CJP-র হুঁশিয়ারি সরকারকে কলকাতার 'ভারত সভা হলে' CJP-কে সভা করতে দেওয়া হয়নি। অভিযোগ করলেন উদ্যোক্তারা। তাঁদের অভিযোগ, হল মালিক জানিয়েছেন, বিজেপি নেতারা তাঁদের হুমকি দিয়েছেন। আরও ৬টি হল তাঁদের ভাড়া দেয়নি। কারণ, প্রশাসনের চাপ।
CJP-র দাবি, অভ্যন্তরীণ সভার জন্য হল বুক করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে কর্তৃপক্ষ জানায়, বিজেপির চাপের কারণে নির্ধারিত হলে বৈঠকটি করা সম্ভব হবে না। এই নিয়ে সাংবাদিকদের উদ্যোক্তারা জানান, তাঁরা সরকারের এই চক্রান্তকে নিন্দা করেন। কোনওভাবেই তাঁরা পিছু হটবেন না। কলকাতায় যে কর্মসূচি ছিল, তা চালিয়ে যাবেন।
সম্প্রতি বাঁকুড়ার ইন্দাসের করিশুন্ডা গ্রামের শেখ আবদুল হাফিজের বাবাকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠেছে। সিজেপির দাবি, আবদুল দিল্লিতে সরকার-বিরোধী আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন বলেই তাঁর বাবা শেখ মহম্মদ মাফিককে খুন করা হয়। সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়, বিজেপির কয়েকজন নেতা আবদুল এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিয়েছিল। আবদুলকে জঙ্গি বা সন্ত্রাসবাদী বলা হয়েছিল।
ঘটনার প্রতিবাদে আবদুলের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছে CJP। সংগঠনের তরফে আশুতোষ বলেন, 'আবদুল এবং তাঁর পরিবার সত্যিকারের দেশপ্রেমিক। আবদুল যে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন, তা অব্যাহত থাকবে। আবদুলের পাশে CJP-র গোটা দল রয়েছে।'
আবদুলের পরিবারের নিরাপত্তা-সহ চার দফা দাবি
ঘটনা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি পরিচালিত সরকারের কাছে চার দফা দাবি জানিয়েছে CJP। সংগঠনের তরফে অঙ্কিত জানান, প্রথমত, আবদুল এবং তাঁর পরিবারের জন্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, যারা আবদুলের উপর হামলা চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে এবং অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
তৃতীয় দাবিতে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। CJP-র অভিযোগ, ঘটনায় পুলিশের কোনও ধরনের গাফিলতি বা নিষ্ক্রিয়তা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। চতুর্থ দাবিতে আবদুলের একটি আবেদন বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। আবদুল তার বাবার নামে একটি স্কুল তৈরির জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন বলে CJP জানিয়েছে। সেই স্কুল তৈরির বিষয়েও সরকারকে উদ্যোগী হওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
১০ দিনের সময়সীমা, না হলে বাঁকুড়ায় ঘেরাও
শুভেন্দু অধিকারীর সরকারকে ১০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে CJP। সংগঠনের তরফে বিজয় রেড্ডি জানান, এই সময়ের মধ্যে সরকার দাবি পূরণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না করলে বাঁকুড়ার জেলা প্রশাসনের দফতর ঘেরাও করা হবে।
একই সঙ্গে আবদুলের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে একটি ফান্ড রেইজিং বা অর্থ সংগ্রহের অভিযান শুরু করার কথাও জানিয়েছে সংগঠনটি। ওই তহবিলের মাধ্যমে আবদুল এবং তাঁর পরিবারকে সহায়তা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
বাংলায় বন্ধ হয়ে যাওয়া স্কুল নিয়েও সরব
শুধু আবদুলের ঘটনা নয়, পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা নিয়েও সাংবাদিক বৈঠকে সরব হয়েছে CJP। তাদের দাবি, গত কয়েক বছরে বাংলায় ২ হাজারেরও বেশি স্কুল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া ওই স্কুলগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য রাজ্য সরকারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে BJP সরকারের কাছে পাঁচ দফা পরিকল্পনার দাবি
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য BJP সরকারের কাছে পাঁচ দফা পরিকল্পনা প্রকাশের আহ্বানও জানিয়েছেন আশুতোষ। তাঁর বক্তব্য, সরকার কীভাবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে চায়, সেই বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট পাঁচ দফা পরিকল্পনা প্রকাশ করা উচিত।
CJP জানিয়েছে, সরকার যদি এমন কোনও কার্যকর পরিকল্পনা সামনে আনে, তাহলে সংগঠন সেই উদ্যোগকে পূর্ণ সমর্থন করবে। অর্থাৎ, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও শিক্ষার উন্নয়নের জন্য কার্যকর সরকারি পদক্ষেপকে সমর্থন করতে তারা প্রস্তুত বলে বার্তা দেওয়া হয়েছে।
'দিমাগি নকশাল' মন্তব্য নিয়েও প্রশ্ন
এদিন 'দিমাগি নকশাল' ধরনের রাজনৈতিক মন্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলে CJP। আশুতোষের বক্তব্য, গত ১৫ বছর ধরে যে রাজনৈতিক প্লেবুক বা কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে, তা দিয়ে আর পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হবে না।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রধানমন্ত্রী কেন সাধারণ মানুষের সামনে এসে তাঁদের পরামর্শ চাইছেন না? দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সাধারণ মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।