আরজি কর কাণ্ডের আবহে এবার পুজো হচ্ছে। কিছুদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী উৎসবে ফেরার বার্তা দিয়েছিলেন। তাঁর সেই মন্তব্যে ওঠে সমালোচনার ঝড়। এদিকে, মুখ্যমন্ত্রীরই অস্বস্তি বাড়ালেন তাঁর দলের বিধায়ক। প্রাক্তন আইপিএস অফিসার ও ডেবরার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর উৎসব থেকে দূরে থাকার কথা জানালেন। সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে লিখেছেন, 'তৃতীয় বর্ষের পুজোতে নেই তিলোত্তমা। দুই মায়ের চোখে জল, ভারাক্রান্ত মন। আনন্দ আর নতুন জামাকাপড় বাদ।'
শুধু এখানেই থেমে থাকেননি হুমায়ুন। এবিপি আনন্দকে তিনি বলেন, 'পুজোয় নতুন জামা কাপড় কিনিনি নিজের জন্য। মেয়েটির কথা শুনে আমার মনটা খারাপ হয়ে গিয়েছে। এবার ঠাকুর দেখতেও বেরোবে না। আমার ছেলে ডাক্তারি পাস করেছে। ওকে দেখলেই মেয়েটার কথা মনে পড়ে। সব সময় মনে পড়ছে। কোথায় এটা চিনচিন করে কষ্ট হয়। পুজোর সময় পাজামা পাঞ্জাবি কিনি। ধুতি পরি। এবার কিছুই কিনব না। জনপ্রতিনিধি হিসেবে কার্ড পাঠাতে হয়। শুভেচ্ছা পাঠাতে হয়। ওগুলো হয়ত করব। ছেলেকে দেখলেই ওই মেয়েটার কথা মনে পড়ে।'
উৎসব বিমুখ হলেও আন্দোলনরত জুনিয়র ডাক্তারদের কাজে ফেরার আবেদন করেছেন হুমায়ুন। এবিপি আনন্দকে তিনি বলেন,' আমাদের যা বিচার ব্যবস্থা, তাতে সময় লাগবে। রাতারাতি বিচার হয় না, ডাক্তারবাবুরা যেটা চাইছেন। আইনটা আমি বুঝি। আমার মনে হয়, জুনিয়র ডাক্তাররা কাজে ফিরুন। উৎসবের নাও ফিরতে পারেন, কিন্তু কাজে ফিরুন।'
এদিকে,আরজি কর কাণ্ডে বিচারের দাবিতে আন্দোলনরত জুনিয়র ডাক্তাররা কাজে ফিরতে পারেন। বৃহস্পতিবার আরজি কর হাসপাতালের সিনিয়র ডাক্তারদের পরামর্শ নিয়েছেন জুনিয়র ডাক্তারেরা। সিনিয়র ডাক্তাররা পূর্ণ কর্মবিরতির পথ থেকে সরে এসে আন্দোলনের অন্য কোনও পন্থা বের করার প্রস্তাব দিয়েছেন। সিনিয়র ডাক্তারদের সঙ্গে বৈঠকের পর নিজেদের মধ্যে জিবি বৈঠকে বসেছিলেন আরজি করের জুনিয়র ডাক্তাররা। শুক্রবার এনিয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে পারেন জুনিয়র ডাক্তাররা।