দীঘা থেকে ৬৭০ কিলোমিটার দূরে 'ইয়াস'। ছবি সৌজন্য: আইএমডিঘূর্ণিঝড় ইয়াস (Cyclone Yaas) স্থল ভাগে আছড়ে পড়তে পারে বুধবার। রবিবার এমনই পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। এদিকে, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতি আটকাতে উপকূলবর্তী এলাকা থেকে মানুষ থেকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে ২২ মে তৈরি হয়েছিল একটি নিম্নচাপ। যেটি গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এখন অবস্থান ১৬ ডিগ্রি ১ মিনিট উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০ ডিগ্রি ২ মিনিট পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। বাংলার দিঘা থেকে ৬৭০ কিলোমিটার দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্বে রয়েছে।
পোর্ট ব্লেয়ার থেকে ৫৬০ কিলোমিটার উত্তর এবং উত্তর-পশ্চিম, ওডিশার বালেশ্বর থেকে ৬৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্বে রয়েছে।
সোমবার সকালের মধ্যে এই নিম্নচাপ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে পারে। আরও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অর্থাৎ মঙ্গলবার অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।ে
২৬ তারিখ অর্থাৎ সকালে বাংলা এবং ওডিশা পৌঁছে যাবে। সন্ধে বেলা আছড়ে পড়বে অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ওডিশার পারাদ্বীপ এবং পশ্চিমবঙ্গের সাগরের মধ্যে দিতে অতিক্রম করতে পারে।
২৪ তারিখ সন্ধে বঙ্গোপসাগরে ৪০-৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ২৫ তারিখে ৫০-৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় হাওয়া বইতে পারে, গতিবেগ ৭০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় পৌঁছতে পারে। ২৬ তারিখ সকালে ৬০-৭০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় গতিবেগে ঝড় বইতে পারে।
সর্বোচ্চ গতিবেগ ৮০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা হতে পারে। তারপর আরও একটু বাড়ছে উপকূলবর্তী এলাকায় ১৫৫-১৬৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় ঝড় বইতে পারে। সমুদ্র উত্তাল হতে পারে।
ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান পাটনা এবং বারাণসী থেকে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর ৩৩৪ জন জওয়ানকে কলকাতায় এবং আরাক্কোনাম থেকে পোর্ট ব্লেয়ারে পৌঁছে দিয়েছে। এ কাজে ৫টি সি-১৩০ বিমান নামানো হয়েছিল। পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে বায়ুসেনা।
তৈরি রাখা হয়েছে একটি সি-১৭, একটি ঐআইএল-৭৬, ৩টি সি-১৩০, ৪টি এএন-৩২ এবং দুটি ডরনিয়ার। এর পাশাপাশি ১১টি এমআই-১৭ভি৫, দুটি চেতক, ৩টি চিতা, দুটি এএলএইচ ধ্রুব এবং ১৭টি এণআই১৭ হেলিকপ্টার তৈরি রাখা হয়েছে।