'আশ্বিনের শারদপ্রাতে' থেকে 'শারদ' বাদ? 'শারদোৎসব' শব্দটি নিয়ে প্রবল আপত্তি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তাঁর সাফ বক্তব্য, 'দুর্গাপুজো' না লিখে 'শারদোৎসব' লেখা হলে, তিনি বইয়ের স্টল বসাতে দেবেন না মণ্ডপের আশপাশে। আর এই শব্দে আপত্তি নিয়ে বিধানসভাতেই তাঁকে CPIM বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রানার প্রশ্ন, 'আশ্বিনের শারদপ্রাতেও কি তবে বদলে যাবে?'
বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে মহিষাসুর মর্দিনী না শুনলে বাঙালির দেবীপক্ষের সূচনা হয় না। মহালয়ার ভোরের এই অনুষ্ঠানের প্রথম লাইনটিতেই রয়েছে শুভেন্দুর আপত্তি থাকা শব্দটি। এমনটাই বলছেন CPIM বিধায়ক। তাঁর কথায়, 'আশ্বিনের শারদপ্রাতে কি তবে বদলে ফেলা হবে?'
রাজ্যের একমাত্র বাম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রানা বলেন, 'দুর্গাপুজোকে নিচু স্তরে দেখা হচ্ছে। দুর্গাপুজো নিয়ে খবরের থেকে স্টল ভাঙতে ব্যস্ত RSS। কী বার্তা দিচ্ছেন বিধানসভায়? নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর কোনও বক্তব্য রাখছেন না। ঝোলায় গণশক্তি নিয়ে বেরোতে হবে, প্যালেস্তাইন, এসব কথা বলছেন। স্লোগান দিয়ে এসেছিলেন, হিন্দু জাগো। আর তাপর পিছনে দেশের সম্পত্তি বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। এতদিন কি পুজো, দুর্গোৎসব হয়নি পশ্চিমবঙ্গ?'
বিধানসভায় বামেদের কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, 'আপনারা বেছে বেছে গেরুয়াকে টার্গেট করেন। সনাতন ধর্মটাকে কালচারাল মনে করেন। দুর্গাপুজো বলেন না। বলেন, শারদোৎসব। পুজো কমিটিগুলিকে স্পষ্ট নির্দেশ, তথাকথিত কমিউনিস্টরা পুজোর স্টল করতে গেলে, শারদোৎসবের জায়গায় যদি দুর্গাপুজো না লেখে তবে একটা স্টলও করতে দেবেন না।'
মুস্তাফিজুর রহমান রানার বক্তব্য, 'উনি যা বলবেন, সেই ফতোয়া জারি হয়ে যাবে ভাবছেন? মনে হচ্ছে যেন উনি বিধানসভায় নয়, BJP-র সভায় বক্তব্য রাখছেন।'
এদিকে, CPIM-এর পক্ষ থেকেও স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, মার্ক্সীয় সাহিত্যের স্টল হবেই। সংখ্যায় স্টল বাড়বে বলেও জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে রবীন্দ্রনাথের লেখা 'শারদোৎসব' নাটকের অংশও সোশ্যাল মিডিয়ায় পাল্টা প্রচারের হাতিয়ার করে তুলেছে বামেরা।