CM Suvendu Adhikari: রাজ্যে RSS-এর শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসারে বড় ঘোষণা শুভেন্দুর, বলছেন, 'দেশপ্রেম না এলে ভয়ঙ্কর হবে'

পূর্বের সরকারের আমলের সিলেবাস বেশিদিন চললে বাংলাদেশের ইসলামিক শিক্ষার সঙ্গে বেশি তফাৎ থাকত না। এমনটাই মনে করছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, মুসলমানদের শব্দ শেখানো হত সিলেবাসে, স্কলারশিপ দেওয়া হত কেবলমাত্র মুসলিম পড়ুয়াদেরই। তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে RSS-এর প্রভাব চাইছেন।

Advertisement
রাজ্যে RSS-এর শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসারে বড় ঘোষণা শুভেন্দুর, বলছেন, 'দেশপ্রেম না এলে ভয়ঙ্কর হবে'মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
হাইলাইটস
  • রাজ্যে হোক RSS-এর বিদ্যামন্দির
  • ১ বছরে ১ হাজার বিদ্যামন্দির চাইছেন শুভেন্দু
  • পূর্বের সরকারের আমলের সিলেবাসে মুসলিম শিক্ষা দেওয়ার দাবি

আগামী ১ বছরের মধ্যে RSS-এর বিদ্যাভারতীর বিদ্যামন্দির সংখ্যা এ রাজ্যে ১ হাজারে পৌঁছবে। বৃহস্পতিবার গোলপার্কে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের বিদ্যাবিকাশের বার্ষিক কার্যক্রমের মঞ্চ থেকে এমনটাই ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি চাইছেন, RSS গীতা বিতরণ, গোসালা নির্মাণ করুক রাজ্যজুড়ে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'প্রত্যেক পঞ্চায়েত, প্রত্যেক সাব ডিভিশনে, প্রত্যেক জেলা সদরে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত বিদ্যামন্দিরের পরিকাঠামো তৈরি হোক।'

মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাবে জানান, শিক্ষাক্ষেত্রে রাষ্ট্রবাদী মনোভাব রাখতে হবে। তিনি বলেন, 'এই সরকার রাষ্ট্রবাদী সরকার, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, দিনদয়াল উপাধ্যায়ের মানববাদ, স্বামী প্রণবানন্দের পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির অবদানকে সঙ্গে নিয়ে এগোবে। বিদ্যাসাগরের নারী শিক্ষাকে আরও বেশি জনপ্রিয় করার জন্য কাজ করবে, স্বামী বিবেকানন্দের ভাবনায় চলবে। দেখতে থাকুন ধীরে ধীরে আলাদা করে কোনও মাদ্রাসা এডুকেশন সিস্টেম থাকবে না। সব বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চশিক্ষা দফতর দেখবে আর আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় আলাদা করে দেখা হবে, এসব চলবে না। বিদ্যার্থী তো বিদ্যার্থী হয়, আলাদা করে মুসলিমদের কেন সংবর্ধনা জানানো হবে?' তিনি জানান, রাজারহাটে একটি বিদ্যালয় তৈরির জন্য জমিও দেওয়া হবে সরকারের পক্ষ থেকে। 

এদিন বিগত সরকারের শিক্ষা ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, 'যখন কমিউনিস্টরা রাজত্ব করত তখন মাতৃভাষার প্রচার প্রসারকে বাধা দিয়েছে। ইংরেজি ভাষার ক্ষেত্রেও তালাচাবি লাগিয়ে দিয়েছে। কম্পিউটার শিখতে দেয়নি। আগের সরকার বিগত ১০ বছরে শিক্ষার যা হাল করেছিল তা আরও কিছুদিন চললে আমাদের সংস্কৃতি, দেশপ্রেম, রাষ্ট্রবাদ সমস্ত কিছু হারিয়ে যাওয়ার প্রান্তে পৌঁছে যেত।'

সিলেবাস প্রসঙ্গে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'পড়লেই ভয়ঙ্কর। মা-কে আম্মা, আকাশকে আসমান সিলেবাসে শেখানো হয়েছিল। বাচ্চাদের প্ল্যান করে ভাষার বিকৃতি শেখানো হয়েছিল। এমন শিক্ষাব্যবস্থা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বা স্বামী বিবেকানন্দ কোনও দিন ভাবেননি।' 

মুখ্যমন্ত্রী জানান, তৃণমূলের আমলে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত কেবলমাত্র মুসলিম ছাত্রছাত্রীরাই স্কলারশিপ পেত, হিন্দু বা অন্য ধর্মের ছাত্রছাত্রীরা এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকত। তিনি বলেন, 'সিঙুরে টাটাকে তাড়ানো সিলেবাসে ছিল কিন্তু ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, স্বামী প্রণবানন্দের পশ্চিমবঙ্গ তৈরির ইতিহাস রাখা হয়নি। চাকরি চুরির দায় অভিযুক্ত পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম পাবেন কিন্তু আত্মবলিদান দেওয়া ক্ষুদিরাম বসু বা মাতঙ্গিনী হাজরার নাম খুঁজতে গেলে অনেক পাতা ওল্টাতে হবে। শিক্ষা ব্যাবস্থাকে ধ্বংসের কিনারায় নিয়ে গিয়েছিল। মানুষকে ধন্যবাদ, তারা সময় নিয়েছে কিন্তু খুব সঠিক সময়ে পরিবর্তন এনেছে। নাহলে বাংলাদেশের ইসলামিক শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে কোনও তফাৎ থাকত না।' 

Advertisement

প্রার্থনায় পূর্ণাঙ্গ বন্দে মাতরম বাধ্যতামূলক করার প্রসঙ্গও এদিন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'প্রথমে কিছুজনের আপত্তি ছিল, কেন পুরোটা গাইতে হবে। আমি বললাম, সরকারি সাহায্য নেওয়া এবং দেওয়া দু'টোই বন্ধ হবে। শিক্ষা সচিব ভিডিও পাঠালেন, দেখালাম অনেকে দাঁড়িয়ে আছেন কিন্তু ঠোঁট নড়ছে না। বললাম ঠোঁটও নাড়াতে হবে। এই সংস্কার খুব প্রয়োজন ছিল। রাষ্ট্রবাদ-দেশপ্রেম যদি না আনা যায়, ভয়ঙ্কর অবস্থা হবে।' 

মুখ্যমন্ত্রী একটি ঘটনার কথা শেয়ার করে অভিযোগ করেন, এক বাচ্চাকে কলকাতার একটি স্কুলে চন্দনের টিকা মুছিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুভেন্দুর কথায়, 'কে টিকা রাখবে, কে টিকি রাখবে কিংবা কে গলায় তুলসি রাখবে, এটা তো তার নিজের ঐতিহ্য।'


 

 

POST A COMMENT
Advertisement