
CJP-কে কড়া বার্তা বিজেপির ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনে উত্তাল রাজধানী দিল্লি-সহ একাধিক শহর। শুক্রবার দেশজুড়ে মিছিল-প্রতিবাদ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে তারা। কলকাতাতেও মিছিল করতে চেয়ে পুলিশকে চিঠি সংগঠনের। CJP-র পাশে দাঁড়িয়েছে মমতাপন্থী তৃণমূল শিবির। তবে বিজেপির তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না।
নিটের প্রশ্নফাঁস, শিক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ চেয়ে রাজধানীতে আন্দোলন করছে ককরোচ জনতা পার্টি। তাদের সমর্থন জানিয়েছেন সোনম ওয়াংচুক। দিনের পর দিন অনশনও করছেন তিনি। CJP-র সঙ্গে সরকারের বৈঠক হলেও সমাধান সূত্র বেরোয়নি। এরইমধ্যে দিল্লিতে আন্দোলনের সমর্থনে পথে নেমেছেন একাধিক তারকা। বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও যন্তর-মন্তরে প্রতিবাদ শুরু করেছে। আসছেন নেতারাও। এই পরিস্থিতিতে কলকাতায়ও মিছিল করতে চায় CJP।
দেদীপ্য গঙ্গোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি নিজেকে CJP-র সদস্য পরিচয় দিয়ে মিছিলের অনুমতি চেয়ে কলকাতা পুলিশকে চিঠি লিখেছেন। সেখানে উল্লেখ, 'শ্রী সোনম ওয়াংচুকের অনশনকে সমর্থন জানিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিল আয়োজনের অনুমতি চেয়ে আমাদের আগের ই-মেলের প্রসঙ্গে এই চিঠি। এখনও পর্যন্ত আপনাদের কাছ থেকে কোনও উত্তর না পাওয়ায় আমরা ধরে নিচ্ছি সংশ্লিষ্ট দফতর অন্য সরকারি কাজে ব্যস্ত রয়েছে। আমরা আপনাদের উত্তরের জন্য অপেক্ষা করেছিলাম, কিন্তু কোনও যোগাযোগ না পাওয়ায় প্রস্তাবিত মিছিলটি শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬-এ পুনর্নির্ধারণ করেছি।'
দেদীপ্য জানান, ২৪ তারিখ তাঁদের মিছিল হওয়ার কথা। তবে পুলিশকে মেল করা হলেও কোনও উত্তর মেলেনি। তাঁরা উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছেন। কলেজ স্ট্রিট থেকে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউ পর্যন্ত মিছিল হবে। প্রায় দেড় হাজার লোক জমায়েতের সম্ভাবনা রয়েছেন। দেদীপ্য বলেন, 'আমরা পুলিশকে একাধিক মেল করেছি। উত্তর পাওয়া যায়নি।'

CJP-র পাশে দাঁড়িয়ে মুখ খুলেছেন মমতা-পন্থী তৃণমূলের বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, 'কলকাতা পুলিশের মিছিলের অনুমতি দেওয়া উচিত। এর সঙ্গে ছাত্রদের স্বার্থ জড়িত। গোটা দেশে,দিল্লিতে প্রতিবাদ হচ্ছে। তাহলে কলকাতা পুলিশ কেন অনুমতি দেবে না? প্রতিবাদ করা সাধারণ মানুষের অধিকার। সেই অধিকার কেড়ে নিতে পারে না সরকার।' 3
এদিকে ওই সংগঠনের মিছিল বা প্রতিবাদী আন্দোলন নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছে শাসকদল বিজেপি। বৃহস্পতিবার এই নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। তিনি জানান, পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে। কোনওরকমের অশান্তি এই সরকার বরদাস্ত করবে না।
তাপস রায় বলেন, 'প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের পর কেন্দ্রীয় সরকার যে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে তা নজিরবিহীন। এর আগে এমনটা দেখিনি। অথচ তারপরও বিষয়টি নিয়ে রাজনীতির চেষ্টা করা হচ্ছে। অশান্তি পাকানোর চক্রান্ত হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার কিছু জায়গায় এমন পরিস্থিতি করার চেষ্টা হয়েছিল। এখানেও হচ্ছে। বিদেশ থেকে ফান্ডিং করা হচ্ছে। আমরা অশান্তি কোনওভাবেই মেনে নেব না। পুলিশ তৈরি আছে। রাজ্যের মানুষকে বলব, দু’মাস আগে আপনারা পশ্চিমবঙ্গকে সর্বনাশের হাত থেকে বাঁচিয়েছেন। এ বারও চক্রান্ত ব্যর্থ করুন। নতুন করে অশান্তি করার সুযোগ আমরা দেব না।'