মহানায়কের জন্ম শতবর্ষে বিরাট আয়োজনমহানায়ক উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে উদ্যোগী হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে ৩ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর শহরজুড়ে মেগা উৎসবের আয়োজন করেছে রাজ্য সরকার ও টলিউড ইন্ডাস্ট্রি। এদিন সকালে টালিগঞ্জে মহানায়কের মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানিয়ে যার সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
বৃহস্পতিবার সকালে টালিগঞ্জে মহানায়কের মূর্তিতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল প্রায় গোটা টলিউড। বসেছিল যেন চাঁদের হাট। কে ছিলেন না এই অনুষ্ঠানে, রঞ্জিত মল্লিক থেকে প্রসেনজিৎ, ঋতুপর্ণা, দেব, জিৎ সবাই হাজির ছিলেন। ছিলেন পরিচালক গৌতম ঘোষও, এলাকার বিধয়ক পাপিয়া অধিকারী, রুদ্রনীল ঘোষরাও। এই অনুষ্ঠানেই শুভেন্দু অধিকারী বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিলেন, গোটা দেশ আজ উত্তম কুমারের জন্য গর্বিত। সকালে ট্যুইটারে শ্রদ্ধা জনিয়েছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী মোদী। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ‘মন কি বাত’-এর ১৩৭তম পর্বে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও উত্তম কুমারকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন।
শুভেন্দু অধিকারী জানান, উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে শহরজুড়ে মহা আয়োজন করা হয়েছে। আজ থেকে ৪ দিন ধরে পালিত হবে বিশেষ শ্রদ্ধানুষ্ঠান। এই প্রসঙ্গে দেব ও জিতের কথাও একসঙ্গে শোনা গিয়েছে শুভেন্দুর মুখে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন উত্তম কুমারের জন্ম শতবর্ষের অনুষ্ঠান নিয়ে বিদেশ থেকে ফোন করেছিলেন দেব, বলেন, 'দাদা ভাল করে করতে হবে।' জিৎ-ভাইও উৎসাহিত করেছিলেন। সেইসঙ্গে প্রসেনজিৎ, গৌতম ঘোষ ও সন্দীপ রায়ের উদ্যোগের কথাও স্মরণ করেন শুভেন্দু।
মুখ্যমন্ত্রী জনিয়েছেন, উত্তম কুমার নামাঙ্কিত প্রতিষ্ঠান তৈরি করবে রাজ্য সরকার। আগামিকাল যার ভূমি পুজো হতে চলেছে। উত্তম মঞ্চকে নতুন করে সাজান হবে। উত্তম কুমারকে শ্রদ্ধা জানাতে কয়েন ও ডক টিকিট প্রকাশ করছে কেন্দ্র।
প্রসঙ্গত, এদিন বিকেলে রবীন্দ্রসদন প্রাঙ্গণ ও সংলগ্ন এলাকায় পদযাত্রা রয়েছে। সেখানে বাংলা চলচ্চিত্র জগতের ব্যক্তিত্ব, লোকশিল্পীরা তো থাকবেনই, উত্তমকুমারের সঙ্গে কাজ করেছেন যে সমস্ত অভিনেতা, অভিনেত্রী, টেকনিশিয়ান, তাঁরাও আসবেন। নন্দন চত্বর থেকে এসএসকেএম, অ্যাকাডেমি, সেন্ট পলস ক্যাথিড্রাল, বিড়লা তারামণ্ডল হয়ে গগনেন্দ্র প্রদর্শনশালা পর্যন্ত আয়োজিত হচ্ছে এই ‘ট্রিবিউট ওয়াক’। এই মিছিলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি পা মেলাবেন উত্তম কুমারের পরিবারের সদস্যরা। এরপর সন্ধ্যায় একতারা মুক্ত মঞ্চে প্রদীপ প্রজ্বালন, কেক কাটার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা রয়েছে। উত্তমকুমারের জীবন ও কাজ নিয়ে প্রদর্শনীরও উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার সকাল এগারোটায় নিউটাউনে ‘উত্তমকুমার ফিল্ম সেন্টার’-এর শিলান্যাস করবেন শুভেন্দু অধিকারী। বিকেল চারটেয় নন্দন-১-এ সত্যজিৎ রায় পরিচালিত ‘নায়ক’ সিনেমা দিয়ে সূচনা হবে ‘উত্তমকুমার ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’-এর। বিকেল পাঁচটায় ভারতীয় ডাক বিভাগ রবীন্দ্র সদনে মহানায়কের স্মরণে বিশেষ খাম ও ডাকটিকিট প্রকাশ করবে। এরপর উত্তমকুমারের সমকালীন প্রবীণ অভিনেতা, অভিনেত্রী ও কলাকুশলীদের সংবর্ধনা দেবেন কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার, সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য, তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী। সম্মানিত করা হবে মাধবী মুখোপাধ্যায়, সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়, বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায় মিঠুন চক্রবর্তী, রঞ্জিত মল্লিক, প্রভাত রায়, দীপঙ্কর দে-সহ বর্ষীয়ান অভিনেতা-অভিনেত্রীদের। শনিবার শিশির মঞ্চে রয়েছে দুটি সেমিনার, ‘নায়িকাদের চোখে উত্তমকুমার’ এবং ‘অভিনেতা উত্তমকুমার’। রবিবার চলচ্চিত্র জগতের শিল্পীরা নাচে, গানে, অভিনয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন মহানায়ককে। এ ছাড়াও একতারা মুক্তমঞ্চে প্রদীপ প্রজ্জলনের সঙ্গে কেক কেটে পায়েস খেয়ে হবে উদযাপন।
মহানায়কের জন্ম শতবর্ষে উত্তমকুমারের সিনেমার বিভিন্ন দৃশ্য দিয়ে সাজানো গাড়ি ঘুরবে শহরজুড়ে। বিভিন্ন এলাকা সাজানো হবে তাঁর ছবি দিয়ে। উত্তম কুমারের ছবি দিয়ে তৈরি কাটআউট লাগানো হবে বিজলী সিনেমা হলের সামনে। নন্দন ছাড়াও রাধা স্টুডিও-সহ বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহ জুড়ে দেখানো হবে মহানায়কের সিনেমা।