। শুভেন্দু তাঁর সামনেই বলেন, 'বিল্ডিং প্ল্যান চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে অনুমোদিত হয়েছিল। টাকা নিতে নিতে বৃহত্তর কলকাতাকে আপনারা মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছেন। এই রাজ্যের সর্বনাশ করেছেন। লোহার বিম কাটার কোনও যন্ত্র পর্যন্ত কেনেনি আগের সরকার। এই ঘটনায় প্রাক্তন মেয়রেরও যোগ রয়েছে। কেউ ছাড় পাবে না। সব প্ল্যান অডিট করা হবে। গার্ডেনরিচে ধ্বংসস্তূপে ১৪ জন চাপা পড়ে মারা গিয়েছিল। তাঁরা সকলেই মুসলিম ছিলেন, মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা। যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোট দেন। তাঁদের একজনকেও বাঁচাতে পারেনি আপনারা।'
এরপরই শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় বিল্ডিং প্ল্যানের একটি কাগজ দেখিয়ে বলেন, 'আমিনুর শেখ, নির্মলেন্দু সরকার, রঞ্জন দাস, এঁরা সকলেরই পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার। এঁদের সকলের সই রয়েছে বিল্ডিং প্ল্যানে। প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সই রয়েছে। ত্রুটিযুক্ত প্ল্যান। এরকম কত কাণ্ড করে রেখেছেন কে জানে। কাউকে ছাড়া হবে না। এসব ব্যাপারে আমাদের জিরো টলারেন্স। আমরা মানুষের জীবন নিয়ে কোনওরকম কম্প্রোমাইজ করতে দিইনি, দেবও না।'
ইতিমধ্যেই ৫ জনকে এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছেন গোডাউনের মালিক শম্ভুনাথ বেহরাও। জানা গিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছে প্রোমোটার আসগর খানের। শুভেন্দু এদিন বলেন, 'আসগরকে খুঁজছি। যদি চাপা পড়ে থাকে তাহলে আলাদা কথা। আমি চাই জীবিত বেরোক।'