LPG Crisis In Dacres Lane: খালি মাছ-ভাত, বন্ধ হল পোলাও-চিকেনকষা, ডেকার্স লেনে মেনুবদল

যুদ্ধের আঁচ এসে পড়েছে কলকাতার ডেকার্স লেনে। কোথায় মেন্যুতে কাটছাঁট হচ্ছে, কোনও দোকান আবার বন্ধ হওয়ার মুখে। শয়ে শয়ে অফিসকর্মীদের দুপুরের খাবারের ঠিকানা এই গলিতে LPG সঙ্কট তুঙ্গে। bangla.aajtak.in-এ সেই পরিস্থিতির কথা জানালেন চিত্তবাবুর দোকান মালিক থেকে খিচুড়ি আর বেগুন সুন্দরী খ্যাত অরুণদা।

Advertisement
খালি মাছ-ভাত, বন্ধ হল পোলাও-চিকেনকষা, ডেকার্স লেনে মেনুবদলডেকার্স লেন (ছবি: শুভদীপ মণ্ডল)
হাইলাইটস
  • যুদ্ধের আঁচ কলকাতার ডেকার্স লেনে
  • কোথাও মেন্যুতে কাটছাঁট, কোনও দোকানের ঝাঁপ পড়তে চলেছে
  • কী অবস্থায় অফিসপাড়ার ওয়ান স্টপ ডেস্টিনেশনে?

ডেকার্স লেন। মধ্য কলকাতার অফিসপাড়ার ওয়ান স্টপ ডেস্টিনেশন। ৪ হাজার কিলোমিটার দূরে যখন একের পর এক মিসাইল পড়ছে। তখন তার আঁচ এসে পড়েছে কলকাতার প্রসিদ্ধ এই 'খাদ্যগলিতে'। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জেরে রাজ্যজুড়েই চলছে LPG সঙ্কট, বাদ পড়েনি ডেকার্স লেনের দোকানগুলিও। সিলিন্ডারের সাপ্লাই স্বাভাবিক না হলে কিছুদিনের মধ্যেই ঝাঁপ পড়তে পারে জনপ্রিয় অরুণদার 'জয় মা কালী' থেকে চিত্তবাবুর দোকানে। LPG-র আকালের আবহে সেই চিত্র খতিয়ে দেখতে bangla.aajtak.in ঢুঁ মেরেছিল ডেকার্স লেনে। 

সোশ্যাল মিডিয়ায় অত্যন্ত জনপ্রিয় অরুণদার খিচুড়ি আর বেগুন সুন্দরী। LPG সঙ্কটের জেরে আগামী সপ্তাহ থেকে অমিল হতে পারে এই জনপ্রিয় পদ। খানিকটা হতাশার সুরেই সে কথা বললেন 'জয় মা কালী'-র কর্ণধার অরুণ পাল। তিনি বলেন, 'একটা গ্যাসের দাম যদি দ্বিগুণের বেশি হয়, সেটা কেনা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। কাস্টমারদের চিৎকার করে করে বলতে শুরু করেছি, সাপ্লাই না পেলে দাম বাড়িয়ে দিতে হবে খাবারের।' এক সপ্তাহে ২টো করে গ্যাস সিলিন্ডার খরচ হয় অরুণদার। এই মুহূর্তে সেটুকুই রয়েছে স্টকে। তিনি বলছেন, 'ডিস্ট্রিবিউটার বলছে সিলিন্ডার দেওয়া সম্ভব নয়। মেন্যু কমিয়ে দিতে হবে সেক্ষেত্রে। আর তা না হলে ঝাঁপে লাঠি।' হাত জোড় করে তাঁর অনুরোধ, 'উচ্চপদস্থ কর্তাদের কাছে আমার আর্জি, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই সঙ্কট দূর করুন, তাহলে পরিবারগুলো চালাতে পারব।' 

Dacres Lane
ডেকার্স লেন (ছবি: শুভদীপ মণ্ডল)

গ্যাসের আকালে ধুঁকছে জনতা হোটেলও। প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ মানুষ খেতে যান এই দোকানে। দোকানের কর্তা শঙ্কর মল্লিক বলছেন, 'গ্যাস সিলিন্ডার ফুরিয়ে গিয়েছে। সাপ্লাই দিতে পারছে না কেউ। তাই বাধ্য হয়েই উনুনে রান্না করতে হচ্ছে। কাস্টমারের সংখ্যা কমে গিয়েছে। খাবার দিতেই তো পারছি না কারণ উনুন আর গ্যাস তো এক নয়। হাফ মেন্যু বাদ হয়ে গিয়েছে। শুধু মাছ ভাত আর সবজি দিতে পারছি। ৫০% ব্যবসা কমে গিয়েছি।' গ্যাসের সাপ্লাই না এলে জনতা হোটেলের ঝাঁপ বন্ধ হবে বলেই আশঙ্কা। 

Advertisement

ডেকার্স লেন মানেই চিত্তবাবুর ফিশ ফ্রাই। কিন্তু জিভে জল এনে দেওয়া সেই আইটেম মেন্যু থেকে বাদ চলে যেতে পারে। নেপথ্যে LPG সঙ্কট। দোকান মালিক সন্দীপ রায় বলেন, 'চপ, ফিশ রোল, পোলাও চিকেন কষা বন্ধ করে দিতে হয়েছে ইতিমধ্যেই। গ্যাস সিলিন্ডার বুকিংয়ের চেষ্টা করেছি কিন্তু সাপ্লাই পাচ্ছি না।' তবে জনপ্রিয় চিকেন স্টু আর পাউরুটি হচ্ছে উনুনেই। সন্দীপের কথায়, 'এই আইটেমটা শুধু রাখলে তো হবে না। এমন অনেক জিনিস আছে যা গ্যাস ছাড়া সম্ভব নয়। তাই সাপ্লাই না পেলে ভাবনাচিন্তা করতে তো হবেই।' 

Dacres Lane
চিত্তবাবুর দোকান (ছবি: শুভদীপ মণ্ডল)

হরমুজ প্রণালী থেকে ভারতীয় জাহাজগুলিকে চলাচল করার অনুমতি দিয়েছে ইরান। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী লোকসভায় দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেছেন, ' গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের কোনও ঘাটতি নেই এবং CNG সরবরাহ ১০০% স্থিতিশীল। বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও, ভারতে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।' মন্ত্রী গুজবে কান না দেওয়ার কথা বললেও বাস্তব চিত্র অনেকটাই অন্যরকম। তবে কি নেপথ্যে রয়েছে কালোবাজারি? উঠছে প্রশ্ন। 

POST A COMMENT
Advertisement