যাদবপুরের বুকস্টল 'ওদের স্টলে যে বইগুলো থাকতো তার মধ্যে একটাও স্বামী বিবেকানন্দের লেখা বই পাবেন না। বিদেশি কার্ল মার্ক্স আর লেনিনের বই পাবেন। যেখানে পরিষ্কার লেখা থাকে ধর্ম মানি না, ধর্ম আফিম।' দুর্গাপুজোর সময়ে বামেদের বুকস্টল প্রসঙ্গে এমনই মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছিল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে। তৃতীয়ার দিন যাদবপুরে মার্ক্সীয় সাহিত্যের সেই স্টল উদ্বোধনের পর দেখা গেল সমস্ত বইয়ের ভিড়ে রয়েছে স্বামীজির লেখা একাধিক বই। তবে কি মুখ্যমন্ত্রীর ভর্ৎসনার পর এই বইগুলি রাখা হচ্ছে? কী বলছেন বাম নেতারা?
কলকাতা জেলা কমিটির সদস্য সুদীপ সেনগুপ্তের কথায়, 'এটা হল অল্পবিদ্যা ভয়ঙ্করী। আমরা যাঁরা রাজনীতিবিদ, তাঁরা কুপোমণ্ডুক। আমরা নিজেদের দল ছাড়া অন্য পার্টির মতাদর্শের দিকে নজর করি না। শুভেন্দু অধিকারীও একই দোষে দুষ্ট। উনি এর আগে যদি কোনও বুকস্টলে আসতেন, খেয়াল করতে পারতেন আমাদের বুকস্টলে কেবলমাত্র মার্ক্স, এঙ্গেলস, লেনিন, স্টালিনের বই থাকে না। বিভিন্ন পাবলিশার্সের বই থাকে। তার মধ্যে স্বামী বিবেকানন্দের ভাই ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত, যিনি প্রথমসারির বামনেতা ছিলেন, তাঁর লেখা অসংখ্য বই আছে। তাঁর লেখা একটি বই আছে স্বামী বিবেকানন্দের উপর।' সুদীপ জানান, এর আগেও বামেদের বুকস্টলে স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে লেখা নিমাই ভট্টাচার্যের 'বিপ্লবী স্বামী বিবেকানন্দ' বইটি প্রচুর বিক্রি হয়েছে। সর্বোপরি মনুসংহিতা কী ও কেন, সেই সংক্রান্ত বইও রয়েছে বামেদের স্টলে। সুদীপ বলেন, 'আমরা চাই মানুষ জানুক মনুসংহিতায় নারী-শূদ্র সম্পর্কে কী বলা হয়েছে। স্বামী বিবেকানন্দের শিকাগো বক্তৃতামালাও বিক্রি হয়। এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে ওরা যেভাবে হিন্দুত্বের প্রচার করছে, স্বামী বিবেকানন্দের বক্তৃতা সম্পূর্ণ তার বিরুদ্ধে যাবে, তাহলে আমরা কেন তা প্রচার করব না। আগেও আমরা প্রচার করেছি, ওরা বুঝতে পারেনি। তাই অনুরোধ করব আমাদের স্টলে একবার আসুন। এলেই ওরা বুঝতে পারবে আমরা কী ধরনের বই বিক্রি করি।'
সম্প্রতি বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, দুর্গাপুজোর বদলে শারদোৎসব লেখা হলে বামেদের পুজোর সময়ে বইয়ের স্টল করতে দেওয়া হবে না। এই নিয়ে বিস্তর বিতর্কের সৃষ্টি হয়। CPIM-এর পক্ষ থেকে প্রবল আপত্তি তুলে জানানো হয়, স্টল হবেই। শারদোৎসবই লেখা হবে এবং প্রয়োজনে স্টলের সংখ্যা বাড়বে। বনগাঁ-নৈহাটি এবং যশোর এলাকায় বামেদের বুকস্টল করতে বাধা দেওয়ার ঘটনা গড়ায় আদালত পর্যন্ত। এই মামলায় পুলিশের কাছে রিপোর্ট চেয়েছে কোর্ট।
মামলার শুনানিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। বিচারপতির মন্তব্য, 'বেলুন-বন্দুকের স্টল বসতে পারলে বইয়ের স্টল বসবে না কেন? ওখানে তো লটারির দোকান দেবেন না। এক্ষেত্রে অসুবিধার কী আছে?'
উল্লেখ্য, শুভেন্দু অধিকারী এ-ও জানিয়েছিলেন, 'শারদোৎসব' লিখলে বইয়ের স্টল করতে দেওয়া হবে না। যাদবপুরের স্টলে কি 'শারদোৎসব'-এর বদলে 'দুর্গাপুজো' লেখা হল? এ প্রসঙ্গে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'আমাদের বুকস্টলে কোনওদিনও শারদীয়া লেখা থাকে না। মার্ক্সীয় ও প্রগতিশীল পুস্তক বিক্রয় কেন্দ্র লেখা থাকে।'
তৃতীয়াতে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু উদ্বোধন করেন যাদবপুরের বুকস্টলের। আয়োজকদের দাবি, প্রথম দিনেই ৩০ হাজার টাকার উপর বই বিক্রি হয়েছে স্টল থেকে। এই স্টল বসবে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত।